ডুমুর ফল এর উপকারিতা ও অপকারিতা ২০২২

ডুমুর ফল

ডুমুর বা ত্বীন (Fig) অযত্নে বেড়ে ওঠা নরম, মিষ্টি একটি ফল। এই ফল প্রায় সবারই চেনা, বনে, ঝোপ ঝাড়ের আশেপাশে এই ফলের গাছটি প্রায়শই দেখা যায়। ডুমুর কাঠজাতীয় গাছের একটি প্রজাতি।এই প্রজাতির গাছ,লতাসহ একত্রে ডুমুর গাছ বা ডুমুর নামে পরিচিত। ডুমুর নরম ও মিষ্টি স্বাদযুক্ত একটি ফল। এই ফলের আবরণ সাধারণত পাতলা হয়ে থাকে এবং এর ভেতরে অনেক ছোট ছোট বীজ থাকে। এই ফল শুকনো ও পাকা উভয় অবস্থায় খাওয়া যায়। চাটনি হিসেবে বা স্ন্যাক্স জাতীয় খাবারে ডুমুর ব্যবহার করা হয়। তো যাইহোক, এই লেখাতে আমরা আজকে জানবো উপকারি ডুমুর ফল এর উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত।

বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস

চলুন দেখে নেই ডুমুর ফলের বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাসঃ

জগৎ
Plantae
শ্রেণীবিহীন
Angiosperms
শ্রেণীবিহীন
Eudicots
শ্রেণীবিহীন
Rosids
বর্গ
Rosales
পরিবার
Moraceae
গোত্র
Ficeae Gaudich
গণ
Ficus L.
গাছে ডুমুর ফল
গাছে ডুমুর ফল

প্রাপ্তিস্থান

ডুমুরের আদি নিবাস মধ্যপ্রাচ্য। উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলে এ প্রজাতির গাছ জন্মে। এই গাছ যেখানে সেখানে অযত্নে ব্যাপকহারে গজিয়ে ওঠে। গাছ তুলনামূলকভাবে ছোট আকৃতির হয়। এই গাছ এশিয়ার অনেক অঞ্চলে এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায়। মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্জির নামক এক প্রকার ডুমুর পাওয়া যায়। এছাড়াও মিশর, মরক্কো, আলজেরিয়া, ইরান এবং সিরিয়ায় ও ডুমুর পাওয়া যায়।

ডুমুর ফল বাংলাদেশে কোথায় পাওয়া যায়?

  • রাজশাহী,বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  • পার্বত্য এলাকার খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি
  • সিলেটের মৌলভীবাজার
  • টাঙ্গাইল

ডুমুরের প্রকারভেদ

প্রায় ৮০০ প্রজাতির ডুমুর রয়েছে। বাংলাদেশে সাধারণত যে ডুমুর পাওয়া যায় (Ficus hispida) তার ফল ছোট হয়ে থাকে এবং এটি খাওয়ার অনুপযোগী। এই ডুমুরের আরেক নাম ‘কাকডুমুর’। এই ডুমুর সাধারণত পাখিরা খায় এবং পাখির বিষ্ঠার মাধ্যমে বীজের বিস্তার হয়। কিছু কিছু জায়গায়এই ডুমুর দিয়ে তরকারি রান্না করে খাওয়া হয়। এই  জাতীয় ডুমুরের পাতা শিরিশ কাগজের মত খসখসে। এর ফল গাছের কান্ডের গায়ে থোকায় থোকায় লেগে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যে যে ধরনের ডুমুর (আঞ্জির) পাওয়া যায় (Ficus carica) তার ফল আকারে বড় হয় এবং এটি ফল হিসেবে খাওয়া হয়। বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হয় আফগানিস্তান থেকে পর্তুগাল। জগডুমুর বা যজ্ঞডুমুর (বৈজ্ঞানিক নাম-Ficus racemosa) নামে এক প্রজাতির ডুমুর রয়েছে,তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়।অশ্বত্থ বা পিপল (বৈজ্ঞানিক নাম -Ficus religiosa) নামে বটগোত্রীয় আরেকটি ডুমুর জাতীয় গাছ আছে।

