ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কিভাবে শিখবেন? ফ্রি গাইড

ডিজিটাল মার্কেটিং কি

আপনি কি জানেন ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কিভাবে শিখবেন? বা কিভাবে আয় করবেন ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে? এর জন্য প্রয়োজন একটি স্টেপ বাই স্টেপ গাইডলাইন। আর এই আর্টিকেলে আমরা ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

ডিজিটালাইজেশন এর এই যুগে আপনি যত বেশি নিজেকে যত টেকনিক্যাল স্কিল ও সফ্ট স্কিল এ পারদর্শী করতে পারবেন। ততই আপনার জন্য মঙ্গল।  কারণ কর্পোরেট চাকরির পেছনে কম্পিটিশন অনেক। সরকারি চাকরি দীর্ঘ প্রস্তুতি বা কঠিন কর্মজীবন অনেকেরই অপছন্দ।  অনেকেই চায় মুক্ত পেশা বেছে নিতে, অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিং করতে। আর এই ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে আছে অসংখ্য আয়ের উৎস। তবে ডিজিটাল মার্কেটিং এমন একটি স্কিল যা আপনাকে ফ্রিল্যান্সিং থেকে শুরু করে বড় বড় কোম্পানিতে জব পাওয়ার সুযোগ করে দিবে। বলতে গেলে অনলাইন নির্ভর এই সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সেক্টর। তাই ডিজিটাল মার্কেটিং এ ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে সেটা নিঃসন্দেহে একটি ভাল ডিসিশন। তবে কাজ শুরু করার আগে জেনে নিন ডিজিটাল মার্কেটিং এর জানা অজানা সকল তথ্য। রিলেটেডঃ আউটসোর্সিং কি? আউটসোর্সিং কিভাবে শিখব? ফ্রি গাইড

ডিজিটাল মার্কেটিং কি

ডিজিটাল মার্কেটিং যাকে অনলাইন মার্কেটিং বলা হয়। ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল যোগাযোগের অন্যান্য  মাধ্যম  ব্যবহার করে সম্ভাব্য গ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপন করাই ডিজিটাল মার্কেটিং। অর্থাৎ নির্ধারণ গ্রাহকের কাছে পৌছানোর জন্য জন্য কোনো ব্র্যান্ডের প্রচার করা। এর মধ্যে শুধু ইমেল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওয়েব-ভিত্তিক বিজ্ঞাপন নয়, মার্কেটিং  চ্যানেল হিসাবে অনলাইন  এবং মাল্টিমিডিয়া মেসেজ গুলোও  অন্তর্ভুক্ত। মূলত, যদি একটি মার্কেটিং  কাজে  ডিজিটাল কানেকশন  জড়িত থাকে, তবেই তা ডিজিটাল মার্কেটিং।

ডিজিটাল মার্কেটিং বা অনলাইন মার্কেটিংও  ইন্টারনেটেই বেশি প্রচার করা হয়। এটা মূলত পন্য ও গ্রাহকের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টাকে বোঝায়। এই মার্কেটিং এ স্থায়ী এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য সার্চ ইঞ্জিন, সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেল এবং অন্যান্য ওয়েবসাইটগুলির মতো ডিজিটাল চ্যানেল গুলিকে ব্যবহার করা হয়।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি
ডিজিটাল মার্কেটিং কি

একজন অনভিজ্ঞ ইনবাউন্ড মার্কেটার বলতে পারেন ইনবাউন্ড মার্কেটিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং কার্যত একই জিনিস।  কিন্তু কিছু ছোটখাটো পার্থক্য আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের ইনবাউন্ড মার্কেটিং খুব বেশি প্রচলিত।  তবে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি যেটির প্রচলন তা হল ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং মোটেও ছোট একটি সেক্টর নয়।  তাই এর ব্যপ্তি যেমন বড় এর সজ্ঞা টাও বড়। তবে একদম সহজ করে বলতে গেলে,

ডিজিটাল মার্কেটিং হল সোশ্যাল মিডিয়া, এসইও, ইমেল এবং মোবাইল অ্যাপের মতো চ্যানেলের মাধ্যমে পণ্য ও পরিষেবা বিক্রি করার কাজ। মূলত, ডিজিটাল বিপণন হল বিপণনের যে কোনও রূপ যাতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস জড়িত থাকে। এটি অনলাইন এবং অফলাইনে করা যেতে পারে এবং প্রকৃতপক্ষে, উভয় প্রকারই একটি সুসংহত ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজনীতা

আপনি যখন একটি ব্যবসা চালান তখন আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে আপনি কিভাবে আপনার গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাবেন। যারা আপনার অফার করা পণ্য বা সেবা নিতে চান। ঐতিহ্যগত মার্কেটিং হল বিলবোর্ড বা টেলিভিশন কমার্শিয়াল বিজ্ঞাপন।  এগুলোই যুগ যুগ ধরে চলে আসছিল।  তবে এই পদ্ধতি আসলে  পুরানো এবং সীমিত। আপনার ব্র্যান্ড বাজারজাত করার নতুন, সময়োপযোগী  উপায় হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। রিলেটেডঃ মার্কেটিং কি? মার্কেটিং কাকে বলে?

