দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা, দাদ চুলকানি দূর করার উপায়

দাদ চুলকানি দূর করার উপায়

সুস্থ ও সুন্দর ত্বক প্রত্যেকের কাম্য। আমরা সবাই চাই যেন বছরের বারো মাসই আমাদের ত্বকের অবস্থা স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু অনেক সময় বিভিন্ন কারণবশত ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়, যেগুলো আমাদের ভাবিয়ে তোলে। দাদ ঠিক তেমনই একটি ত্বকের সমস্যা। ঘাম, আবহাওয়া, ত্বকের প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে ত্বকে দাদজনিত সমস্যা দেখা দেয়। আমাদের চারপাশে বহু মানুষ রয়েছেন যারা এ সমস্যাটিতে ভুগছেন। অনেকে বারবার ডাক্তার দেখিয়েও এ সমস্যার সুরাহা করতে পারছেননা। তাই সবার কথা মাথায় রেখে আজকের লেখায় আমি ৯টি দারুণ কার্যকরী দাদ চুলকানি দূর করার উপায় বা দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো, যে উপায়গুলো জানার মাধ্যমে আপনারা বাড়িতে বসেই খুব সহজে নিজেদের ত্বকের এ গুরুতর সমস্যাটির সমাধান করতে পারবেন। তাহলে চলুন দেখে নেই দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা কি কি।

দাদ চুলকানি কি

দেহের যেকোন ছোট-বড় সমস্যা সমাধানের জন্য সেই সমস্যাটি কি এবং তার পেছনের কারণ সম্পর্কে জেনে রাখা উচিৎ। তাই চলুন দাদ চুলকানি দূর করার উপায় বা দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা জানার আগে শুরুতেই দাদ চুলকানি কি এবং এটি কেন হয় সেটির ব্যাপারে একটু ধারণা নেয়া যাক।

দাদ চুলকানি হলো একটি চর্মরোগ যেটি যেকোন সময় আমাদের শরীরের যেকোন অংশে দেখা দিতে পারে। অনেকসময় আমাদের দেহের বিভিন্ন অংশে গোলাকার কিছু ফুসকুড়ির মতো উঠতে দেখা যায়। এ ফুসকুড়িগুলো দেখতে লালচে প্রকৃতির হয় এবং এগুলো যে স্থানে দেখা দেয় সেখানে চুলকানিও হয়। এই ফুসকুড়িগুলোই হচ্ছে দাদ চুলকানি বা দাদ যা প্রকৃতপক্ষে একটি ফাঙ্গাসজনিত ত্বকের রোগ। ইংরেজি ভাষায় দাদকে রিংওর্ম নামে ডাকা হয়। আবার, চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী এটিকে বলা হয় ডার্মাটোফাইসিস।

দাদের সবচেয়ে ভয়ংকর দিকগুলোর একটি হলো, এটি ছোঁয়াচে এবং এটি শরীরের যেকোন স্থানে দেখা দেয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি রোগ। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি মানুষের মাথার ত্বকে, নখে, দাড়িতে, চুলে ,পিঠে, পেটের উপরিভাগে এবং পায়ের পাতায় তুলনামূলক বেশি আক্রমণ করে। দাদ যদি একবার দেখা দেয় তাহলে সেটির প্রকোপ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। পাশাপাশি এটি ছোঁয়াচে বলে পরিবারের যেকোন একজন যদি এই সমস্যায় আক্রান্ত হন, তাহলে বাকিরাও রেহাই পাননা।

দাদ বা চুলকানির নমুনা
ছবিঃ দাদ (Photo Source: gettyimages.com)

দাদ চুলকানি হয়েছে কিনা বুঝবেন কিভাবে?

