ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ

ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ কি কি, জেনে নিন ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও চিকিৎসা

ডেঙ্গু জ্বরের সাথে কমবেশি আমরা সবাই পরিচিত। নিজের কিংবা আপনজনের ডেঙ্গু জ্বরে ভুগতে হয় নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল৷ ছোটবেলা থেকেই আমরা সবাই শুনে আসছি, বর্ষাকালে মশার উপদ্রব বাড়ে। আর এই সময়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। কিন্তু সত্যিই কি এই একটা কারণেই ডেঙ্গু জ্বর হয়? নাকি আরো রয়েছে?

ডেঙ্গুর কবলে পরে প্রতিবছর বহু লোক মারা যায়। আপনি জানলে অবার হবেন যে ২০১৯ সালে প্রায় এক লাখের মতো মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়৷ এবং মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৫ এর মত৷ধরা হয় সে বছরই ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বাধিক ছিল। তাহলে বুঝতেই পারছেন রোগটি কত ভয়াবহ রুপ ধারণ করছে। তবে ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ গুলো আগে থেকেই জানা থাকলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেয়া সম্ভব। তাই আমাদের আজকের আলোচনা ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ কি কি, জেনে নিন ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও চিকিৎসা ও ডেঙ্গু জ্বর এড়িয়ে চলার কৌশল নিয়ে।

ডেঙ্গু জ্বর কি?

ডেঙ্গু একটি ভাইরাল সংক্রমণ। যা এক ধরনের মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হয়। প্রাথমিক বাহক হিসেবে যেগুলি এই রোগটি ছড়ায় তারা হল এডিস ইজিপ্টি মশা এবং Ae albopictus  (কিছু ক্ষেত্রে) যা ডেঙ্গু হওয়ার জন্য দায়ী। এই ভাইরাসটিকে ডেঙ্গু ভাইরাস ও (DENV) বলা হয়।

ডেঙ্গু গুরুতর অবস্থা ধারণ করে যখন আপনার রক্তনালীগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ছিদ্রপথ তৈরি হয় । এসময়ে আপনার রক্তপ্রবাহে জমাট-গঠনকারী কোষের (প্ল্যাটলেট) সংখ্যা কমে যায়। এর ফলে শক, অভ্যন্তরীণ রক্তপাত,অঙ্গ ব্যর্থতা এবং এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ
ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ

ডেঙ্গু (উচ্চারণ Dengue) জ্বর হল একটি বেদনাদায়ক, দুর্বল মশাবাহিত রোগ যা চারটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত ডেঙ্গু ভাইরাসের যে কোনো একটির কারণে হয়। এই ভাইরাসগুলি ওয়েস্ট ব্লু ভাইরাসগুলির সাথে সম্পর্কিত।এসব ভাইরাস ওয়েস্ট ব্লু সংক্রমণ এবং ইয়োলো ফিভার ও ঘটায়।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত প্রতি ২০ জনের মধ্যে ১ জনের মারাত্মক ডেঙ্গু হয়।গুরুতর ডেঙ্গুর ফলে শক, অভ্যন্তরীণ রক্তপাত এবং এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। আপনি যদি অতীতে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে আপনার মারাত্মক ডেঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাদের গুরুতর ডেঙ্গু হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

ডেঙ্গু কেন হয়?

স্ত্রী এডিস মশা বাহিত ভাইরাসের কারণে ডেঙ্গু জ্বর হয়। তারা তাদের ডিম পাড়ে পানির পাত্রের ভেতরে। এবং ভেজা দেয়াল বরাবর নিষিক্ত করে। এবং ২ থেকে ৭ দিনের মধ্যে এগুলো থেকে শুককীট বের হয়। বিশেষত যখন বৃষ্টির ফলে বা অন্য কোনো উৎসের মাধ্যমে ডিমগুলো পানিতে ডুবে যায়। ৪ দিনের মধ্যে,লার্ভা অণুজীব এবং কণা জৈব পদার্থ খাওয়া শুরু করে।এবং দেহ রূপান্তরিত হয়। এরপর এরা একটি লার্ভা থেকে পিউপাতে পরিবর্তিত হয়।

Pupae খাবার গ্রহন করে না; তারা মাত্র দুই দিনের মধ্যে একটি প্রাপ্তবয়স্ক শরীরের আকারে পরিবর্তিত হয়। এবং মশা হয়ে উড়ে যায়। তারপর,নবগঠিত প্রাপ্তবয়স্ক পিউপালের চামড়া ভেঙ্গে পানি থেকে বের হয়। এডিস মশার সমগ্র জীবনচক্র দেড় থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে।

