এজেন্ট ব্যাংকিং কি? এজেন্ট ব্যাংকিং এর সুবিধা ও অসুবিধা

এজেন্ট ব্যাংকিং

এজেন্ট ব্যাংকিং মানে হচ্ছে একটি সীমিত আকারের ব্যাংকিং এবং আর্থিক সেবা প্রদানকারী একটি সংস্থা। এটি একটি ছোট পরিসরে  ব্যাংকিং লেনদেন ব্যবস্থা। সহজ করে বললে সরাসরি ব্যাংকিং সেবা থেকে যারা অনেক দূরে বা সরাসরি ব্যাংকিং এর ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে চান তাদের জন্যই ব্যাংকিং এক বিশেষ ব্যবস্থাকে এজেন্ট ব্যাংকিং বলা হয়।

ইতিহাস

এই  ব্যাংকিং সিস্টেম বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশ থেকে প্রচলিত হয়েছে। ব্রাজিলই প্রাথমিক ভাবে এই ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। তারপর থেকে মেক্সিকো, পেরু, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা, আর্জেন্টিনা, বলিভিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, উগান্ডা এবং ভারত সহ অন্যান্য দেশগুলি এই ব্যাংকিং সেবা চালু  করেছে। বিশেষ করে এই ব্যাংকিং সেবা গ্রামীণ জনগণের জন্য  সহজলভ্য করে তোলে, সাশ্রয়ী ব্যাঙ্কিং সেবা প্রদান করে। তাছাড়া ব্যাংকের পরিচালন এবং প্রতিষ্ঠানের খরচ কমিয়ে দেয়।

এজেন্ট ব্যাংকিং

বছরের পর বছর ধরে, এই ব্যাংকিং সিস্টেম উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য খুব কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিং ব্রাজিল, কলম্বিয়া, পেরু, মালয়েশিয়া এবং কেনিয়ার ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অন্যতম ছিল।  এই  দেশগুলো প্রথম দিকে এই এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে  বিভিন্ন কাজ যেমনঃ ইউটিলিটি বিল, কর ইত্যাদি প্রদানের সহজীকরণে সবচেয়ে সফল হয়েছিল। একটি হিসাবে দেখা গেছে যে এই এজেন্ট ব্যাংকিং  সিস্টেমের পেমেন্টগুলি সরাসরি লেনদেনের ৭০% এরও বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে ৫০ টিরও বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান (এমএফআই) বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় কোটির কাছাকাছি ক্লায়েন্ট বেস নিয়ে কাজ করছে।

এই ব্যাংকিং এর একটি সুবিধাজনক দিক হচ্ছে, আমরা জানি  যে কোন  ব্যাংকের জন্যই প্রথম দিকে একটি পূর্ণাঙ্গ শাখা খোলা আর্থিকভাবে অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এটাকেই সুবিধা দেয়ার জন্যই এজেন্ট ব্যাংক শাখা হিসাবে কাজ করতে পারে। এজেন্টরা একটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে মানুষকে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে এবং ব্যাংকের নিকটতম শাখা প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করে। ফলস্বরূপ, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং এর জনপ্রিয়তা আরও বেশি হয়ে ওঠেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশিকা অনুসারে যদি এই ব্যাংকিং খাত সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে এজেন্ট ব্যাংকিং আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশ কিছু আর্থিক সেবায়  মানুষের পাশে দাড়াতে পারবে। এটি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এবং দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিস্ময়কর কাজ করতে পারে।

ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং
ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট

এজেন্ট ব্যাংকিং এর সুবিধা

প্রতিটি দেশেই সাধারন মানুষের জন্য এজেন্ট  ব্যাংকিং একটি সহজ মাধ্যম। এই ব্যাংকিং সেবা একটি সাশ্রয়ী কৌশল। নিম্নে এই ব্যাংকিং সেবার বেশ কিছু সুবিধা তুলে ধরা হলঃ