যখন কারো শরীরের কোন স্থান দাদ চুলকানি দ্বারা আক্রান্ত হলে শুরুর দিকে সে স্থানে ছোট ছোট লাল বর্ণের ফুসকুড়ি বা গোটা দেখা দেয়৷ তারপর সে গোটার মধ্যে চুলকানি হতে থাকে। এ চুলকানি প্রথম দিকে খুব সামান্য মনে হলেও ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে৷ তারপর দেহে দাদ দ্বারা আক্রান্ত স্থানটি গোলাকার ভাবে বড় হতে থাকে এবং সেখানে বাদামী বর্ণের আইশ দৃশ্যমান হয়৷ তখন গোলাকার স্থানটির কিনারা স্বাভাবিকের চাইতে একটু উঁচু দেখায় এবং স্থানটি সামনে থেকে চাকার মতো দেখাতে শুরু করে।

এরপর শুরু হয় আসল ভোগান্তি। যত সময় যায় আক্রান্ত স্থানের চাকার পরিধি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। তখন সে স্থান থেকে চুলের খুশকির মতো দেখতে চামড়া ওঠা শুরু হয়, পাশাপাশি পুঁজযুক্ত দানাও দেখা যায়। এসময় চুলকানির তীব্রতা অত্যন্ত বেশি হয়৷

আমাদের শরীরে দাদ চুলকানির প্রভাব অত্যন্ত ক্ষতিকর। যদি কারো মাথায় দাদের সংক্রমণ হয়, তখন তার মাথার চুল পড়ে যেতে থাকে৷ যদি কোমরের ত্বক দাদ দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন সে স্থানের চামড়া সাদা হয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় পুরু হয়ে পড়ে। আবার নখে দাদ চুলকানি হলে নখ ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

দাদ চুলকানি কেন হয়?

এবার আসা যাক দাদ চুলকানির পেছনের কারণগুলো নিয়ে। দাদ মূলত একটি ফাঙ্গাস বা ছত্রাকজনিত রোগ। যেসব স্থান আলো-বাতাসের অভাবে ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় থাকে, সেসব স্থানে এই বিশেষ ধরণের ফাঙ্গাসের জন্ম হয়। এর পাশাপশি যাদের অতিরিক্ত ঘামের সমস্যা রয়েছে, তাদেরও দাদ দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাছাড়াও কেউ যদি সঠিকভাবে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখেন তাহলেও দাদ চুলকানি হয়। কেউ যদি নিয়মিতভাবে অপরিষ্কার কাপড়-চোপড় পরিধান করেন,অধিক আটসাট অন্তর্বাস ব্যবহার করেন তাহলেও দাদের সংক্রমণ হতে পারে। শুধু তাই নয়, দাদের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তির ব্যবহৃত যেকোন সরঞ্জাম যেমনঃ কাপড়চোপড় কিংবা তোয়ালে ইত্যাদি কেউ ব্যবহার করলে তিনিও দাদ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আশা করি সবাই বুঝতে পারছেন এই রোগটি কতটুকু ভয়াবহ এবং এই দাদ চুলকানি দূর করার উপায় সম্পর্কে জানা কতটুকু বেশি প্রয়োজনীয়।

দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

যারা দাদ চুলকানিতে ভুগে থাকেন, তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ছন্দ বাধাগ্রস্ত হয়৷ তারা চুলকানির জন্য শান্তিমতো প্রাত্যহিক কাজগুলো করতে পারেননা। দাদ দূর করার এমন কিছু পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো সবার জন্য খুবই উপকারে আসে। তাই দেরি না করে এখন আমি সবাইকে জানাবো সেই ৯ টি কার্যকরী দাদ চুলকানি দূর করার উপায় সম্পর্কে।

০১। নারকেল তেল

যুগে যুগে বাঙালি নারীদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর শুরুর দিকের তালিকাতে রয়েছে নারকেল তেলের নাম৷ বিশেষ করে চুলের যত্নের সাথে এই তেলের নাম জড়িয়ে রয়েছে অনবদ্যভাবে। চুলকে সুন্দর রাখতে, চুল পড়া হ্রাস করতে এবং চুলের ঘনত্ব বাড়িয়ে তুলতে এই তেলের জুড়ি মেলা ভার৷ শুধু তাই নয়,শীতকালে ত্বকের ময়েশ্চার ধরে রাখতেও অনেকে লোশনের পরিবর্তে ব্যবহার করেন নারকেল তেল। আবার ত্বকে ব্যবহার করা প্রসাধণ সামগ্রী তুলে ফেলতেও এটি বেশ কাজে আসে।

coconut oil
ছবিঃ নারকেল তেল, (Photo Source: gettyimages.com)