যেসব জায়গায় এডিস মশা জন্মায়

বসতবাড়ি, বিভিন্ন পরিত্যক্ত আসবাব,স্থাপনার আশপাশ এডিস মশার ডিম পাড়ার উপযুক্ত যায়গা।ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এই এডিস মশা শীত কালেও ডিম দেয়।তাছাড়া বৃষ্টির সময়ে পানির স্পর্শ পেয়েই অসংখ্য লার্ভা জন্ম নেয়।বর্ষাকাল আসলেই এডিস মশার ছোট ছোট ইমম্যাচিউর বাচ্চা আসে পাশে ছাড়িয়ে পড়ে।

স্যাঁতসেঁতে ও গুমোট স্থানে ডেঙ্গু বহনকারী এডিস মশা অনেক সময়ে দুই বছরের বেশি সময় ধরে জীবিত থাকতে পারে। তাই শুধু এই সময়েই নয়,বছরের সারা সময়ই ডেঙ্গুর বংশবৃদ্ধি রোধ করার কাজ করে যেতে হবে।

অনেক সময়ে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্ক এডিস মশারা উষ্ণ,আর্দ্র ও তুলনামূলক অন্ধকার স্থানে থাকতে বেশি পছন্দ করে। তাই এই মশা যে সোফা, বিছানা,আলমারি,রেক, আলনা, ঘরের আনাচেকানাচে, দরজার পেছনে ও খাটের নীচেই বসতি স্থাপন করে থাকে তাতে কোনো রকম সন্দেহ নেই। সরকারি কর্তৃপক্ষ শুধু সরকারি টাকাশ রাস্তা-ঘাট, নালা, ঝোপঝাড়ে ও নর্দমায় ওষুধের ব্যবস্থা করছেন।তাই নিজ নিজ বসতবাড়ি ও তার চারপাশে মশা নিরোধনের কাজ কিন্তু আপনাকেই করতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বর কখন হয়?

মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস এর সময়টাতে, বিশেষ করে গীষ্মকাল এবং বর্ষাকালের টাইমেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে শীতের সময়ে ডেঙ্গু জ্বর তেমন একটা হয় না। শীতকালে লার্ভা হিসেবেন এডিস মশা বহু দিন জীবিত থাকতে পারে। বর্ষাকালের শুরুর দিকেই সেই লার্ভা থেকে আবার নতুন করে ডেঙ্গুর ভাইরাস টি এডিস মশার মাধ্যমে বিস্তার করতে থাকে। অনেক সময়ে শহর এলাকায় অভিজাত অঞ্চলে,বড় বড় বিল্ডিং ও স্থাপনায় এডিস মশার পরকোপ বেশি বাড়ে।তাই দেখা যায়, ডেঙ্গু জ্বরও এই সকল এলাকার মানুষদের বেশি হয়ে থাকে। এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বস্তি,ডোবা নালার পাশে যাদের বসতি তাদোরও ডেঙ্গু হবার পসিবিলিটি অনেক বেশি। রিলেটেডঃ জ্বর কেন হয়? জেনে নিন জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায়

ডেঙ্গু জ্বর কাদের বেশি হয়?

যেহেতু আমরা জানি ডেঙ্গু ভাইরাস মোট ৪ ধরনের হতে পারে। সেহেতু ডেঙ্গু জ্বরও ৪ বার করে হতে পারে। তবে দুঃখ জনক বিষয় হয়,যাদের আগেও ডেঙ্গু জ্বরে ভুগতে হয়েছে,তাদের কিন্তু  পরবর্তী ধাপে আবার ডেঙ্গু হলে সেটি গুরুতর অবস্থা ধারণ করে।বিশেষত ছোট বাচ্চা বা শিশু কিশোরদের ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি বেশি ঘটতে দেখা যায়।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ কি?

ডেঙ্গু জ্বরের ফেজ গুলোকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।পুরো পিরিয়ড টা একটি ধাপে ধাপে আগায়৷ এবং প্রতি ধাপে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ করে। ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ প্রতিটি ফেজ সহ এবং ডেঙ্গু জ্বররের সাধারণ লক্ষণ,সব গুলো তুলে ধরা হল-

ডেঙ্গুর সবচেয়ে কমন লক্ষণ হল নিম্নোক্ত যেকোনো একটির সাথে জ্বর:

  • বমি বমি ভাব অথবা বমি
  • ফুসকুড়ি
  • শরীরে কোনো ক্ষত চিহ্ন
  • গুরুতর পেটে ব্যথা,
  •  শ্বাস নিতে অসুবিধা বা
  • আপনার নাক, মাড়ি, বমি বা মল থেকে রক্ত ​​পড়া।

ডেঙ্গুর লক্ষণ সাধারণত ২-৭ দিন স্থায়ী হয়।বেশিরভাগ লোক প্রায় এক সপ্তাহ পরে সুস্থ হয়ে উঠবে। ডেঙ্গু ৫-৭ দিনের একটি সাধারণ ইনকিউবেশন পিরিয়ডের পর আকস্মিকভাবে শুরু হয় এবং কোর্সটি ৩টি পর্যায় অনুসরণ করে: জ্বর, গুরুতর এবং সুস্থ হওয়া।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ বমি বমি ভাব অথবা বমি