যথাযথ সময়ে লেনদেন

এই ব্যাংকিং এর মাধ্যমে, একজন গ্রাহক যথাযথ সময়ে তার ব্যাংকিং লেনদেন সম্পন্ন করতে পারে। এটি গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক ভিত্তিতে তাদের তহবিল অ্যাক্সেস করতে দেয়।  এটি প্রতিষ্ঠানগুলিকে সময়মতো তাদের পেমেন্ট করতে সাহায্য করে।

 ব্যক্তিগত পরিষেবা

এই ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে গ্রাহকরা এখন তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট লেনদেন করতে পারে খুব সহজে। বর্তমান্নে ব্যাংক গুলি তাদের গ্রাহকদের উন্নত ব্যাংকিং সুবিধা প্রদান করছে। একটি দক্ষ এজেন্সি ব্যাংকিং পরিষেবার এই কাস্টমাইজেশনের মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগতকৃত অফার এবং আর্থিক পরামর্শ।

স্মার্টফোন থেকেই ব্যাংকিং

গ্রাহকরা তাদের স্মার্টফোন থেকে সরাসরি ব্যাংকিং লেনদেন করতে পারে। এতে করে তাদের সময় অনেক বেচে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে খুব সহজে টাকা লেন দেন  করতে পারে। সরাসরি ব্যাংকিং প্রক্রিয়া গ্রাহকদের জন্য একটি ক্লান্তিকর ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা তৈরি করে। এই ব্যাংকিং পদ্ধতি একটি শক্তিশালী ডিজিটাল বিকল্প হিসেবে যা তাদের গতি এবং স্বাচ্ছন্দ্য দেয়।

ঝামেলাহীন লোন পদ্ধতি

এই ব্যাংকিং এর গ্রাহকদের জন্য ব্যাংক থেকে লোন নেয়ার পদ্ধতিটি আরো সহজ করে তুলেছে।  এখন গ্রাহকরা শুধু তাদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং আইটি রিটার্ন আপলোড করে লোন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

নিরাপত্তা

একটি শক্তিশালী  ব্যাংকিং সলিউশন মানুষের স্পর্শ এড়ানোর জন্য QR কোড, OCR, NFC প্রযুক্তি ইত্যাদি কন্টাক্টলেস পেমেন্ট সলিউশনে ব্যবহার করে যাতে করে আপনার  টাকা অনেক নিরাপদ থাকে। বর্তমান এই ব্যাংকিং সিস্টেম বায়োমেট্রিক পদ্ধতি উপর নির্ভরশীল হওয়াতে আপনার লেন দেন এখন আরো নিরাপদ।

এজেন্ট ব্যাংকিং এর অসুবিধা

অসুবিধার কথা যদি বলতে যাই তাহলে এই ব্যাংকিং সিস্টেম এর তেমন কোন অসুবিধাই নাই। কারন হল ব্যাংকিং সেবাকে আরো সহজ করার জন্যই এই এই ব্যাংকিং সিস্টেম কে চালু করা হয়েছে। তবে একটা অসুবিধা রয়েছে বলে আমি মনে করি। এই অসুবিধাটি নিয়ে নিম্নে আলোচনা করছি।

আরো পড়ুনঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কি? কীভাবে লোন পাবেন? বিস্তারিত গাইড

লিমিটেশন

এই ব্যাংকিং সেবার লেনদেন এর পরিধি অনেক কম। এই ব্যাংকিং এর লেনদেন এর  একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। এর বেশি হলে আপনি লেনদেন করতে পারবেন না। সেই নির্দিষ্ট সীমাটি হচ্ছে ৫ লক্ষ টাকা। এর চেয়ে বেশি আপনি এইখান থেকে লেনদেন করতে পারবেন। যদিও এখন ১  লক্ষ টাকা বাড়িয়ে ৬ টাকায় নেয়া হয়েছে। সহজ করে বললে আপনি এক মাসের মধ্যে ৬ লক্ষ টাকার বেশি আর্থিক লেন দেন করতে পারবেন না।