এত এত উপকারে আসা নারকেল তেল কিন্তু দাদ চুলকানি দূর করার উপায় হিসেবেও অত্যন্ত কার্যকর। নারকেল তেলের গঠন উপাদানগুলো দাদ সারানোর জন্য ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে। যারা দাদের সংক্রমণে ভুগছেন, তারা প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে প্রথমে ভালোমতো সংক্রমিত স্থানটি ধুয়ে নিন। এরপর সেই স্থানে হালকা করে নারকেল তেল লাগিয়ে নিন। পরদিন সকালে ওঠার পর স্থানটি পুনরায় পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিতভাবে এটি ব্যবহার করতে থাকুন। দেখবেন খুব শীঘ্রই উপকার পাবেন।

০২। পেঁপে

পেঁপে খাদ্য হিসেবে সবার কাছে বহুল পরিচিত হলেও এটি যে শরীরে দাদের প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সেটি অনেকেই জানেননা। পেঁপেতে বিদ্যমান রয়েছে অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান যেটি দাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। পাশাপাশি পেঁপের প্রভাবে শরীরের মৃত চামড়া সারিয়ে তোলা যায়। এসব কারণে পেঁপে দাদ চুলকানি দূর করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। একটি কাঁচা পেপে নিয়ে সেটি বেটে পেস্টের মতো তৈরি করে সেটি আক্রান্ত অংশে কিছুক্ষণ লাগিয়ে রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি নিয়মিত ব্যবহার করলে দ্রুতই আশানুরূপ ফলাফল পাবেন।

০৩। রসুন

প্রত্যেকের বাড়িতে রান্নার সময় যে মশলাগুলো সবসময় ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর মধ্যে রসুন অন্যতম৷ রসুনের সঠিক পরিমাণ যেকোনো খাবার রান্নার সময় সেটির স্বাদ বাড়িয়ে দিতে পারে বহুগুণ৷ শুধুমাত্র রান্নার স্বাদ বাড়াতেই নয়, বরং রসুনের রয়েছে আরো গুণাগুণ। যেমনঃ সঠিক উপায়ে রসুন ব্যবহার করা হলে সেটি দাদ চুলকানি থেকে রক্ষার প্রতিষেধক হিসেবে খুব ভালো কাজে আসে।

রসুন হলো প্রকৃতি প্রদত্ত একটি অ্যান্টিফাঙ্গাল বা ফাঙ্গাস প্রতিরোধকারী উপাদান। একারণে রসুন ব্যবহার করলে তা দ্রুত দাদ সারাতে কাজে আসে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে দুইভাবে রসুন ব্যবহার করতে পারেন৷ যথাঃ রসুন পাতলা করে কেটে সেটি দাদ দ্বারা সংক্রমিত স্থানে লাগাতে পারেন। আবার চাইলে রসুন পাটায় বেটেও ব্যবহার করতে পারেন। তবে দুইক্ষেত্রেই ব্যবহারের পরবর্তীতে স্থানটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। রসুন দাদ সারাতে খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই এটি কোন দ্বিধা ছাড়াই ব্যবহার করতে পারেন।

