গনোরিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার ২০২২

গনোরিয়া রোগের লক্ষণ

নানা ধরনের যৌনবাহিত রোগের মধ্যে গনোরিয়া একটি। প্রতিবছর পৃথিবীতে বহু মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। মহিলা বা পুরুষ উভয় লিঙ্গের মানুষই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। সংক্রমনের কিছু দিনের মধ্যেই গনোরিয়া রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। আবার কিছু কিছু সময় কোন লক্ষণ দেখা যায় না। এছাড়াও মাঝে মাঝে গনোরিয়া অনেক ধরনের জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে বা হয়ে উঠতে পারে প্রানঘাতী। তাই এই রোগ থেকে মুক্ত  থাকতে হলে, আপনাকে ভালোভাবে জানতে হবে গনোরিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে এবং এসব বিশদভাবে জানতে এই প্রতিবেদনটি আপনাকে সহায়তা করবে আশা করি।

গনোরিয়া রোগ কি?

গনোনিয়া রোগটির ওপর একটি নাম হল‘দ্য ক্ল্যাপ’। এটি মূলত এক ধরনের Sexually transmitted infections বা যৌন সংক্রমিত সংক্রমণ (এসটিআই) যা এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমনে হয়ে থাকে। বিশেষ ধরনের এই ব্যাকটেরিয়ার নাম Neisseria gonorrhoeae, এরা মানব শরীরের আর্দ্র ও উষ্ণ অংশগুলোকে সংক্রমনের জন্য বেশি বেছে নেয় যেমন মূত্রনালী, চোখ, গলা, যোনি, মলদ্বার ইত্যাদি। ১৮৭৯ সালে অ্যালবার্ট নাইসার নামক এক চিকিৎসা বিজ্ঞানী এ রোগের জীবানুটি আবিস্কার করেন। গনোরিয়া একটি জটিল যৌনবাহিত রোগ যার চিকিৎসা সঠিক সময় না করালে রোগীর শরীরের বিভিন্ন অংশ ছড়াতে পারে যা পরবর্তীতে জটিল অবস্থার সৃষ্টি করে।

গনোরিয়ার বিস্তার

গনোরিয়া রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার ক্রমশই বাড়ছে। পৃথিবীতে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। মহিলাদের তুলনায় পুরুষরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত ও প্রভাবিত হয়ে থাকেন, বিশেষ করে অল্প বয়স্ক পুরুষেরা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এর তথ্য মতে পুরুষদের মধ্যে গনোরিয়ার হার দ্বিগুণ হয়েছে ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালে। তবে অল্প বয়স্ক নারীদের মধ্যেও এ রোগের প্রবণতাও যথেষ্ট বেশি।

অসচেতনতা, অশিক্ষা ও কুসংস্কারসহ আরও অনেক কারণে পৃথিবীতে এই ধরনের অনেক যৌন রোগ বিস্তার লাভ করে। অনেক দেশে যৌন সমস্যা নিয়ে আলোচনা অথবা সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিতে রোগী সংকোচ বোধ করেন এবং তিনি রোগ বয়ে বেড়ান‌। যার ফলে এসব রোগ সহজে বিস্তার লাভ করে।

গনোরিয়া রোগের কারণ

আগেই বলেছি নাইসেরিয়া গনোরিয়া নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া গনোরিয়া রোগের জন্য দায়ী। যৌন মিলনের মাধ্যমে এই রোগ একজন থেকে আরেকজনের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। যোনিপথ অথবা মুখগহ্বর কিংবা পায়ুপথ, যেকোনো পথেই নাইসেরিয়া ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে। অনিরাপদ যৌন মিলন, ওরাল সেক্স অথবা সিরিঞ্জ ব্যবহারের মাধ্যমেও এই রোগ ছড়াতে পারে। গনোরিয়া আক্রান্ত পুরুষের সাথে যৌন মিলনের ফলে একজন সুস্থ মহিলার এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিন্তু গনোরিয়া আক্রান্ত নারীর সাথে সুস্থ পুরুষের যৌন মিলনে ওই পুরুষের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে সমকামীতা থেকে পুরুষের মধ্যে বিস্তারের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