আমরা যদি  ২০২২  সালের কথা বলি –

স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেটে সহজ অ্যাক্সেসের কারণে বিশ্বের সব প্রান্তের মানুষ ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছেন। আধুনিক সব  গ্রাহকরা ডিজিটাল  উপায়ে কেনাকাটায় বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। এই প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন কেই  বুদ্ধিমান ব্যবসায়ী রা কাজে লাগাচ্ছেন।  ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রচারনা চালিয়ে সময় ও পরিশ্রম দুটোই সেভ হচ্ছে।

তাই আপনি যদি একটি নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করার পরিকল্পনা করেন বা আপনার লক্ষ্য দর্শকদের কাছে পৌঁছানো। এবং আপনার ব্যবসার বৃদ্ধির জন্য আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একটিভিটি বাড়ানো। আপনি যদি দ্রুত আপনার ব্যবসার  বিকাশের পরিকল্পনা করেন, তাহলে আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে  জানতেই হবে। রিলেটেডঃ ফ্রিল্যান্সিং কি? মার্কেটপ্লেস, কাজ পাওয়ার উপায়

বিলবোর্ড মার্কেটিং
বিলবোর্ড মার্কেটিং

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ

আপনি কেন করবেন ডিজিটাল মার্কেটিং? এই প্রশ্নের উত্তর খুবই সহজ। কারণ বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত।  যদি সঠিক প্লাটফর্মে কাজ করতে পারেন আর কাজের যথাযথ মূল্য পান।  তাহলে অন্য চাকরির কথা ভাবতে হবে না।ডিজিটাল মার্কেটিং ভবিষ্যতে মার্কেটিং এর সবচেয়ে শক্তিশালী উপায় হিসেবে থাকবে।

কিন্তু ডিজিটাল বিপণনের গতিশীলতা যেহেতু প্রতিদিন পরিবর্তিত হচ্ছে, একজন ডিজিটাল মার্কেটারকে চটপটে, সতর্ক, স্মার্ট এবং সর্বশেষ পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নিতে হবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল কারণ এখন বাজার এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বেশি। ব্যবসায়ী হিসেবে  ক্রেতাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে এবং তাদের টার্গেটেড দর্শকদের সম্পর্কে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে  স্মার্ট টুল ব্যবহারের  বিকল্প নেই।  এটি দর্শকদের কাছে যাওয়ার একটি সম্পূর্ণ নতুন ও ইফেকটিভ উপায়।

আচ্ছা একজন ডিজিটাল মার্কেটারের বেতন কত? ডিজিটাল মার্কেটিং করে কত টাকা আয় করা যায়? এই প্রশ্নগুলি আসলে অনেক কমন। দেশভেদে এই এমাউন্ট ভিন্ন হতে পারে। কারণ একেক দেশে কাজের ভ্যালু একেক রকম। একজন ডিজিটাল মার্কেটারের গড় বেতন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর $62,438।

তবে বাংলাদেশে একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সিকিউটিভের বেতন  কেমন? এটিও তার   কাজ ও প্রতিষ্ঠান এর ওপর নির্ভর করে।। তবে  গড়ে ৳২০,০০০ – ৳৩০,০০০ বেতন দিয়ে এন্ট্রি লেভেলের জব পাওয়া সম্ভব। আর পরর্বতীতে দক্ষতার জোরে এটি অনেক বৃদ্ধি করা সম্ভব।   ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করা ক্ষেত্রে ভালো উপার্জন করতে হলে  ভালো পোর্টফোলিও থাকতে হবে। তাহলে খুব অল্প সময়েই অনেক টাকা ইনকাম করা সম্ভব।

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায়

আমরা এতোক্ষণ জানলাম ডিজিটাল মার্কেটিং কি, প্রয়োজনীয়তা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে, এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায়, কিভাবে আপনি শুরু করবেন, এবং হয়ে উঠবেন একজন সফল ডিজিটাল মার্কেটার।