০৪। ঘৃতকুমারীর রস

ঘৃতকুমারীকে ইংরেজি ভাষায় অ্যালোভেরা (Aloe vera) নামে ডাকা হয়। এটি ত্বক ও চুলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে বহুমুখী ভূমিকা পালন করে। ঘৃতকুমারী প্রাকৃতিকভাবে কিংবা কৌটার জেল আকারে যেভাবেই ব্যবহার করা হোক না কেন, সেটি খুব ভালো কাজে দেয়। যেমনঃ মুখে ছোট ছোট ব্রণ দেখা দিলে, চেহারা থেকে রোদে পোড়া ভাব দূর করতে কিংবা মাথার চুলকে ঝলমলে করে তুলতে ঘৃতকুমারীর রসের ভূমিকা অনেক বেশি। পাশাপাশি যাদের ত্বকে শুষ্কতা বেশি, তারা যদি কৌটাজাত ঘৃতকুমারীর জেল ব্যবহার করেন, তাহলে ত্বক হয় মসৃণ। রিলেটেডঃ এলোভেরার উপকারিতা ও অপকারিতা, এলোভেরা দিয়ে রূপচর্চা

Aloe vera
ছবিঃ ঘৃতকুমারী গাছ (Photo Source: gettyimages.com)

ঘৃতকুমারীর এতগুলো উপকারিতা থাকার পাশাপাশি এটিকে দাদ চুলকানি দূর করার উপায় হিসেবেও কার্যকর বলে ধরা হয়। দাদ চুলকানি দূর করতে এটির ব্যবহার কিন্তু খুবই সহজ।

শরীরের যেখানে দাদ রয়েছে সেখানে সপ্তাহে কয়েকদিন নিয়ম করে ঘৃতকুমারীর রস ব্যবহার করুন। দেখবেন, কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানেই দাদ চুলকানি সেরে উঠতে শুরু করেছে।

এক্ষেত্রে ভালো ফলাফল পেতে প্রাকৃতিক ঘৃতকুমারী ব্যবহার করা সর্বোত্তম।

০৫। হলুদ

হলুদ এমন একটি উপাদান যেটির গুণাগুণ বলে শেষ করা যাবেনা। প্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের যত্নে, রান্নায় কিংবা বিভিন্ন রোগের ঘরোয়া চিকিৎসায় হলুদ মানুষের নিত্যদিনের সংগী। এগুলোর পাশাপাশি দাদের মতো গুরুতর ত্বকের সমস্যা সারিয়ে তুলতেও হলুদ খুব ভালো কাজ করে। দাদের ঘরোয়া চিকিৎসায় হলুদ ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই হলুদ বেটে সেটি ব্যবহার করতে হবে৷ বিশেষ করে, যদি টাটকা হলুদ বাটা আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটি সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করবে।

কাঁচা হলুদ
কাঁচা হলুদ

০৬৷ নিম

নিমকে বলা হয়ে থাকে প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক। এটি বিভিন্ন রোগজীবাণু এবং ত্বকের সমস্যার প্রকোপ থেকে আমাদের রক্ষা করে। বিশেষ করে বিভিন্ন চর্মরোগ, ব্রণ এবং দাদ থেকে বাঁচতে নিমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এটির সাহায্যে খুব অল্প সময়েই ত্বকে দাদের সংক্রমণ কমিয়ে ফেলা যায়। এজন্যে প্রয়োজন হবে নিমের তেলের। দাদ দ্বারা আক্রান্ত স্থানে খুব অল্প পরিমাণে নিমের তেল লাগানো শুরু করলে ধীরে ধীরে দেখতে পাবেন ত্বকের অবস্থায় পূর্বের তুলনায় উন্নতি লক্ষ্য করবেন। চাইলে নিমের তেলের সাথে কিছুটা টাটকা ঘৃতকুমারীর রসও যোগ করে নিতে পারেন, এতে ফলাফল পাওয়ার প্রক্রিয়া আরো ত্বরান্বিত হবে৷