ফেব্রিল ফেজ (জ্বর)

  • এই জ্বর সাধারণত ২-৭ দিন স্থায়ী হয় এবং বাইফেসিক হতে পারে।
  • অন্যান্য লক্ষণ এবং উপসর্গগুলির মধ্যে গুরুতর মাথাব্যথা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে;
  •  রেট্রো-অরবিটাল চোখের ব্যথা; পেশী, জয়েন্ট এবং হাড়ের ব্যথা হতে পারে;
  • ম্যাকুলার বা ম্যাকুলোপ্যাপুলার ফুসকুড়ি দেখা দেয়;
  • এবং ছোটখাটো হেমোরেজিক দাগ সহ, এপিস্ট্যাক্সিস, মাড়ি থেকে রক্তপাত দেখা যায়।
  • কিছু রোগীর জ্বর শুরু হওয়ার প্রথম ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে অরোফ্যারিনক্স এবং মুখের erythema দেখা যায়

সতর্ক সংকেত

গুরুতর ডেঙ্গুর দিকে ধাবিত হবার সতর্কতা লক্ষণগুলি হল-

  • ডেফেরেন্সের সময় দেরীতে জ্বর  দেখা দেয় এবং
  • তাছাড়া এর মধ্যে রয়েছে ক্রমাগত বমি
  •  প্রচণ্ড পেটে ব্যথা,
  • পায়ে তরল জমা,
  • মিউকোসাল রক্তপাত,
  • শ্বাস নিতে অসুবিধা
  • অলসতা/অস্থিরতা, অঙ্গবিন্যাস
  • হাইপোটেনশন,
  • লিভারের বৃদ্ধি এবং প্রগতিশীল বৃদ্ধি (রিলেটেডঃ লিভার রোগের লক্ষণ, কারণ, প্রতিকার ও চিকিৎসা)
  •  হেমাটোক্রিটে (অর্থাৎ, হিমোকসেন্ট্রেশন)

ক্রিটিক্যাল ফেজ (গুরুতর জ্বর)

  • ডেঙ্গুর ক্রিটিক্যাল পর্যায় শুরু হয় কিছাটা ডিফারেন্সে এবং সাধারণত ২৪-৪৮ ঘন্টা স্থায়ী হয়।
  • এই পর্যায়ে বেশিরভাগ রোগীর চিকিৎসাগতভাবে উন্নতি হয়। কিন্তু যাদের রক্তরস লিকেজ হয় তাদের কয়েক ঘন্টার মধ্যে,ভাস্কুলার এড়িয়ায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির ফলে মারাত্মক ডেঙ্গু হতে পারে।
  • প্রাথমিকভাবে, শারীরবৃত্তীয় ক্ষতিপূরণমূলক কাজ গুলে পর্যাপ্ত সঞ্চালন বজায় রাখে
  • এটি ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বৃদ্ধির সাথে সাথে নাড়ির চাপকে সংকুচিত করে।
  •  রোগীদের প্লুরাল ইফিউশন, অ্যাসাইটস, হাইপোপ্রোটিনেমিয়া বা হিমোকনসেন্ট্রেশন দেখা দিতে  পারে।
  • শক এর প্রাথমিক লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও রোগীরা ভাল বলে মনে হতে পারে। যাইহোক, একবার হাইপোটেনশনের বিকাশ হলে, সিস্টোলিক রক্তচাপ দ্রুত হ্রাস পায় এবং পুনরুত্থান সত্ত্বেও অপরিবর্তনীয় শক এবং মৃত্যু ঘটতে পারে।
  • রোগীরা গুরুতর হেমোরেজিক প্রকাশও বিকাশ করতে পারে,
  • এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে হেমেটেমেসিস, রক্তাক্ত মল,বা মেনোরেজিয়া, বিশেষ করে যদি তারা দীর্ঘস্থায়ী শকে থাকে।
  • অস্বাভাবিক প্রকাশের মধ্যে রয়েছে হেপাটাইটিস,মায়োকার্ডাইটিস,প্যানক্রিয়াটাইটিস এবং এনসেফালাইটিস।

কনভালেসেন্ট ফেজ (সুস্থ হওয়া)