গুগল থেকে শিখা

আমি প্রথমেই বলবো ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে হলে প্রথমে গুগলে সার্চ করা শিখতে হবে। গুগল হচ্ছে বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিক্ষক। হেন কোন জিনিষ নাই যার উত্তর গুগলের কাছে নাই। তাই আপনার মনে যেই প্রশ্ন আসবে তা কাউকে জিজ্ঞেস না করে প্রথমেই গুগলে সার্চ করবেন, এবং সার্চ রিজাল্টের সেইসব আর্টিকেল পড়া শুরু করবেন। এভাবেই আপনি আপনার ১০০% সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন।

ইউটিউব

দ্বিতীয় মাধ্যম হচ্ছে ইউটিউব। এই ইউটিউব থেকে আপনি হয়ে উঠতে পারেন একজন সফল ডিজিটাল মার্কেটার। এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় ফ্রি রিসোর্স, যেখানে প্রত্যেকটা কাজের ফ্রি টিউটোরিয়াল পাবেন। আপনি যে কাজ শিখতে চাইতেছেন সেই কাজের নাম লেখে ইউটিউবে ফুল কোর্স লেখে সার্চ দিবেন। এবং মাক্সিমাম স্কিল আপনি ইউটিউব দেখেই শিখে ফেলতে পারবেন।

লিংকডিন

এখন যে রিসোর্সের কথা আমি বলবো সেটা হচ্ছে লিংকডিন। এখানে পাবেন আপনি বিশ্বের বড় বড় প্রফেশনালদের তৈরি করা কোয়ালেটি কোর্স। তবে এই মাধ্যমের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এখানে সব কোর্সই পেইড। মজার বিষয় হচ্ছে এখানে আপনি ২৯ ডলার দিয়ে একমাসের সাবস্ক্রিপশন কিনলে লিংকডিনের সব কোর্স দেখতে পারবেন। তাই আমার মনে হয় এখানে ১-৩ মাসের পেইড সাবস্ক্রিপশন কিনা একটি ভালো চিন্তা হতে পারে। কারণ প্রতি মাসে ২৫০০ টাকার মতো খরচ করে আপনি অনেক বড় একটি লার্নিং লাইব্রেরীতে সব ধরণের কোর্স দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।

কোরসেরা Coursera

এরপরে যে ফ্রি রিসোর্স আছে সেটা হচ্ছে Coursera। এখানে আপনি বিশ্বের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা তৈরি কোর্সে ফ্রি একসেস পাবেন। আবার কিছু কিছু কোর্স আছে যেখানে আপনাকে টাকা দিয়ে কিনে পড়তে হবে। এই প্লাটফর্মের সুবিধা হচ্ছে এখান থেকে কোর্স করে কোন সার্টিফিকেট অর্জন করতে পারলে সেই সার্টিফিকেটকে গরুত্বসহকারে দেখা হয়ে থাকে।

ইউডেমি

ইউডেমি থেকে আপনি ফ্রিতে অনেক কোর্স করতে পারবেন। এছাড়া এখানে পেইড কোর্সের সুবিধা রয়েছে। আমি অনেক কোর্স ইউডেমি থেকে ফ্রিতে করেছি, যেগুলো ছিলো অনেক কোয়ালিটিফুল। যেমন আমি একবার চিন্তা করেছিলাম লিনাক্স শিখবো, লিনাক্স নিয়ে কোন পূর্ণ টিউটোরিয়াল ফ্রিতে পাচ্ছিলাম না, ইউটিউবে কিংবা গুগলে। পরে ইউডেমিতে এসে আমি কয়েকটি লিনাক্স কোর্স ফ্রিতে পেয়ে যাই। যদিও আমার লিনাক্স শিখা হয় নাই, আমি সেই সময় প্রোগামিং থেকে SEO শিখাতে মনোযোগ দিয়ে দেই, যার ফলে লিনাক্স থেকে ডাইভার্ট হয়ে যাই। সে যাইহোক, আপনি প্রথম অবস্থায় শিখার জন্য ইউডেমির ফ্রি কোর্সের সাহায্য নিতে পারেন।

স্কিলশেয়ার (Skillshare)

স্কিলশেয়ার নামের একটি ওয়েবসাইট আছে যেখানে আপনি অনেক ধরনের কোর্স পাবেন। তবে এই সাইটিতে বেশিরভাগ কোর্স পেইড। তবে কুপন বেইজড হওয়াতে অনেক সময় আপনি ফ্রিতে ১-২ মাসের এক্সেস পেতে পারেন। কিভাবে এইসব কোর্স ফ্রিতে পাবেন সেই জন্যে ইউটিউবে রয়েছে হাজার হাজার টিউটোরিয়াল ভিডিও। তো সেগুলো দেখে এইসব কোর্স ফ্রিতে আপনি পেয়ে যেতে পারেন।