০৭। পুদিনা পাতা

পুদিনা পাতা চেনেনা এমন ব্যক্তি আমাদের দেশে খুঁজে পাওয়া যাবেনা। বোরহানি, কাবাব,রায়তা কিংবা অন্যান্য খাবারে এর ব্যবহার হরহামেশাই নজরে পড়ে। শুধু খাবারের স্বাদ বাড়াতেই নয়, পুদিনা পাতা একটি অত্যন্ত কার্যকরী দাদ চুলকানি দূর করার উপায়ও বটে। এর সাহায্যে দাদজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে পরিমাণমতো পুদিনা পাতা পাটায় বেটে কিংবা পিষে নিয়ে তাতে অল্প একটু লেবুর রস যোগ করে একটি পেস্ট তৈরি করুন৷ এ পেস্টটি খুব সতর্কতার সাথে যেখানে দাদ রয়েছে সেখানে ব্যবহার করুন।

০৮। কর্পূর

দাদ দূর করতে কর্পূরের কার্যকারিতা সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন। দাদ দ্বারা সংক্রমিত অংশে কর্পূর ব্যবহার করলে দাদের সমস্যা কমে যায়।পাশাপাশি এটি দাদের কারণে শরীরে যে দাগগুলো দেখা যায়, সেগুলোও কমিয়ে ফেলে৷ তাই বলা যেতে পারে, কর্পূর দাদ থেকে বাঁচতে বেশ কার্যকর একটি ঘরোয়া উপাদান।

০৯। লবণ পানি ও ভিনেগার

লবণ ও ভিনেগার রান্না করার সামগ্রী হলেও এ দুটি উপাদান কিন্তু দাদের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করতে অনেকাংশে সাহায্য করে থাকে৷ এই ঘরোয়া টোটকা অনুসরণ করতে প্রথমে একটি বাটিতে পরিমাণমতো লবণ নিয়ে তাতে সামান্য পরিমাণ ভিনেগার মিশিয়ে নিন৷ তারপর এই মিশ্রণটি আক্রান্ত স্থানের ওপর কয়েক মিনিট লাগিয়ে রাখুন৷ এতে করে আরাম পাওয়ার পাশাপাশি ভালো ফলাফল পাওয়াও সম্ভব হবে। রিলেটেডঃ আপেল সিডার ভিনেগার এর উপকারিতা ও অপকারিতা

এটুকুই ছিলো দাদ রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা, দাদ চুলকানি দূর করার উপায় নিয়ে আজকের আলোচনা। আশা করি সবাই ঘরোয়া পদ্ধতিতে দাদের সংক্রমণ থেকে কিভাবে রক্ষা পেতে পারবেন সেটি বুঝতে পেরেছেন৷ সবার জন্য উপদেশ হিসেবে বলতে চাই, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এই রোগ প্রতিরোধ করা অনেকাংশেই সম্ভব। তাই দাদ প্রতিরোধ করতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সর্বদা সচেষ্ট থাকুন৷

বিঃদ্রঃ  এই ব্লগের প্রত্যেকটা ব্লগ পোস্ট Sylhetism ব্লগের নিজস্ব ডিজিটাল সম্পদ। কেউ ব্লগের কোন পোস্ট কিংবা আংশিক অংশ ব্লগের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কপি পেস্ট করে অন্য কোথাও প্রকাশ করলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার অধিকার রাখে। এবং অবশ্যই কপিরাইট ক্লাইম করে যে মাধ্যমে এই ব্লগের পোস্ট প্রকাশ করা হবে সেখানেও কমপ্লেইন করা হবে।

এই ব্লগের কোন লেখায় তথ্যগত কোন ভুল থাকলে আমাদের Contact পেইজে সরাসরি যোগাযোগ করুণ, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তথ্য যাচাই করে লেখা আপডেট করে দিবো।

এই ব্লগের কোন স্বাস্থ বিষয়ক পোস্টের পরামর্শ নিজের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের মতামত নিবেন, আমরা স্বাস্থ বিষয়ে কোন বিশেষজ্ঞ না, আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ হচ্ছে সঠিক তথ্য পরিবেশন করা। সুতারাং কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার অবশ্যই আমরা নিবো না।

ধন্যবাদ, ব্লগ কর্তৃপক্ষ।

Author

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You cannot copy content of this page