উল্লেখিত প্রজাতির বাইরের আরো প্রজাতির ডুমুর রয়েছে।

বিভিন্ন ভাষায় ডুমুরের নাম সমূহ –

বাংলায় : ডুমুর

ইংরেজি : Fig

আরবি : ত্বীন

হিন্দি, উর্দু, ফারসি, মারাঠি : আঞ্জির

বিভিন্ন ধর্মে ডুমুরের গুরুত্ব

  • ইসলাম ধর্ম – কুরআনে ‘ত্বীন’ (আঞ্জির) নামে একটি সূরা রয়েছে। সূরায় এই ফলকে আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত রূপে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • সনাতন বা হিন্দু ধর্ম – হিন্দু ধর্মে অশ্বত্থ (ডুমুর জাতীয় গাছ) একটি ধর্মীয় পবিত্র গাছ।
  • খ্রিস্টান ধর্ম – বাইবেলে বলা হয়েছে, ক্ষুধার্ত যীশু একটি ডুমুর (আঞ্জির) গাছ দেখেন কিন্তু সেখানে কোনো ফল ছিল না, তাই তিনি গাছটিকে অভিশাপ দিয়েছিলেন।
  • বৌদ্ধ ধর্ম – এই ধর্মেও ডুমুর গাছকে পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়। গৌতম বুদ্ধ যে বৃক্ষতলে মোক্ষ লাভ করেন তা ছিল একটি অশ্বত্থ গাছ, এই অশ্বত্থ গাছ একটা ডুমুর জাতীয় গাছ (Ficus religiosa)।
ডুমুর ফল এর উপকারিতা
কাচা অবস্থায় ডুমুর ফল

ডুমুর ফলের গুনাগুন

প্রতি ১০০ গ্রাম ডুমুরের পুষ্টিগুন নিচে দেওয়া হলোঃ

উপাদান
পরিমান
খাদ্যশক্তি
৩৭ কিলোক্যালরি
জলীয় অংশ
৮৮.১১ গ্রাম
খনিজ পদার্থ
০.৬ গ্রাম
আঁশ / ফাইবার
২.২ গ্রাম
আমিষ
১.৩ গ্রাম
চর্বি
০.২ গ্রাম
শর্করা
৭.৬ গ্রাম
ক্যালসিয়াম (Ca)
৮০ মিলি গ্রাম
লৌহ (Fe)
১.১ মিলি গ্রাম
ক্যারোটিন
১৬২ মিলি গ্রাম
ভিটামিন বি১
০.০৬ মিলি গ্রাম
ভিটামিন বি২
০.০৫ মিলি গ্রাম
৫ মিলি গ্রাম
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড
Omega 3 fatty acid
পটাশিয়াম
(K)
ফসফরাস
(P)
ম্যাংগানিজ
(Mn)
কপার
(Cu)
ম্যাগনেসিয়াম
(Mg)

ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম

এবার চলুন দেখে নেই ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়মঃ

  • ডুমুরের কাঁচা ফল উন্নত সবজি। শুধু ডুমুর অথবার অন্যান্য সবজির সঙ্গে মিলিয়ে ডুমুর ভাজি করা যায়।
  • ডুমুরের ভর্তা উপাদেয় খাদ্য।
  • ছোট মাছের সঙ্গে ডুমুরের ঝোল চচ্চরি।
  • ডুমুর শুকিয়ে অন্যান্য শুকনো ফলের সাথে খাওয়া যায়। (Dry fruits হিসেবে)।
  • ডুমুরের কাঁচা বা পাকা ফল।
  • ডুমুরের পাতা, বাকল, মূল, নির্যাস বিভিন্ন ওষুধ তৈরিতে।

ডুমুর ফল এর উপকারিতা

ডুমুর ফল এর উপকারিতা অনেক, চলুন দেখে নেই সঠিকভাবে ডুমুর ফলের ব্যবহারের ফলে আমরা কি কি উপকার পেতে পারি

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

ডুমুরে আছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার বা আশ। ফাইবার হজমে সাহায্য করার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। ডায়রিয়াসহ অন্যান্য পেটের সমস্যা রোধ করে। ডুমুর পাইলসের সমস্যার ও সমাধান করে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

শরীরের মেদ কমানোর জন্য ডুমুর খুবই উপকারী। ডুমুরের ফাইবার মেটাবলিজমকে ঠিক রাখে এবং শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতে দেয় না। এছাড়াও ডুমুরে রয়েছে ওমেগা থি ফ্যাটি এসিড যা ওজন কমাতে সহায়ক। রিলেটেডঃ ওজন কমানোর উপায়