এজেন্ট ব্যাংকিং
এজেন্ট ব্যাংকিং

সেরা ৫ টি এজেন্ট ব্যাংক

বাংলাদেশে অনেক ধরনের ব্যাংক এই এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে থাকে। তবে ৫টি শীর্ষ স্থানীয় ব্যাংকিং অনেক জনপ্রিয়। নিম্নে এই সকল ব্যাংক এর নাম এবং তাদের সেবা নিয়ে আলোচনা করা হলঃ

  • ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড।
  • ডাচ বাংলা ব্যাংক।
  • ব্যাংক এশিয়া।
  • দি সিটি ব্যাংক
  • এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক।

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড

ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে  এই ব্যাংকিং সিস্টেম সেবা চালু করে, যার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তরে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সমাধান প্রতিষ্ঠা করা।


বাংলাদেশের এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে আগ্রহীরা উপরের ভিডিওটি দেখতে পারেন।

এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা সমুহ

  •  এই ব্যাংকিং চব্বিশ ঘন্টা ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে।
  • এই ব্যাংকিং এর আর্থিক লেনদেন একদম ডিজিটাল তাই  মানুষকে অনেক সুবিধা দেয়।
  •  ব্র্যাক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার  সার্ভিস চার্জ, লেনদেনের সীমা (দৈনিক ও মাসিক লেনদেনের সীমা), অ্যাকাউন্টের ধরন, বৈশিষ্ট্য, রাউটিং নম্বর, শাখা কোড, ঠিকানা সহ আউটলেট তালিকা ইত্যাদি অনেক নিরাপদ ভাবে কাজ করে।

প্র‍য়োজনীয় তথ্য পেতে তাদের ওয়েব সাইট ভিসিটের লিংকঃ ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড 

ডাচ বাংলা ব্যাংক

এজেন্ট ব্যাংকিং এর জন্য ডাচ বাংলা ব্যাংক অন্যতম ভাল মাধ্যম। ডাচ বাংলা ব্যাংক এর অন্যতম সফল সেবা হচ্ছে রকেট।  রকেট পরিষেবার সফল প্রবর্তনের পর তারা ডিবিবিএল গ্রামীণ গ্রাহকের জন্য এজেন্টের মাধ্যমে এই ব্যাংকিং  সেবা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকের সেবা বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই ব্যাংকিং সিস্টেম কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য (এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগ) নামে পৃথক ভাবে তাদের ওয়েব সাইটে  একটি পেইজ তৈরি করা হয়েছে।  এই বিভাগটি মোবাইল টেলিকমিউনিকেশন ডিভাইস/ কম্পিউটার সিস্টেম/ বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাংকিং এবং আর্থিক সেবা প্রদান করে সারা দেশে বিস্তৃত গ্রাহকদের সেবা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্লায়েন্টদের জন্য, এজেন্ট ব্যাংকিং বিভাগ তাদের ব্যাঙ্কিং এজেন্টে অর্থ জমা এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য সেবা এবং ইলেকট্রনিক তহবিলে জমা করতে সাহায্য করবে। এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার সাহায্যে গ্রাহক দেশের যে কোন স্থানে ব্যাংকিং সেবার সুবিধা ভোগ করতে পারে।

আরো পড়ুনঃ কর্মসংস্থান ব্যাংক কি? কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাওয়ার বিভিন্ন উপায়।

এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা সমুহ

  • DBBL এর মনোনীত আউটলেট এর মাধ্যমে  নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টের বিপরীতে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
  • অ্যাকাউন্ট ধারীরা মনোনীত আউটলেট থেকে টাকা তুলতে পারেন।
  • অ্যাকাউন্ট ধারীরা যেকোনো DBBL ATM থেকে টাকা তুলতে পারবেন।
  • অ্যাকাউন্টধারীরা যে কোন সময় তাদের ব্যালেন্স সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারবেন।
  • অ্যাকাউন্টধারীরা মনোনীত আউটলেট থেকে তাদের একাউন্ট এর যে কোন বিষয়  সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারবেন।
  • একজন গ্রাহক অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করতে পারেন
  • বায়োমেট্রিক ডিপোজিট প্লাস স্কিম (ডিপিএস) একটি বিশেষ ধরনের সঞ্চয় করতে পারবেন।