গনোরিয়া রোগের লক্ষণ

গনোরিয়া রোগের লক্ষণ রোগ হওয়ার সাথে সাথেই প্রকাশ না পেয়ে একটু দেরিতে পায়। এই রোগের সুপ্তিকাল ২ থেকে ১৪ দিন। তবে লক্ষণসমূহ ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যেই প্রকাশ পেতে শুরু করে। এই রোগের লক্ষণ পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়ে থাকে। গনোরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর বাহ্যিকভাবে তেমন কোন লক্ষণ প্রকাশ না পাওয়ায় আমরা রোগটি ভিতরে চেপে রাখি। আর যার ফলে রোগটির বিস্তারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

পুরুষ রোগীদের ক্ষেত্রে গনোরিয়া রোগের লক্ষনসমুহ-

  • পুরুষেরা গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে ডিসচার্জের সম্নখীন হয়ে থাকেন। এটি এই রোগের সবচেয়ে কমন একটি লক্ষন। ডিসচার্জ পুরুষভেদে আলাদা হয়ে থাকে। কারো পাতলা হয় তো কারো হয় ঘন। ডিসচার্সের বর্ন বা পরিমানও আলাদা হয় ব্যাক্তিভেদে। তবে ডিসচার্জ যেমনই হোক না কেন, হোক কম বা বেশি, নিয়মিত বা অনিয়মিত, কোন ডিসচার্জই ভালো বা স্বাভাবিক নয়। এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ থাকল।
  • ইনফেকশন হলে পুরুষের মূত্রনালীতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে প্রস্রাব বের হতে পারে না। যার ফলে কিডনিতে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • প্রস্রাবের সময় প্রচন্ড জ্বালাপোড়া ও কষ্ট হয়। কখনো কখনো জটিল অবস্থায় প্রস্রাব বন্ধ হয়েও যেতে পারে।
  • গনোরিয়া ওরাল সেক্স থেকেও হতে পারে। গলায় যখন গনোরিয়া হয় তখন অনেক লোকের ক্ষেত্রে কোন উপসর্গ দেখা যায় না। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে গলা ব্যথা হয় ও লসিকাগ্রন্থি ফুলে যায়।
  • মাঝে মাঝে নাইসেরিয়া গনোরিয়া মলদ্বারকেও আক্রমণ করতে পারে। তখন সেখানে চুলকানি ও রক্তপাতের ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়াও ডায়রিয়া ও মলত্যাগের সময় ব্যাথা অনুভূত হতে পারে।
  • গনোরিয়া ইনফেকশন হলে সেটা পার্শ্ববর্তী স্থানেও যেমন অন্ডকোষ, অন্ডথলিতে ছড়িয়ে যেতে পারে। ছড়িয়ে পড়লে এপিডিডাইমিসে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে এবং সঙ্গে সঙ্গে কুঁচকিতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
  • রোগীর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশিবার মূত্রত্যাগের ইচ্ছা হতে পারে।
  • এ রোগ হলে পুরুষাঙ্গ বা গায়ে ঘা অথবা ক্ষত পরিলক্ষিত হয় না। কিন্তু পুরুষাঙ্গ ফুলে উঠতে পারে ও লালচে হয়ে যেতে পারে।
  • সমকামীরা পায়ুপথে মিলন করলে সেখানে সংক্রমণের দেখা দিতে পারে। ফলস্বরূপ, পায়ুপথে প্রচন্ড ব্যথা ও সেই জায়গা থেকে পুঁজ নিঃসৃত হতে থাকে।
  • দীর্ঘদিন সংক্রমণ থাকলে পরবর্তীতে হাঁটু অথবা অন্যান্য সন্ধিস্থলে ব্যথা হতে পারে ও ফুলে ওঠে।
  • পরবর্তীতে পুরুষত্বহীনও হয়ে যেতে পারে।
গনোরিয়া রোগের লক্ষণ
গনোরিয়া রোগের লক্ষণ