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে

নিয়মিত ও পরিমানমত  ডুমুর ফল খেলে আমাদের শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে, ফলে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশে কমে আসে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ

ডুমুরে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ফ্রি র‍্যাডিকেলস নষ্ট করে।ফলে হৃদ রোগের ঝুকি কমে। শুকনো ডুমুর রক্তের ট্রাইগ্লিসারিডস কমায়।

হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখে

রক্তে আয়রনের পরিমান কমে গেলে রক্তশুন্যতা দেখা দেয়। ডুমুর আয়রন সমৃদ্ধ একটি ফল।ডুমুর রক্তের আয়রন ও হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখে।

ত্বকের জন্য উপকারী

ডুমুর সুস্বাদু স্বাদবিশিষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এতে অনেক ওষুধি গুন ও রয়েছে। ডুমুর ত্বক ভালো রাখে এবং ত্বকে ফোঁড়া ও চর্মরোগ নিরাময়ে কাজ করে। ডুমুর ব্যবহারের চর্মের বিবর্ণতা দূর হয়। ডুমুর গাছের ছাল সিদ্ধ করে সেই পানি দিয়ে ত্বক ধুলে চর্মের বিবর্ণতা দূর হয়, শ্বেতী রোগের ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। ডুমুুরের পেস্ট মুখে মাখলে তা ব্রণ প্রতিরোধে সাহায্য করে। কাঁচা ডুমুর দিয়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফেস মাস্ক তৈরি পারেন। চাইলে ময়েশ্চারাইজিং এর জন্য ১ টেবিল চামচ দই যোগ করুন যোগ করুন। মাস্কটি ১৯ ​​থেকে ১৫ মিনিটের জন্য মুখে রেখে দিন এবং হালকা গরম পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে ফেলুন।দই এবং ডুমুরের পেস্ট ত্বকে লাগালে ত্বক দেখতে প্রানবন্ত লাগে। কিন্তু যদি ডুমুরের ক্ষীর বা কসে আপনার  অ্যালার্জি থেকে থাকে তবে আপনার ত্বকে ডুমুর ব্যবহার করবেন না।

গোখাদ্যে ডুমুরের পাতা

ডুমুরের ফল সবজি বা ফল হিসেবে খাওয়া তো যায়। এ ছাড়াও ডুমুরের পাতা গো খাদ্য হিসেবে ও ব্যবহার করা হয়। শিং ও মাগুর মাছ পরিষ্কার করা অনেক কষ্টসাধ্য। কিন্তু ডুমুর গাছের পাতা দিয়ে শিং ও মাগুর মাছ খুব সহজেই পরিষ্কার করা যায়।

টিউমার প্রতিরোধে

ডুমুরে রয়েছে ক্যারোটিন,ক্যালসিয়াম ও ক্যালরি। ডুমুর টিউমার ও অন্যান্য অস্বাভাবিক শারীরিক কোষীয় বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে।

ডায়বেটিসের জন্য উপকারী

নিয়মিত ডুমুর খেলে ইনসুলিনের মাত্রা স্বাভাবিক হতে থাকে। এতে করে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। রিলেটেডঃ ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল? ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

 

যৌনশক্তি বৃদ্ধি করে

যৌনশক্তি বৃদ্ধিতে ডুমুর অতি কার্যকরী। নিয়মিত ডুমুর খেলে শুক্রাণুর পরিমান বৃদ্ধি পায় এবং যৌনশক্তি বৃদ্ধি পায়। ডুমুরে থাকে ম্যাগনেসিয়াম, দস্তা এবং ম্যাঙ্গানিজ যা উর্বরতা বজায় রাখে। ডুমুর দুধে ভিজিয়ে  আরো কিছু উপায়ে খাওয়া যায়।

হার্ট  সুস্থ রাখে

গবেষণা থেকে  জানা গেছে, ডুমুর ও ডুমুরের পাতা ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম, এর ফলশ্রুতিতে হার্ট ভালো থাকে। ট্রাইগ্লিসারাইড হৃদরোগের জন্য দায়ী, ট্রাইগ্লিসারাইড রক্তনালীতে রক্ত জমাট করে ফেলতে পারে যার ফলে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ডুমুর এই ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং হার্টকে সুস্থ রাখে।