  • প্লাজমা লিকেজ কমে যাওয়ার সাথে সাথে রোগী সুস্থতার পর্যায়ে প্রবেশ করে
  •  এবং এক্সট্রাভাসেটেড ইন্ট্রাভেনাস ফ্লুইড এবং প্লুরাল এবং পেটের নিঃসরণ পুনরায় শোষণ করতে শুরু করে।
  • একজন রোগীর সুস্থতার উন্নতির সাথে সাথে, হেমোডাইনামিক অবস্থা স্থিতিশীল হয় (যদিও সে ব্র্যাডিকার্ডিয়া প্রকাশ করতে পারে), এবং ডায়ুরেসিস হয়।
  • রোগীর হেমাটোক্রিট স্থির হয়ে যায় বা পুনঃশোষিত তরলের তরল প্রভাবের কারণে পড়ে যেতে পারে।
  • হোয়াইট ব্লাড সেলের সংখ্যা সাধারণত বাড়তে শুরু করে,
  •  তারপরে প্লেটলেট সংখ্যাও পুনরুদ্ধার হয়।
  • কনভালেসেন্ট-ফেজ ফুসকুড়ি ক্ষয় হয়ে যেতে পারে এবং প্রুরিটিক হতে পারে।
  • ল্যাবরেটরির ফলাফলে সাধারণত লিউকোপেনিয়া, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া, হাইপোনাট্রেমিয়া, এলিভেটেড ও  সাধারণ এরিথ্রোসাইট  হার দেখা দিতে পারে। তবে এগুলো গুরতর কিছু নয়।

গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু

  • গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গুর মায়ের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে (রিলেটেডঃ গর্ভবতী হওয়ার লক্ষণ কি কি? আল্টিমেট গাইডলাইন)
  •  এবং বিকাশমান ভ্রূণের উপর মাতৃ সংক্রমণের প্রভাব বাড়ে
  • এসময়ে পেরিনেটাল ট্রান্সমিশন ঘটতে দেখা যায়
  •  এবং পেরিপার্টাম মায়েদের সংক্রমণ নবজাতকের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  • মেডিক্যাল টার্মে বর্ণিত ৪১ টি পেরিনেটাল ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে, থ্রোম্বোসাইটোপেনিয়ার বিকাশ বেশি ঘটতে দেখা যায়।
  •  বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যাসাইটস বা প্লুরাল ইফিউশন দ্বারা প্লাজমা ক্ষতিগ্রস্ত  হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়
  •  জ্বর কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকে।
  •  প্রায় ৪০% মায়েদের রক্তক্ষরণজনিত  সমস্যা দেখ দেয়
  • এবং প্রতি ৪ জনের মধ্যে ১ জনের হাইপোটেনশন সমস্যা হয়
  • জন্মগতভাবে সংক্রামিত নবজাতক সাধারণত জীবনের প্রথম সপ্তাহে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
  • ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে মাতৃ IgG-এর প্ল্যাসেন্টাল স্থানান্তর (আগের মাতৃ সংক্রমণ থেকে) ৬-১২ মাস বয়সে সংক্রামিত শিশুদের মধ্যে গুরুতর ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। (রিলেটেডঃ গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা, ১-১০ মাসের খাবার তালিকা)
  •  এসময়ে শিশুর অ্যান্টিবডিগুলির প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব হ্রাস পায়।

ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা

  • ডাক্তাররা ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে,প্রাথমিক স্টেজে  প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন।
  • ডেঙ্গু জ্বর হলে বেশি বেশি তরল খাদ্য খাওয়ার সাজেশন দেয়া হয়।
  • যেহেতু ডেঙ্গু জ্বর হলে অনেক মাথাব্যথা হয়, শরীর ব্যথা, চোখব্যথা হয়, ও মেরুদণ্ড ব্যথা হয়, এই ব্যাথার জন্য নাপা সেবন করা যায়
  • বেশি জটিলতা দেখা দিলে বা রোগীর শরীর লাল বর্নের র‍্যাশ দেখা দিলে আতংকিত না হয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন
  • কোনো রকম র‍্যাশ দেখা না দিলে,মাড়ির গোড়া দিয়ে রক্তপাতা দেখা না গেলে বুঝতে হবে জ্বর গুরুতর নয়।
  • শরীরে কোনো স্থানে প্রচণ্ড ব্যথা না থাকলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া বা হসপিটালে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। এবং বাসায় বিশ্রাম নিতে পারেন।
  • জ্বর গুরুতর না হলে বাসায় বসেই প্যারাসিটামল সেবন করুন। ও বেশি বেশি তরল খাদ্য গ্রহন করতে থাকুন।
  • আমরা জানি ডেঙ্গু হলে রোগীর শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। পানিশূন্যতা হলে  কিডনি ফেইলিউরের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এজন সুতরাং কিডনি ফেইলিউরের এড়াতে হলে ও শরীর স্বাভাবিক রাখতে হলে প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার ও পানি খেতে হবে।
  • বাসায় তৈরি করা ঠান্ডা শরবত, যেকোনো তাজা দেশি ফলের জুস খেতে পারেন।
  • এছড়াও ওরস্যালাইন খওয়ার পরামর্শ দেয় বিশেষজ্ঞরা।
  •  তাছাড়া কুসুম গরম পানি দিয়ে সারা শরীর মুছে নিতে পারেন।
  • যেহেতু ‘ডেঙ্গু মশা বেশিরভাগ সময়ে দিনের বেলা কামড়ায়। এজন্য বড় জামা পরার চেষ্টা করবেন। বাসায় হাফহাতা জামা পরা থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া বাইরে  হাফপ্যান্ট পরে চলাফেরা করা যাবে না। ফুল স্লিভ ও ফুল প্যান্ট পরে বাড়ির বাইরে বের হবেন।
  • যেহেতু বাচ্চাদের এই জ্বর বেশি হয় সেহেতু ওদেরকে দিনে ঘুমানোর সময়ে মশারির টানিয়ে ঘুমাতে দেয়ার চেষ্টা করবেন।
  • বাচ্চাদের কে অবশ্য বড় ও লম্বা হাতার জামা পড়িয়ে বাইরে পাঠাবেন এবং নিজেও পরার ট্রাই করবেন।
  • জমে থাকা পানিতে এডিস মশা জন্মায়। এজন্য পাঁচ সাত দিন পর পরই ফ্রিজের নিচের, এসির মধ্যে আটকে পড়া পানি পরিষ্কার করতে হবে।
  • বসায় ফুলের টব থাকলে ওখানে কোনো ময়লা পানি আটকে না থেকে সেদিকে খেয়াল রাখবেন।
  • সবসময়ে নিজেকে ও আশেপাশের পরিবপশকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখবেন।
  •  ডেঙ্গু প্রতিরোধে করার জন্য কমিউনিটি এফোর্ট অনিবার্য
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা
ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা

 কখন হাসপাতালে ভর্তি হবেন

রোগীর যদি-

  • ডেঙ্গু জ্বর ও সাথে মাড়িতে রক্তপাত দেখা যায়।
  • শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়,
  • হাত- পা ফুলে যায় ও এতে পানি চলে আসে,
  • পেটে ভারী হয় ও এতে পানি চলে আসে,
  • শরীরে কোন স্থানের রক্তপাত যদি  বন্ধ হয় না
  •  কিংবা শরীরে লাল লাল র‍্যাশ দেখা যায়,
  • এক পর্যায়ে এই র‍্যাশের পরিমাণ প্রচুর বেড়ে যায়,

এসব ক্ষেত্রে বিন্দুমাত্র দেরি করা যাবে না।অভিজ্ঞ  ডাক্তারের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নীরিক্ষা করাতে হবে। ডেঙ্গু জ্বর মূলত ৫ থেকে৭  দিনের মধ্যে কমতে দেখা যায়। কিন্তু ওপরে বর্নিত জটিলতা গুলোর কোনো একটিও দেখা দিলে।তখন রোগীকে অবশ্যই হসপিটালে নিয়ে যাবার পরামর্শ রইলো

ডেঙ্গু হলে কি খাবেন আর কি খাবেন না?

ডেঙ্গু জ্বরের সাথে জটিল উপসর্গ দেখতে পেলে খুব তাড়াতাড়ি ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে। তাছাড়া ডেঙ্গু জ্বর হলে রোগীর খাওয়া দাওয়ার ওপরেরও বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা ডেঙ্গু জ্বরে ভোগা রোগীদের জন্য বেশ কয়েটি খাবার নিয়মিত খেতে পরামর্শ দিয়েছেন। সাথে সাথে এমন কয়েকটি খাবার আছে যেগুলো এড়িয়ে চলতেও বলেছেন।তাই দেখে নিন, ডেঙ্গু হলে কোন কোন  খাবার বেশি বেশি খাবেন।আর কোন কোন খাবার গুলো পরিহার করবেন –

ডেঙ্গু হলে যেসব খাবার খেতে হবে

কমলার রস

ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে কমলা খুব ভালো কাজে করে। কমলার রসে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি পাওয়া যায়৷ তাছাড়াও আছে অনেক বেশি এন্টিঅক্সিডেন্ট। এই দুটি উপাদান ই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর জন্য খুব উপকারী। এরা আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম। ফলে জ্বর খুব দ্রুত কমে যায় কমলা ও কমলার রস গ্রহন করলে। (রিলেটেডঃ ভিটামিন সি জাতীয় খাবার তালিকা)

ডাবের পানি

ডেঙ্গুর জ্বর হলে রোগীর শরীরে পানি কমে যায়৷ অর্থাৎ রোগীর ডিহাইড্রেশন দেখা যায়। এসময়ে রোগীর উচিত প্রচুর পানি পান করা। তাছাড়া শুধু পানি পান করলেই চলবে না৷ ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ হতে হবে৷ এজন্য ডাবের পানি এক কথায় বেস্ট অপশন। যেহেতু ডাবের পানিতে প্রচুর ইলেক্ট্রোলাইটস ও পুষ্টি উপাদান রয়েছ।ডাবের পানি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর জন্য খুবই কার্যকর একটি তরল খাবার।