মেয়েদের ক্ষেত্রে যেসব লক্ষণ দেখা যায়-

  • মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে যোনি থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে পারে।
  • অনেক সময় যোনি থেকে সবুজ বা হলুদ পুজের মত তরল বের হয়।
  • যোনির ওষ্ঠে লাল লাল ঘা দেখা যায় এবং যৌনাঙ্গ ফুলে যাওয়ার মত সমস্যা দেখা দেয়।
  • অনিয়মিত রজঃচক্র হয়ে থাকে।
  • ঋতুস্রাব সংক্রান্ত আরো অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • ঘন ঘন প্রস্রাবে যেতে হয়।
  • মূত্র ত্যাগের সময় প্রচন্ড ব্যথা ও জ্বালা অনুভূত হয়।
  • গলায় ব্যথা হতে পারে।
  • জ্বর হয় এবং গায়ে ফুসকুঁড়িও উঠতে পারে।
  • তলপেটেও তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।
  • মলদ্বারে চুলকানি।
  • মলত্যাগেও ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
  • যৌন মিলনের সময় ব্যথা বা কষ্টদায়ক যৌন মিলন হয়।
  • ডিম্বনালীসহ গোপনাঙ্গের বিভিন্ন অংশে প্রদাহ হতে পারে।
  • পরবর্তীতে বন্ধা হয়ে যেতে পারে।
  • অনেক সময় মহিলাদের ক্ষেত্রে কোন লক্ষণ নাও প্রকাশ পেতে পারে।

কি কি জটিলতা দেখা দিতে পারে-

গনোরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করলে এটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী অনেক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি কখনো কখনো রোগীর জন্য প্রাণঘাতীও হতে পারে।

গর্ভাবস্থায় কোন মহিলা আক্রান্ত হলে এবং প্রসবের আগে তার চিকিৎসা না করালে, তার সন্তানও আক্রান্ত হতে পারে।

অনেক সময় মহিলাদের ক্ষেত্রে নাইসেরিয়া ব্যাকটেরিয়া জনন অঙ্গের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি করে থাকে। জরায়ু, ফ্যালপিয়ান টিউব বা ওভারিকে আক্রান্ত করতে পারে। অনেক সময় ফ্যালপিয়ান টিউবে ব্লকের সৃষ্টি করে। এতে ভবিষ্যতে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দেয়।

পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। কখনো কখনো অন্ডকোষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যৌনরসে শুক্রাণু না থাকাতে বন্ধ্যাত্বের সৃষ্টি করতে পারে।

নাইসেরিয়া ব্যাকটেরিয়া রক্তেও প্রবেশ করতে পারে। তখন শরীরের বিভিন্ন অংশে প্রদাহ ও বাতের ব্যথার মতো সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে।

রোগ নির্ণয় ও পরীক্ষা

প্রাথমিকভাবে রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক রোগীর সম্পূর্ণ ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নিবেন। এর পর রোগীর দেহে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ আছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখবেন। গনোরিয়া রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকগণ নিম্নলিখিত পরীক্ষাগুলো করে থাকেন-

  • সোয়াব স্টিক ব্যবহার করে সংক্রমিত জায়গা থেকে সোয়াব সংগ্রহ করে তার পরীক্ষা করে থাকেন।
  • টেস্টের ক্ষেত্রে মূত্রের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
  • এছাড়াও গনোরিয়া টেস্ট কালচার, নিউক্লিয়েক এসিড অ্যামপ্লিফিকেশন টেস্ট (এনএএটি) ও করা হয়ে থাকে।

সংক্রমণ যদি সল্পস্থায়ী হয়ে থাকে তাহলে পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রাস্তা থেকে যে পদার্থ নিঃসৃত হয় এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ু ও মুত্রনালী থেকে নিঃসৃত পদার্থ নিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। কিন্তু সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদী হলে তখন প্রস্টেটগ্রন্থি ম্যাসাজ করে সেখান থেকে নিঃসৃত পদার্থ নিয়ে পরীক্ষা করতে হবে।

গনোরিয়া রোগের প্রতিকার

গনোরিয়া রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য, উপরে উল্লেখিত লক্ষণ গুলো দেখা দিলেই অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। ডাক্তারের নিকট কোন কিছু গোপন না রেখে বিস্তারিতভাবে সবকিছু বলতে হবে। আপনার সব লক্ষণ, আপনার যৌন জীবনের ইতিহাস, অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা যদি থেকে থাকে সবকিছুই ডাক্তারকে বলতে হবে। মনে রাখতে হবে এই রোগ থেকে মুক্তির উপায় হল সঠিক চিকিৎসা এবং আপনার কোন তথ্যের গোপনীয়তা, সঠিক চিকিৎসা থেকে আপনাকে বিরত রাখবে।

পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে আপনার মধ্যে নাইসেরিয়া ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থাকলে ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। গনোরিয়া রোগের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের অত্যন্ত জোরালো কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে ইতিমধ্যেই। বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক যেমন সেফট্রায়াক্সন, এজিথ্রোমাইসিন, ডক্সিসাইক্লিন এসব ডাক্তাররা সাজেস্ট করে থাকেন। এর মধ্যে কিছু খাওয়ার সাথে সাথে, ইনজেকশনের মাধ্যমে মাংসপেশির ভিতরে দেওয়ার কথাও বলতে পারেন। ।

কিন্তু অনেক অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক সঠিকভাবে কাজ করে না। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করার প্রয়োজন পড়ে। সতর্কতার বিষয় হলো রোগটি যদি অগ্রসর পর্যায়ে শনাক্ত হয় তখন এর চিকিৎসা জটিল হয়ে পড়ে এবং রোগী মারাও যেতে পারে।

তবে সময়মত ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই আপনার শরীরে লক্ষণ প্রকাশ পেলে দ্রুত আপনার সঙ্গীকে বলতে হবে এবং দুইজনকেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আর মহিলাদের গর্ভাবস্থায় এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসা নিতে হবে। তা না হলে প্রসবকৃত শিশুর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময়ে শিশুর চোখে সংক্রমিত হয় এবং শিশুর অন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।

এছাড়াও গনোরিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সাথে সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়ার আগ পর্যন্ত যৌন সংস্পর্শে যাওয়া উচিত নয়। যদি কেউ সংক্রমিত ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন করে তাহলে তাকেও বাধ্যতামূলক পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।

গনোরিয়া আক্রান্ত রোগীর ফলো-আপ টেস্ট বা পরবর্তীকালীন পরীক্ষা গুলোও করা দরকার। এবং ডাক্তার অ্যান্টিবায়োটিক নিতে বললে অবশ্যই তার কোর্স সম্পূর্ণ শেষ করতে হবে।

কিছু সতর্কতা ও করণীয়

  • বহুগামীতা পরিহার করুন। এটি আপনাকে গনোরিয়া রোগে কিন্তু আক্রান্ত হাওয়া থেকে অনেকাংশে বিরত রাখবে।
  • ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবন যাপন করুন। যা আপনাকে গনোরিয়াসহ অনেক ধরনের যৌন রোগ থেকে মুক্ত রাখবে।
  • যৌন মিলনের সময় অবশ্যই কনডম ব্যবহার করুন। এবং কনডম সঠিক নিয়মে ব্যবহার করতে হবে।
  • আপনি কোন গোপন সমস্যার সম্মুখীন হলে সেটি লুকিয়ে না রেখে সঙ্গীকে জানান। আপনার এসব সমস্যা লুকিয়ে রাখার ফল হতে পারে ভয়াবহ।
  • কোনরূপ সন্দেহ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • যৌন মিলনের সময় স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বস্ততা থাকা জরুরী।
  • মহিলারা পিরিয়ডের সময় অবশ্যই পরিষ্কার কাপড় বা প্যাড ব্যবহার করুন।

আমাদের দেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যৌন সমস্যা নিয়ে লজ্জা পাওয়া, চিকিৎসকের কাছে না যাওয়া, লুকিয়ে রেখে রোগে ভোগার প্রবণতা অনেক বেশি। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক কুসংস্কার, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব এই প্রবণতার জন্য দায়ী। এর ফলে গনোরিয়ার মত এসব রোগ সহজে নির্মূল না হয়ে রোগীর মাধ্যমে অন্যের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ সময়মত ও সঠিক চিকিৎসায় গনোরিয়া রোগ থেকে সহজেই আরোগ্য লাভ করা যায়।

তাই আপনি বাহক না হয়ে, দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা নিন। গনোরিয়া রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখুন। আপনার সচেতনতাই পারে আপনাকে, আপনার পরিবারসহ আশেপাশের মানুষদের সুস্থ রাখতে‌।

আজ এই পর্যন্তই। কোন রোগ নিয়ে লজ্জা বা অবহেলা না করে, সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন, এবং সঠিক সময় সঠিক পদক্ষেপ নিন।

Author

You cannot copy content of this page