মেন্টর

এবার আসা যাক অফলাইনে। আপনি যে কাজ শিখতে চান সেই কাজ শিখার জন্যে কোন মেন্টর খোজে বের করতে পারেন। যেমন বাংলাদেশের অনেক ভালো ভালো আউটসোর্সার আছে যারা আপনাকে কাজ শিখাবে। তবে এই মেন্টর খোজতে হবে সাবধানে। আমাদের দেশের মাক্সিমাম মানুষের মধ্যে বাটপারির একটা মন মানসিকতা থাকে, তাই আপনি কাকে মেন্টর হিসাবে নিচ্ছেন সেটা পছন্দ করা অনেক চ্যালেঞ্জিং বিষয়।

ফেসবুক গ্রুপ

ফেসবুকে রয়েছে অসংখ্য গ্রুপ, যেখানে আপনি পেয়ে যাবেন মেন্টরসহ অনেক ফ্রি রিসোর্স। আপনি যে কাজ শিখতে চাচ্ছেন সে কাজের নাম লিখে ফেসবুকে সার্চ দিলে সেসব গ্রুপ পেয়ে যাবেন। মনে করেন আপনি শিখতে চাচ্ছেন ডিজিটাল মার্কেটিং,  আপনাকে সার্চ দিতে হবে ডিজিটাল মার্কেটিং গ্রুপ লিখে। এসব গ্রুপ আসলে সেখানে জয়ন করতে হবে এবং গ্রুপ মেম্বাররা কি নিয়ে আলোচনা করছে সেগুলো মনযোগ দিয়ে দেখতে হবে।

কোচিং সেন্টার

আমি আগেই বলেছি কোচিং সেন্টার হচ্ছে জোচ্চুরির আড্ডাখানা। তাই ফেসবুক বলেন, ইউটিউব বলেন, কিংবা কোচিং সেন্টার বলেন, যেখানেই দেখবেন কোন বাঙালি আপনাকে বলছে ১-২ মাসের মধ্যে আউটসোর্সিং শিখেয়ে ফেলবে তাহলে ধরে নিবেন সে একটা বাটপার। এবং কেউ যদি বলে ৬ মাসের মধ্যে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করে ফেলবেন তাহলে ধরে নিবেন সে আরো বড় বাটপার। আপনে যেখানেই কোর্স করেন না কেনো আগে মনে রাখতে হবে আউটসোর্সিং ১-২ মাসে শিখে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করা যায় না। অন্তত আপনি কোন কাজ শিখতে হলে ১-২ বছরের টার্গেট নিয়ে আগাবেন, ধীরে ধীরে নিজেকে স্কিল্ড হিসাবে গড়ে তুলবেন। তখন কাজ পেতেও আপনার অসুবিধা হবে না।

যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

বাংলাদেশে সরকারিভাবে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আউটসোর্সিং শিখানো হয়।  এখানে স্পেসেফিক কিছু কাজ শেখানো হয়, যেমনঃ ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং, বেসিক কম্পিউটার, মাইক্রোসফট এক্সেল, ওয়ার্ড ইত্যাদি ইত্যাদি। আউটসোর্সিং সেক্টর অনেক বড় হওয়াতে নিজের পছন্দ মতো কোর্স যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাওয়া যায় না।

যাইহোক এছাড়া আরো অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখানে আপনি ফ্রিতে বিভিন্ন কাজ শিখতে পারবেন। সবকিছু এক আর্টিকেলে আলোচনা করা সম্ভাব না। যেগুলো দরকারি আমি সেগুলোই তুলে ধরছি। 

ডিজিটাল মার্কেটিং একটি একক সেক্টর না। এখানে অনেক বিষয়ের ওপর কাজ করা যায়। তেমনি শিখতেও হয় অনেক বিষয়। আর কাজ কোথায় পাওয়া যায়। কিভাবে আয় করা যায়। এসব প্রশ্ন তো থাকছেই। চলুন একে একে সেই সব প্রশ্নের উত্তর গুলো জেনে আসি। রিলেটেডঃ গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? কিভাবে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখবেন?

যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

প্রয়োজনীয় জিনিষ

ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে হলে শুধু একটি বিষয় নয়। জানতে হবে পারিপার্শ্বিক আরো অনেক বিষয়বস্তু। ডিজিটাল মার্কেটিং এর শুরুতেই লাগবে একটি স্মার্ট ডিভাইস। হতে পারে ল্যাপটপ, কিংবা পিসি, এন্ড্রয়েড ফোন,  ট্যাবলেট ইত্যাদি।  এবং অবশ্যই ইন্টারনেট কানেকশন।  এরপর আসি স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর কথায়।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর রয়েছে অনেক গুলো সেক্টর । প্রথমেই এই বিষয় গুলোর উপরে আপনার জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তবেই আপনি কোনো কোম্পানি  কিংবা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজ শুরু করতে পারবেন। চলুন তাহলে জেনে নেই  ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে হলে কি কি লাগবে।

কম্পিউটার

ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে হলে সর্বপ্রথম লাগবে একটি ভালো কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, কম্পিউটার ছাড়া আউটসোর্সিং করা সম্ভব না। তাই ভালো কম্পানির কম্পিউটার যাদের হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ভালো সুনাম রয়েছে (যেমন এইচ পি, ডেল, এপল ইত্যাদি) সেসব কম্পিউটার কিনবেন। কারণ স্লো কম্পিউটার দিয়ে কাজ করা মুশকিল। তাই দরকার ভালো মানের একটি কম্পিউটার। এই জায়গায় আপনাকে কিছু টাকা ইনভেস্ট করতে হবে।

ইন্টারনেট কানেকশন

দ্বিতীয়ত যে জিনিষটা লাগবে তা হল ভালো ইন্টারনেট কানেকশন বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ। ভালো স্পিডের ইন্টারনেট ছাড়া এজন ডিজিটাল মার্কেটার হিসাবে আউটসোর্সিং বা ফ্রিলান্সিং করা প্রায় অসম্ভব।

ভালো ইংরেজী জ্ঞান

আউটসোর্সিং করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইংরেজিতে দক্ষ হতে হবে। কারণ নিয়োগকর্তা যে দেশের ই হোক না কেনো সে আপনার সাথে ইংরেজিতে যোগাযোগ করবে। তাই ইংরেজী আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে।

সময়ানুবর্তিতা (Punctuality)

আউটসোর্সিং করতে হলে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিষ দরকার, সেটা হলো সময়জ্ঞান, আপনাকে প্রত্যেকটা কাজের ডেডলাইন মানতে হবে। ক্লাইন্টের কাছ থেকে কাজ পাওয়ার পর যে সময় দিবে, সেই সময়ের আগে কাজ জমা দেওয়ার মন মানসিকতা থাকতে হবে। যদি দেরী করেন তাহলে আপনার সম্পর্কে নিয়োগকারীর নেগেটিভ ধারণা জন্ম নিবে। তাই পর্বতীতে কাজ দিতে হলে অনেক ভেবেচিন্তে দিবে। আবার যদি কাজ সময়ের আগে জমা দেন তাহলে তারা আপনাকে একজন আগ্রহী কর্মী হিসাবে গণনা করবে, পর্বতীতে কাজ পেতে অনেক সহজ হবে।

পারদর্শিতা

সবশেষে আউটসোর্সিং করতে আপনার দরকার কোন কাজে পারদর্শী হওয়া। সহজভাবে বললে কোন একটি কাজ ভালোভাবে শিখা। আপনি যদি কোন কাজ জানেন তাহলে যতই প্রতিযোগিতা কিংবা বৈরি পরিবেশ হোক না কেন, আপনি কোন না কোন কাজ পাবেন। গুণীদের কদর সবাই করে। তাই আউটসোর্সিং করতে হলে কাজে লাগার আগে কোন একটি কাজ ভালোভাবে শিখে নিবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার

এবার চলুন দেখে নেই ডিজিটাল মার্কেটিংকে ক্যারিয়ার হিসাবে নিতে হলে কোন কোন কাজগুলি শিখতে হবে। আগে অনেকবার বলা হয়েছে এই সেক্টর অনেক বড়, এবং এদের রয়েছে অসংখ্য সাব সেক্টর। তাই আপনি যেকোন একটি সেক্টরের কোন একটি কাজ শিখলেই ডিজিটাল মার্কেটিং এ ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।

SEO বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন

এসইও মানে সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান।  যা অর্গানিক সার্চ রেসাল্টে  ওয়েব পেজ গুলোর  অবস্থান উন্নত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এই এমন একটি সেট এ  ডিজাইন করা হয় যেন আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধি পায় ৷  অর্গানিক সার্চ  হল মানুষের জন্য অনলাইন বিষয়বস্তু আবিষ্কার ও অ্যাক্সেস করার সবচেয়ে বিশিষ্ট উপায়।তাই  আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিকের গুণমান এবং পরিমাণ উন্নত করার জন্য একটি ভাল SEO কৌশল একদম অপরিহার্য।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, সহজভাবে বলতে গেলে,  সার্চ ইঞ্জিনে বিনামূল্যে অর্গানিক সার্চ থেকে ট্রাফিক পাওয়ার একটি প্রক্রিয়া। এটির লক্ষ্য সার্চ  রেজাল্টের  পেজ গুলিতে  আপনার ওয়েবসাইটের পজিশন উপরের দিকে তোলা। মনে রাখবেন, ওয়েবসাইট যত উপরে তালিকাভুক্ত হবে, তত বেশি মানুষ এটি দেখতে পাবে।