ডালিম

আমরা জানি ডেঙ্গু হলে অনেক বেশি ভিটামিন জাতীয় খাবার খেতে হয়।ডালিমে অনেক রকমের ভাইটাল নিউট্রিয়েন্ট রয়েছে।যেগুলো আপনার শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারী ও পুষ্টি গুন সমৃদ্ধ। তাছাড়া ডালিমে অনেক রকমের খনিজ উপাদান ও রয়েছে যা রোগীর জন্য অনেক বেশি উপকারী। এছড়াও ডালিমে গ্রহন করলে রক্তে কনিকা বাড়ে।আর রক্তশূন্যতা কমাতেও এটি সহায়তা করে। কারণে ডালিম খেলে  প্লেটলেটের সংখ্যাও বাড়ে।আরো মজার বিষয় হল ডালিম খেলে রোগীর দূর্বলতা ও অবসাদ কেটে যায়। ক্লান্তি অনুভূতিও দূর হয়।সেই প্রাচীন কাল থেকেই ডালিম ফল অনেক রকম রোগ নিরাময়ের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

পেঁপে পাতার জুস

শুনতে অবাক লাগলেও পেঁপে পাতার জুস কিন্তু খুবই উপকারী একটি খবার বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য৷আমরা জানি একজন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে প্লাটিলেট কমে যায়।ফলে তার রক্ত সঞ্চার বাড়ানোর দরকার হয়৷

পেঁপে পাতায় অনেক রকমের এনজাইম আছে যা আপনার প্লাটিলেট বাড়াতে সাহায্য করে। এতে আছে কিমোপেইন ও পাপাইন এনজাইম।এগুলে শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারি বিশেষ করে রক্তশূন্যতা কমাতে ব্যপক কাজে দেয়।ডাক্তার রা প্রতি দিন ৩০ মিলি লিটার পেপে পতারা জুস খাওয়ার পরামর্শ দেয়। আর এই জুস ঘরে বসেই বানানো যায় যেহেতু এটি সহজলভ্য।

মেথি

জ্বর কমাতে মেথি একটি প্রাচীন উপাদান। মেথির তেল আপনার মাথা ঠান্ডা করে এবং শরীরের শীতলতা প্রদান করে। মেথি রোগীকে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তেও সাহায্য করে। তাছাড়া রোগীর বেশি জ্বর থাকলেও তা কমিয়ে আনা সম্ভব মেথির গুনে। তবে মেথি এমন একটি উপাদান যা সবার জন্য উপযুক্ত নয়। অনেক সময়ে রোগী মেথির তীব্র গন্ধ নিতে পারে না। তাই মেথির ইউজ করার আগে ডাক্তার কে একবার হলেও জিগেস করে নেয়া উচিত। (রিলেটেডঃ মেথির উপকারিতা ও অপকারিতা)

মেথি (Fenugreek)
মেথি (Fenugreek) (Photo Source: www.gettyimages.com/)

হলুদ

ডেঙ্গু জ্বর কমানোর জন্য হলুদ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। হলুদে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। এগুলো জ্বর কমাতে অনেক কাজে দেয়। তাছাড়া দূধের সাথে হলুদ মিক্স করে পান করলে পাবেন অনেক উপকারীতা। খুব দ্রুতই এই ড্রিংকসটি আপনার জ্বর কমিয়ে দিতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি হলুদ আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে সহায়তা করবে। (রিলেটেডঃ হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা)

ব্রুকলি

ব্রকলি কিন্তু ডেঙ্গু জ্বর কমাতে অনেক বেশি উপকার করে। ব্রকলি তে আছে অনেক অনেক ভিটামিন কে। এটি রক্তের প্লাটিলেট সংখ্যা বাড়াতে খুব কাজে দেয়। তাছাড়া এতে আছে অনেক এন্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

গর্ভবতী মায়ের জন্য ব্রুকলি
ফটোঃ ব্রুকলি

কিউইফল

কিউইফল ডেঙ্গু জ্বর কমাতে সাহায্য করে। এতে অনেক ভিটামিন থাকে। তাছাড়া এই ফলে পটাশিয়ামও থাকে। এই পটাশিয়াম রোগীর শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট এর পরিমান বাড়ায়৷ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।আপনার শরীরে লোহিত রক্ত কণিকার পরিমান বৃদ্ধি করে। আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও দ্রুত সুস্থ করে।

পালংশাক

পালংশাকে পাওয়া যায় ওমেগো-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও আয়রন। পালংশাক আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ সিস্টেম কে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলে। আপনার রক্তের প্লাটিলেট খুব দ্রুত বাড়তে থাকে। তাই ডেঙ্গু জ্বর আক্রান্ত রোগীর অনেক বেশি বেশি পালং শাক খেতে হবে। তবে এটি ভাল ভাবে সিদ্ধ ও রান্না করে খেতে হবে। তা না হলে নিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যাবে না৷