পরিপাক শক্তি বৃদ্ধি

চার কাপ পানিতে ডুমুরের শুষ্ক ছাল থেঁতো করে জ্বাল দিয়ে এক কাপ হলে নামিয়ে ছেঁকে ওই পানি খেলে পরিপাক শক্তি বাড়ে এবং হজমের সমস্যা দূর হয়।

ফোঁড়া পাকাতে

ডুমুর দুধের সাথে সিদ্ধ করে ফোঁড়ার উপর প্রলেপ লাগালে শরীরের ফোঁড়া পেকে যায়। দ্রুত ফোঁড়ার যন্ত্রনা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।

বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণ করে

ডুমুরে পর্যাপ্ত পরিমানে লোহা, ইস্ট্রোজেন ইত্যাদি থাকার ফলে ডুমুর বয়সের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এটি হরমোনগুলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং শরীরের শক্তিও বাড়িয়ে তুলে।

অপুষ্টি দূর করতে

অপুষ্টিজনিত সমস্যা দূর করতে  কাঁচা ডুমুরের রস দিনে দু-এক বার খাওয়ার পর সেবনে ভাল ফল পাওয়া যাবে। ডুমুরে ভিটামিন বি ও লৌহ থাকে যা রক্তশুন্যতার সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে

স্তন ক্যান্সারে ঝুকি কমায়

মেনোপজের পর স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুকি বাড়ে। পুষ্টিবিদদের মতে,ডুমুর স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ

ডুমুরে উপস্থিত ক্লোরোজেনিক এসিড রক্তের শর্করার মাত্রা হ্রাস করে। এছাড়াও ডুমুর মধ্যে প্রচুর পরিমানে পটাসিয়াম থাকায় তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।

হাড় মজবুত করে

হাড় মজবুত করতে প্রয়োজন ক্যালসিয়াম। ডুমুর হলো ক্যালসিয়ামের একটি প্রাকৃতিক উৎস।পরিমিত পরিমানে ডুমুর খেলে শরিরের প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পুরন হবে।

কিডনির পাথর প্রতিরোধ করে

ডুমুর পানিতে ফুটিয়ে নিন এবং সেই পানি পান করুন।এই পানি কিডনির পাথর হওয়া প্রতিরোধ করে। ডুমুর কিডনি ও লিভারের ক্ষতিকর দূষিত পদার্থ শরির থেকে বের করতে সহায়তা করে।

কিডনি রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার
কিডনির অবস্থান

চুলের যত্নে ডুমুর

অনেক শ্যাম্পু, কন্ডিশনারে ডুমুর একটি প্রধান উপাদান। ডুমুর চুলের গোড়া মজবুত করে, চুল সফট এবং সুন্দর করে। এটি চুলের বৃদ্ধি ঘটাতেও সাহায্য করে। ডুমুরে রয়েছে জিংক ও কপার যা চুল পরা রোধে সাহায্য করে। এছাড়াও জিংক নতুন করে চুল গজাতে সাহায্য করে। ডুমুরে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সমূহ  চুলের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ।

চোখের যত্নে

ডুমুর ভিটামিন এ একটা উৎকৃষ্ট উৎস। ভিটামিন এ চোখ সুস্থ রাখে, রাতকানা রোগ থেকে মুক্তি দেয়।বয়সজনিত কারণে চোখের কিছু সমস্যা হয়, ডুমুর এসব সমস্যা রোধে সহায়ক

ভালো ঘুমের ক্ষেত্রে

মেলাটোনিন নামক এক ধরণের হরমোন আছে যা আমাদের ঘুমের ছন্দ বজায় রাখে জন্য দায়ী। অ্যামিনো অ্যাসিড ট্রিপ্টোফান এর একটা উত্তম উৎস হল ডুমুর যা শরীরের মেলাটোনিনের মাত্রা বাড়ানোর ক্ষমতা রাখে। এই ট্রিপ্টোফান মেলাটোনিন ব্যালান্স করতে সাহায্য করে এবং ঘুমের মাত্রা ঠিক রাখে। তাছাড়া ডুমুর ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ, ম্যাগনেসিয়াম রাতে ভালো ঘুম হওয়ায় সহায়তা করে। এইসব হরমোন মস্তিস্ক ঠান্ডা রাখে এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

অর্শ্ব রোগ প্রতিরোধে

অর্শ্ব রোগে মলদ্বারের ভিতর অথবা চারপাশে প্রদাহ হয়  যা মলত্যাগের সময় যন্ত্রণা এবং রক্তপাত ঘটায়।ফাইবার বা আঁশ সমৃদ্ধ খাদ্য এই রোগের ঝুকি কমায়। ডুমুরে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার থাকে তাই অর্শ্ব রোগের আশংকা অনেকটা কমে যায়।