কোম্পানিগুলি আরও সচেতনতা অর্জন করতে এবং তাদের কোম্পানিকে একটি সার্চ ইঞ্জিনের র‍্যাঙ্কে উচ্চতর করতে এর  সাহায্য নেয়।  তাই সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান বা এসইওর দিকে মানুষের ঝোঁক বাড়ছে।  এসইও সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগল, ইয়াহু, এমএসএন, বিং ইত্যাদির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়। সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান এমন কীওয়ার্ড ব্যবহার করে যা একজন ব্যবহারকারীকে কোম্পানির প্রতি আকৃষ্ট করে।

SEM বা সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং (SEM) হল একটি ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল যা সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্টে  (SERPs) একটি ওয়েবসাইটের দৃশ্যমানতা ( ভিজিবিলিটি) বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। যদিও  একবার সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান (SEO) এবং এসইএম এর  মতো অর্গানিক  সার্চ  ক্রিয়াকলাপ উভয়কেই এক মনে করেন অনেকে। তবে এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। এটি

সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিংকে বিকল্পভাবে প্রেজেন্ট করে। অর্থাৎ আপনি এটিকে  অর্থপ্রদত্ত অনুসন্ধান বা প্রতি ক্লিকে অর্থ প্রদান (PPC) হিসাবেও উল্লেখ করতে পারেন।

ক্রমবর্ধমান সংখ্যক গ্রাহকরা অনলাইনে পণ্যের জন্য গবেষণা এবং কেনাকাটা করছেন। সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটিং একটি কোম্পানির নাগাল বাড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন মার্কেটিং কৌশল হয়ে উঠেছে।প্রকৃতপক্ষে, একটি ওয়েবসাইটের বেশিরভাগ নতুন দর্শক একটি সার্চ ইঞ্জিনে একটি অনুসন্ধানের মাধ্যমে এটি খুঁজে পান।

কন্টেন্ট মার্কেটিং

কন্টেন্ট মার্কেটিং হল এমন  হল একটি বিপণন কৌশল যা প্রাসঙ্গিক এপ্লিকেশনে , ভিডিও, পডকাস্ট এবং অন্যান্য মিডিয়া তৈরি এবং ডিভাইড করে। এবং  শ্রোতাদের আকর্ষণ করতে  এবং ধরে রাখতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে করে, ব্র্যান্ড সচেতনতা প্রচার করতে পারেন।

কনটেন্ট মার্কেটিং হল  হল প্রাসঙ্গিক, উপযোগী বিষয়বস্তু-ব্লগ, নিউজলেটার, শ্বেতপত্র, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ইমেল, ভিডিও এবং এর মতো- প্রেজেন্ট এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেয়া। মোট কথা একটি কোম্পানি তাদের পণ্য সম্পর্কে,  বিভিন্ন ডিজিটাল উপায়ে গ্রাহকে ধারণা দেয়।  একজন কন্টেন্ট মার্কেটার হতে হলে কিন্তু জানতে হবে এসইও ফ্রেন্ডলি রাইটিং। আর কোন প্লাটফর্মে কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে সেটিও রপ্ত করে নিতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বা SMM

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং হল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং ওয়েবসাইট ব্যবহার করে একটি পণ্য বা পরিষেবা প্রচার করা। যদিও ই-মার্কেটিং এবং ডিজিটাল মার্কেটিং শব্দগুলি এখনও একাডেমিয়ায় প্রভাবশালী, সামাজিক মিডিয়া মার্কেটিং অনুশীলনকারী এবং গবেষক উভয়ের কাছেই বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বেশিরভাগ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে বিল্ট-ইন ডেটা অ্যানালিটিক্স টুল রয়েছে, যা কোম্পানিগুলিকে বিজ্ঞাপন প্রচারের সাহায্য করে। অল্প সময়ে সাফল্য এবং উন্নতি আনতে  সক্ষম হয়।

কোম্পানিগুলি তাদের প্রেজেন্ট গ্রাহক  এবং সম্ভাব্য গ্রাহক, বর্তমান এবং সম্ভাব্য কর্মচারী, সাংবাদিক, ব্লগার এবং সাধারণ জনগণ সহ সামাজিক মিডিয়া বিপণনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারকে টার্গেট  করে। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং একটি স্ট্রাটেজি অনুসরন করে আগায়। সঠিক ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা করতে পারলে অল্প সময়ে ভাল ট্রাফিক পাওয়া সম্ভব।  আর একজন দক্ষ  সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার এর আছে প্যাসিভ ইনকামের সুযোগ।