ডেঙ্গু জ্বর হলে যে খাবারগুলো খাবেন না

ভাজাপোড়া ও বেশি তেল যুক্ত খাবার: একজন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর অবশ্যই তেল যুক্ত ও অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করতে হবে।কারণ এসব খাবার আপনার উচ্চ রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।তাই তেল ছাড়া বা কম তেল যুক্ত খাবার খেতে হবে।

অতিরিক্ত মসলাদার খাবার

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীকে অতিরিক্ত মসলাদার খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এ সময়ে এ ধরনের খাবার অতিরিক্ত খেলে স্টোমাক ওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরফলে পার্মানেন্ট কোনো ইনজুরি হতে পারে।

ক্যাফিন জাতীয় খাবার

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর অবশ্যই তরল খাবার তুলনামূলক ভাবে বেশি খেতে হবে। তাই বলে ক্যাফিনযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।কারণ এই ধরনের খাবার আপনার হার্ট রেট বৃদ্ধি করে দেয়।ফলে আপনার মধ্যে ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করে।তাই এগুলো অবশ্যই এড়িয়ে চলার পরামর্শ রইলো।

ডেঙ্গু এড়িয়ে চলার কৌশল

আপনি কি জানেন বাংলাদেশে প্রায় ১২৩ প্রজাতির মশা আছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।আর শুধু মাত্র ঢাকাতেই ১৪ এর মত প্রজাতির মশা আছে বলে ধারণা করা হয়। তাই মশার উপদ্রব কন্ট্রেল করতে গেলে মশার আলাদা প্রজাতি ও মশার আচরণ ভেদে কন্ট্রোল করার  আলাদা ব্যবস্থা নিতে হবে। আর এডিস মশার সঠিক নিয়ন্ত্রণ এর জন্য দরকার হবে সমন্বিত ম্যানেজমেন্ট এর।


ডেংগু জ্বরের লক্ষণ ও প্রতিকার

সমন্বিত উপায়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ

সমন্বিত ম্যানেজমেন্ট এর ৪ টি ধাপ রয়েছে।

  • সবার প্রথমে এডিস মশার প্রজননস্থল খুঁজে বের করা এবং এগুলো ধ্বংস করা।
  •  এরপর আসে, জীবজ নিয়ন্ত্রণের ধাপ। অর্থাৎ বিভিন্ন উপকারী জীবের সাহায্য নিয়ে মশাকে নিয়ন্ত্রণ করা। এর বিভিন্ন পদ্ধতি সারা বিশ্বে প্রচলিত আছে।
  • তৃতীয়ত, মশা কন্ট্রোল করার জন্য লার্ভিসাইড এবং অ্যাডাল্টিসাইড ইনসেকটিসাইড ব্যবহার করতে হবে।
  • আর সবার শেষে দরকার জনগণের সম্পৃক্ততা। কারণ সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া মশা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর।তাই মশা নিধনের জন্য জনগণকেও স্বতস্ফুর্ত ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

সমন্বিত মশা নিধনের জন্য প্রতিটি সিটি করপোরেশনের সমস্ত ওয়ার্ডকে টোটাল ১০টি ব্লকে বিভক্ত করার পরামর্শ দেয় বিশেষজ্ঞ রা। এবং প্রতিটি ব্লকের জন্য একজন করে এন্টোমলজি বিশেষজ্ঞ, কয়েকজন স্প্রেম্যান, ও বেশ কিছু ক্লিনার রাখতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সুষ্ঠু ভাবে কাজ করার জন্য একজন করে ওয়ার্ড সুপারভাইজার থাকবেন।আর অবশ্যই মশা নিধনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য এক্সপেরিয়েন্সড কীটতত্ত্ববিদ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই সম্মিলিত প্রচেষ্টা থেকে মশা নিধনের সফল হবে।

ব্যক্তিগত ভাবে ডেঙ্গু জ্বরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা

সরকারি ভাবে মশা নিধনের জন্য যেসব কর্মসূচি পালন করা হয়, সেখানে প্রতি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মশা নিরোধন সম্ভব নয়। সেখানে একটি নির্দিষ্ট এলাকা ভিত্তিক কাজ করা হয়। কিন্তু আপনার বাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা আপনার বাড়ির ছাদের মশা নিরোধনের কাজ আপনাকেই করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি যদি ব্যক্তি পর্যায় থেকে সকলে মশা নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে না আসে তাহলে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গুর মত মশাবাহী ভাইরাস ছড়াতেই থাকবে।

আপনি কিভাবে আপনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ভেদে মশা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারবেন সেগুলো দেখে নিন-