প্র‍য়োজনীয় তথ্য পেতে তাদের ওয়েব সাইট ভিসিটের লিংকঃ ডাচ বাংলা ব্যাংক 

ব্যাংক এশিয়া

এজেন্ট ব্যাংকিং বাংলাদেশে ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশনের যাত্রায় খুবই নতুন কিন্তু শক্তিশালী এবং বিস্তৃত উদ্যোগ। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ব্যাংক এশিয়া চালু হয়। এর আগে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক এশিয়াকে এই বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা চালু করার অনুমতি পায়। কয়েক বছরের ব্যবধানে, এই পরিষেবা বহুমাত্রিক উপায়ে ছড়িয়ে পড়ে, সময় এবং স্থানের ব্যবধান কমায় এবং গ্রামীণ জনগণ এই ব্যাংক এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। অল্প পরিমান সুদে এই ব্যাংক অর্থনীতির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে অবদান রাখে এবং এইভাবে আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিতে সুন্দর জীবনরেখা সৃষ্টি করে। এখন প্রান্তিক কৃষক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং সাধারণ মানুষ এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে এবং দ্রুত পদ্ধতিতে লোন সুবিধা ভোগ করে। তবে গ্রামীণ মানুষের দরে ব্যাংক এশিয়ার এই ব্যাংকিং সিস্টেম পরিষেবা চালু হওয়া ব্যাংকিং সেবা আরো সহজ করে তুলেছে।

আরো পড়ুনঃ  BMET কি? কিভাবে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড পাবেন? জেনে নিন বিস্তারিত স্টেপ বাই স্টেপ।

এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা সমুহ

  • নগদ টাকা আমানত রাখতে পারবেন।
  • টাকা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করতে পারবেন।
  • অভ্যন্তরীণ বৈদেশিক রেমিট্যান্স করতে পারবেন।
  • ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট করতে পারবেন।
  • সামাজিক নিরাপত্তা নেট নগদ অর্থ প্রদান প্রদান করতে পারবেন।
  • সঞ্চয় করতে পারবেন।
  • কৃষি লোন নিতে পারবেন। এর জন্য এই ব্যাংকিং সেবা কৃসকদের জন্য অনেক ভাল।

প্র‍য়োজনীয় তথ্য পেতে তাদের ওয়েব সাইট ভিসিটের লিংকঃ ব্যাংক এশিয়া


এজেন্ট ব‍্যাংকিং সেবা এর সুবিধা অসুবিধা

সিটি ব্যাংক

সারা দেশে ব্যাংকিং সুবিধাগুলিকে মূল স্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে সিটি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে আসে। এখন আপনার নাগালের মধ্যে আমাদের ব্যাংকিং সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।

এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা সমুহ

  • সহজ এবং নিরাপদ অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
  • দ্রুত রেমিটেন্স টাকা সংগ্রহ করতে পারবেন।
  • ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে পারবেন।

প্র‍য়োজনীয় তথ্য পেতে তাদের ওয়েব সাইট ভিসিটের লিংকঃ সিটি ব্যাংক 

এনআরবি কমার্শিয়াল

এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি খাতের নির্ধারিত বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে একটি। এই  ব্যাংক ১৮ এপ্রিল ২০১৩ সাল থেকে তাদের প্রধান শাখার মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে। সারা দেশে এনআরবি রেমিট্যান্স বিতরণ করার জন্য এটি কার্যকর ব্যাংকিং হিসেবে কাজ করছে।

এই ব্যাংক মানুষের জন্য  প্রয়োজনীয়তা মেনে প্রাইস মুনাফা কমিয়ে জনসাধারণের সেবা করার সুযোগ নিয়ে এসেছে।  এই ব্যাংক এর নতুন ব্যাংকিং সমাধান হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম। নতুন ব্যাংকের মধ্যে এনআরবিসি ব্যাংক সারা দেশে ২০ জন এজেন্টকে যুক্ত করার অনুমোদন পেয়ে এগিয়ে আছে।

এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা সমুহ

  • ছোট মূল্যের নগদ আমানত সংগ্রহ এবং নগদ উত্তোলন এবং ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করতে পারবেন।
  • অভ্যন্তরীণ বৈদেশিক রেমিট্যান্স, অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্স,
  • স্বল্প মূল্যের লোন পাওয়ার সুবিধা এবংকিস্তি পুনরুদ্ধারের সুবিধা রয়েছে এই ব্যাংকএ
  • সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির অধীনে নগদ অর্থ প্রদান যেমন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, শিক্ষকদের বেতনের একটি সরকারি অংশ, অন্যান্য পেনশন ইত্যাদি তুলতে পারবেন।

প্র‍য়োজনীয় তথ্য পেতে তাদের ওয়েব সাইট ভিসিটের লিংকঃ এনআরবিসি 

এজেন্ট ব্যাংকিং যে ভাবে

যেভাবে কাজ করে

কাজ করে সেটি যদি ব্যাখ্যা করতে যাই তাহলে আগে বলতে হবে যে এই ব্যাংকিং সিস্টেম একদম রিয়েল টাইম ব্যাংকিং এর মত কাজ করে। সহজ করে বললে আপনি যদি গ্রাহক হয়ে থাকেন তাহলে আপনি রিয়েল ব্যাংক এ গিয়ে যে সুবিধা গুলো পাবেন এবং যেভাবে টাকা লেনদেন করতেন ঠিক সেই ভাবেই আপনি এজেন্ট পয়েন্টে  এসে টাকা লেনদেন করতে পারবেন।  অন্য কথায়, আপনি মূল শাখায় আসার সময় যে পরিষেবাটি পেতেন তা আপনি এই ব্যাংকিং এর মাধ্যমেই পাবেন এবং এটি ঠিক রিয়েল ব্যাংকিং সেবার মতই নিরাপদ। আপনার অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য এজেন্ট পয়েন্ট গুলিতে এখন বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস ব্যবহার করে কাজ করে থাকে। এজেন্ট পয়েন্ট এ এসে প্রত্যেককে আঙুলের ছাপ দিয়ে কাজ করতে হয়। আপনাকে এর  ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আঙুলের ছাপ দিতে হবে।

যেভাবে অ্যাকাউন্ট খুলবেন

যে কোন  ব্যক্তি এজেন্ট পয়েন্টে গিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলতে গ্রাহকদের তেমন কোন কষ্টই করতে হয় না। আপনার শুধু (এন-আইডি কার্ড) লাগবে। যদি আপনার এন-আইডি কার্ড না থাকে সেই ক্ষেত্রেও আপনি এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। সেই সিস্টেমটি হচ্ছে আপনাকে আপনার বাবা, মার এন-আইডি কার্ড নিয়ে যেতে হবে। তবে সেই ক্ষেত্রে এটি স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্ট হিসেবে বিবেচিত হবে।

পরিশেষেঃ

এজেন্ট ব্যাংকিং বাংলাদেশের ব্যাংকিং শিল্পে একটি চমৎকার যাত্রা যার মাধ্যমে গ্রাহকরা ব্যাংক শাখার পরিধির বাইরে বসবাসকারী সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং সেবা পেতে পারেন। বাংলাদেশে  এই ব্যাংকিং এর চাহিদা ব্যাপক।

বিঃদ্রঃ এই ব্লগের প্রত্যেকটা ব্লগ পোস্ট Sylhetism ব্লগের নিজস্ব ডিজিটাল সম্পদ। কেউ ব্লগের কোন পোস্ট কিংবা আংশিক অংশ ব্লগের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কপি পেস্ট করে অন্য কোথাও প্রকাশ করলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার অধিকার রাখে। এবং অবশ্যই কপিরাইট ক্লাইম করে যে মাধ্যমে এই ব্লগের পোস্ট প্রকাশ করা হবে সেখানেও অভিযোগ সাবমিট করা হবে।

ধন্যবাদ, ব্লগ কর্তৃপক্ষ।

Author

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You cannot copy content of this page