Complete Social Media Marketing Course| Social Media Marketing Tutorial For Beginners

এফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হল একটি বিজ্ঞাপন প্রচারণা যেখানে একটি কোম্পানি তৃতীয় পক্ষের  প্রকাশকদের সাহায্য নেয়। অর্থাৎ একজন তৃতীয় পক্ষ তাদের কোম্পানির প্রোডাক্ট সম্পর্কে রিভিউ করবে। এবং ট্রাফিক তৈরি করবে। সেই প্রচারকের কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রাহকরা পণ্য কিনবে। বিনিময়ে ওই ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট পরিমানের কমিশন পাবেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বর্তমানে অনেক বেশি প্রচলিত একটা ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টর।  প্রচুর সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার আজকাল এই পদ্ধতিতে আয় করে থাকেন। কারন তাদের একাউন্টে অনেক বেশি ভিজিটর থাকে।

ইন্টারনেট নির্ভর এই সময় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর প্রাধান্য বাড়িয়ে দিয়েছে। ঠিক যেমন Amazon (AMZN)।  অ্যামাজন ও  অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্রোগ্রাম তৈরি করে আর প্রচুর মানুষ এখন এই অ্যাফলিয়েট মার্কেটিং এর দিকে ঝুকেছে।  যেহেতু এটি একটি বড়  প্লাটফর্ম,  এখানে ক্রেতাও বেশি। আর প্রচুর লোক আছে যারা এমাজন এর প্রডাক্ট নিতে আগ্রহী।  তাই এমাজন অ্যাফিলিয়েট থেকে আয় করাও বেশি লাভজনক।  এমাজনের নেটওয়ার্ক এখন অনেক বড় যার কারণে ইনকাম করার সূযোগ ও বেশি। তাই আপনি-ও আগাতে পারেন এই পথে।

ইমেইল মার্কেটিং

ইমেল মার্কেটিং  হল একটি বাণিজ্যিক মেসেজ পাঠানোর কাজ। সাধারণত একটি নিদিষ্ট  গোষ্ঠীর কাছে, তাদের ইমেল ব্যবহার করে তথ্য প্রদান করা হয়। এর বিস্তৃত অর্থে, সম্ভাব্য বা প্রেজেন্ট  গ্রাহককে পাঠানো প্রতিটি ইমেল ইমেল মার্কেটিং  হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।

এটি বিজ্ঞাপন পাঠাতে, ব্যবসার অনুরোধ করতে, বা বিক্রয় বা অনুদানের জন্য অনুরোধ করতে ইমেল ব্যবহার করা হয়। ইমেল বিপণন কৌশলগুলি সাধারণত তিনটি প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলি বা  একাধিক লক্ষ  অর্জন করতে চায়।  তা হল-  গ্রাহকদের সামনে আনুগত্য, বিশ্বাস বা ব্র্যান্ড সচেতনতা তৈরি করা।

ইমেল মার্কেটিং  সাধারণত বর্তমান বা পূর্ববর্তী গ্রাহকদের সাথে একজন ব্যবসায়ীর  সম্পর্ক বাড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়।  গ্রাহকের আগ্রহ  এবং পন্য কেনার পুনরাবৃত্তি ব্যবসাকে উৎসাহিত করে।   পাশাপাশি  নতুন গ্রাহকদের মধ্যে পরিচিতি ও  অর্জন করা হয়। তাছাড়া   বর্তমান গ্রাহকদের অবিলম্বে কিছু কেনার জন্য রাজি করানোর জন্য ও এর সাহায্য নেয়া হয়। মুলত যারা পূর্বে এই কোম্পানির সাথে জড়িত ছিল বা যাদের এই বিষয়ে আগ্রহ আছে তাদের ক টার্গেট করেই ইমেল পাঠানো হয়।   বর্তমানে ইমেল মার্কেটিং খুবই জনপ্রিয় একটি সেক্টর।

ই-কমার্স প্রোডাক্ট মার্কেটিং

ইকমার্স মার্কেটিং  হল প্রচারমূলক কৌশল ব্যবহার করে আপনার অনলাইন স্টোরে ট্রাফিক বাড়ানো। এরপর, সেই ট্রাফিককে গ্রাহকে রূপান্তরিত করা এবং কেনাকাটার পরে পুনরায়   সেই গ্রাহকদের ধরে রাখা।