১. আমরা জানি দিনের বেলা এডিস মশা তুলনামূলক বেশি আক্রমণ করে।এজন্যই দিনে ঘুমাতে চাইলে মশারি ব্যবহার করুন।তাছাড়া ডেঙ্গুর প্রকোপ যেসব সিজনে বেশি থাকে ওই সময়ে বাসায় অবস্থান করুন এবং মশার নিয়ন্ত্রণের উপায় অবলম্বন করুন।

২. বসতবাড়ি, হসপিটাল,অফিস,স্কুল,এর আশেপাশে ও সমস্ত আনাচ-কানাচে মশার মারার স্প্রে বা মেডিসিন ছিটানোর ব্যবস্থা করুন।কোনো ভাবেই মশার আশ্রয়স্থল তৈরি করা যাবে না।

৩. ঘরের জানলা, দরজায়, বারান্দায় ও  ভেন্টিলেট গুলোতে মশানিরোধক নেট ইউজ করার চেষ্টা করুন।

৪. আপনার শিশুর স্কুলের ড্রেসের হাতা শর্ট না করে ফুলহাতা রাখার ট্রাই করুন।বাচ্চাকে ফুলপ্যান্ট,ও জুতা মোজা পরিয়ে বাইরে পাঠান। তাহলে ওরা এডিস মশার কামড় থেকে বাঁচতে পারবে।

৫. আপনারর বাড়ির আশেপাশে কোনো পরিত্যক্ত পানীয়,ক্যান, বোতল,টিনের কৌটা, মাটির কলস,পট, পাত্র, বোতল, নারকেলের খোসা তে পানি জমে থাকলে সেগুলো পরিষ্কার করে ফেলুন।মোটকথা ময়লা পানি আটকে রাখে এমন সব রকম বস্তু ধ্বংস করে ফেলুন বা পরিস্কার করিয়ে নিন।নিয়মিত বাড়ির আনাচে কানাচে পর্যবেক্ষণ করুন।

৬. বাথরুমে, বালতিতে, গ্লাসে, ড্রামে, গর্ত,

প্লাস্টিক পটে ও সিমেন্টের ট্যাংক কিংবা মাটির ফুটোয় তিন দিনের বেশি পানি কোনো ভাবেই আটকে বা জমিয়ে রাখবেন না।তাছাড়া পরিস্কার ও স্থির পানিতে এডিস মশা বেশি বংশ বিস্তার করবে। তাই পরিস্কার হলেও পানি ধরে রাখবেন না৷

৭. পরিত্যক্ত টায়ারে যেন পানি না আটকাতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৮. আপনার বাড়ির ফ্রিজের নিচে,এসির মধ্যে,ছদের টবে অল্প পরিমাণ পানি জমলেও তা ফেলে দিতে হবে।

পরিশেষে

ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ গুলো থেকে বুঝতেই পারছেন এই রোগ একজন ব্যক্তিকে কতটা ভোগায়৷ আর আপনি যদি কখনও ভুগে থাকেন তাহলে আপনি ভালই অভিজ্ঞ পেয়েছেন। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই। তবে একক প্রচেষ্টায় কোনো ভাবেই এটি সম্পূর্ণ কন্ট্রোলে আনা পসিবল না।

তাই চেষ্টা করুন সরকারি মশা নিরোধন কর্মসূচির সাথে কোঅপরেট করতে। এবং নিজেও ব্যক্তিগত ভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে। আর অবশ্যই নিয়মিত ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ গুলো পর্যবেক্ষণ করুন। যাতে আপনার বা পরিবারের কারো ডেঙ্গু হলে দ্রুত শনাক্ত করতে পারেন এবং যথাসময়ে চিকিৎসা নিতে পারেন। এবং ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ বা ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

বিঃদ্রঃ  এই ব্লগের প্রত্যেকটা ব্লগ পোস্ট Sylhetism ব্লগের নিজস্ব ডিজিটাল সম্পদ। কেউ ব্লগের কোন পোস্ট কিংবা আংশিক অংশ ব্লগের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কপি পেস্ট করে অন্য কোথাও প্রকাশ করলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার অধিকার রাখে। এবং অবশ্যই কপিরাইট ক্লাইম করে যে মাধ্যমে এই ব্লগের পোস্ট প্রকাশ করা হবে সেখানেও কমপ্লেইন করা হবে।

এই ব্লগের কোন লেখায় তথ্যগত কোন ভুল থাকলে আমাদের Contact পেইজে সরাসরি যোগাযোগ করুন, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তথ্য যাচাই করে লেখা আপডেট করে দিবো।

এই ব্লগের কোন স্বাস্থ বিষয়ক পোস্টের পরামর্শ নিজের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের মতামত নিবেন, আমরা স্বাস্থ বিষয়ে কোন বিশেষজ্ঞ না, আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ হচ্ছে সঠিক তথ্য পরিবেশন করা। সুতারাং কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার অবশ্যই আমরা নিবো না।

You cannot copy content of this page