ডুমুর খাওয়ার উপায়

  • সূর্যের তাপে শুকিয়ে সারা বছর শুকনো ডুমুর সংরক্ষণ করতে পারেন।এটিকে ড্রাই ফ্রুট (Dry fruit) হিসেবে খাওয়া যাবে।
  • ডুমুর ও দুধের শরবত খাওয়া যায়।কিছু ডুমুর ভিজিয়ে রেখে তার সাথে দুধ মিশিয়ে শরবত বানানো যায়।
  • আপনি ডুমুর কেটে সালাদ বানিয়েও খেতে পারেন।
  • ডুমুর মিষ্টি খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।এটি ডুমুরকে আরো সুস্বাদু করে তোলে। বরফী, পায়েসের মত আরো কিছু মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের সাথে ডুমুর মিশিয়ে খাওয়া যায়।
  • ডুমুর বানিজ্যিক ভাবে ইন্সট্যান্ট কফি হিসেবেও পাওয়া যায়।

শুকনো ডুমুর ও টাটকা ডুমুর

শুকনো ও টাটকা ডুমুরের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। শুকনো ডুমুরে ফেনোলিক উপাদানগুলো এবং অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট গুণগুলি টাটকা ডুমুরের থেকে অনেক বেশি পরিমানে পাওয়া যায়।

প্রতিদিন ডুমুর খাওয়ার পরিমান

৩-৫ টা ডুমুর বা ৪০ গ্রাম ডুমুর খাওয়া ভালো।শরিরের ধরন, বয়স, রোগ ইত্যাদি অনুযায়ী এই মাত্রা বাড়তে পারে। তবে প্রতিদিন ৪০ গ্রাম ডুমুর খাওয়া নিরাপদ।


ডুমুর ফলের উপকারিতা | ডুমুরের গুণাগুণ | dumurer upokarita | ডুমুর ফল খাওয়ার নিয়ম

ডুমুরের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি

নিচে ডুমুর ফলের ডুমুর ফল এর অপকারিতা দেওয়া হলোঃ

  • কারো কারো ডুমুরের আঠা বা কসে এলার্জি হতে পারে। রিলেটেডঃ এলার্জি দূর করার উপায়
  • বেশি পরিমানে ডুমুর খেলে পেট খারাপ হতে পারে।
  • কিছু ওষুধের সাথে ডুমুর প্রতিক্রিয়া করতে পারে।
  • অনেক সময় ডুমুর রক্ত পাতলা করে ফেলতে পারে। তাই অস্ত্রোপচারের আগে ডুমুর না খাওয়াই উত্তম।

ডুমুর ফলের উপকারিতা অগনিত। ডুমুরে থাকা প্রত্যেকটি প্রাকৃতিক উপাদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবুও বরাবরের মত বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে ডুমুর ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার অনুরোধ রইলো।

বিঃদ্রঃ  এই ব্লগের প্রত্যেকটা ব্লগ পোস্ট Sylhetism ব্লগের নিজস্ব ডিজিটাল সম্পদ। কেউ ব্লগের কোন পোস্ট কিংবা আংশিক অংশ ব্লগের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কপি পেস্ট করে অন্য কোথাও প্রকাশ করলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার অধিকার রাখে। এবং অবশ্যই কপিরাইট ক্লাইম করে যে মাধ্যমে এই ব্লগের পোস্ট প্রকাশ করা হবে সেখানেও কমপ্লেইন করা হবে।

Sylhetism ব্লগের কোন লেখায় তথ্যগত কোন ভুল থাকলে আমাদের Contact পেইজে সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তথ্য যাচাই করে লেখা আপডেট করে দিবো।

Sylhetism ব্লগের কোন স্বাস্থ বিষয়ক পোস্টের পরামর্শ নিজের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের মতামত নিবেন, আমরা স্বাস্থ বিষয়ে কোন বিশেষজ্ঞ না, আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ হচ্ছে সঠিক তথ্য পরিবেশন করা। সুতারাং কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার অবশ্যই আমরা নিতে পারবো না।

ধন্যবাদ, ব্লগ কর্তৃপক্ষ।

Author

You cannot copy content of this page