একটি সামগ্রিক ইকমার্স মার্কেটিং  কৌশল আপনার ওয়েবসাইটে এবং বাইরে উভয়ই স্থানেই কাজ করবে।  একটি দক্ষ  মার্কেটিং  কৌশল আপনাকে ব্র্যান্ড সচেতনতা তৈরি করতে, গ্রাহকের আনুগত্য ও আগ্রহ  বাড়াতে হেল্প করবে

এবং শেষ পর্যন্ত অনলাইন বিক্রয় বাড়াতেও আপনাকে সাহায্য করবে।

আপনি সামগ্রিকভাবে ব্যবসার জন্য ইকমার্স মার্কেটিং  টুলস ব্যবহার করে প্রচার চালাতে পারেন। বা নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য আরও বিক্রয় বাড়াতে আপনার অনলাইন স্টোরের প্রচার করতে পারেন। তাছাড়া নিজে পণ্য গুলোর  ব্যবহারিক ধারণার একটি ওভারভিউ দিয়ে দিতে পারেন। এতে গ্রাহকরা আপনার অন্য পণ্য সম্পর্কেও জানতে পারবে।

সিপিএ মার্কেটিং

কস্ট পার অ্যাকশন (সিপিএ), কখনও কখনও মার্কেটিং সেক্টরে  কস্টলি হিসেবে ধরা হয়। তবে এটি ভুল ধারনা। অনেক সময়ে সিপিএ মার্কেটিং কে তুলনা করা হয় অ্যাফলিয়েট মার্কেটিং হিসেবেও। সিপিএ মার্কেটিং ডিজিটাল মার্কেটিং এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সেক্টর। অনেক বেশি প্রচলিত ও বটে।

আমরা জানি এফলিয়েট মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে- তৃতীয় পক্ষ ( যে পণ্যের প্রচারণা চালায়) সে পন্যের বিক্রি হবার সাথে সাথে একটি কমিশন পায়। কিন্তু সিপিএ মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে বেপার টি সম্পুর্ন আলাদা।

সিপিএ মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে, পন্য বিক্রি হোক বা না হোক সে বিষয়টি হিসেব করে টাকা দেয়া হয় না। এটি এমন এক ধরনের affiliate marketing, যেখানে আপনাকে পণ্য বিক্রি না হলেও কমিশন দেয়া হবে। অর্থাৎ এখান থেকে আয় করা এফিলিয়েট মার্কেটিং এর থেকেও সহজ। তাই আপনিও অবলম্বন করতে পারেন এই পদ্ধতি।

এছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিং এর রয়েছে আরো অনেক কাজ, এই আর্টিকেলে শুধু উল্লেখযোগ্য কাজসমূহ তুলে ধরা হয়েছে।

শেষ কথা

ডিজিটাল মার্কেটিং কি এই প্রশ্নের উত্তর আসলে অল্প পরিসরে দেয়া সম্ভব না। তাই সম্পূর্ণ ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে একটি গাইডলাইন দেয়ার চেষ্টা করেছি। আসা করি এই গাইডলাইন স্টেপ বাই স্টেপ ফলো করতে পারলে ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে আপনার আর কোনো কনফিউশান থাকবে না। আপনিও বাকিদের মত  আয় করতে পারবেন এন্ডসাম এমাউন্ট এর ইনকাম।

বিঃদ্রঃ  এই ব্লগের প্রত্যেকটা ব্লগ পোস্ট Sylhetism ব্লগের নিজস্ব ডিজিটাল সম্পদ। কেউ ব্লগের কোন পোস্ট কিংবা আংশিক অংশ ব্লগের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কপি পেস্ট করে অন্য কোথাও প্রকাশ করলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার অধিকার রাখে। এবং অবশ্যই কপিরাইট ক্লাইম করে যে মাধ্যমে এই ব্লগের পোস্ট প্রকাশ করা হবে সেখানেও কমপ্লেইন করা হবে।

এই ব্লগের কোন লেখায় তথ্যগত কোন ভুল থাকলে আমাদের Contact পেইজে সরাসরি যোগাযোগ করুন, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তথ্য যাচাই করে লেখা আপডেট করে দিবো।

এই ব্লগের কোন স্বাস্থ বিষয়ক পোস্টের পরামর্শ নিজের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের মতামত নিবেন, আমরা স্বাস্থ বিষয়ে কোন বিশেষজ্ঞ না, আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ হচ্ছে সঠিক তথ্য পরিবেশন করা। সুতারাং কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার অবশ্যই আমরা নিবো না।

ধন্যবাদ, ব্লগ কর্তৃপক্ষ।

Author

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You cannot copy content of this page