BMET CARD

BMET কি? কিভাবে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড পাবেন? | ২০২২

বর্তমানে বিদেশি রেমিটেন্স এর ওপর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেকাংশে নির্ভরশীল। প্রতিবছর প্রায় লাখখানেক শ্রমিক বিদেশে কাজে যায়।  দালালদের খপ্পরে পড়ে ভিটেমাটি সব কিছু বিক্রি করে দেশের বাইরে কাজ করতে যাওয়ার নজির অনেক বেশি। এতে যেমন মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেমনি ভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই এখন সবাই তো চায় বৈধ ভাবে দেশের বাইরে গিয়ে কাজ করতে।  বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়ের সমাধানের জন্য এগিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে বৈধ ভাবে কাজে যেতে চাইলে একজন মানুষকে অবশ্যই স্মার্ট BMET স্মার্ট কার্ড নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু আপনার মাথায় প্রশ্ন আসতে পারে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড কি? কিভাবে এটা তৈরি করতে হয়? এটার কাজ কি? একজন শ্রমিক হিসেবে অনেকেই এই সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানেন না। তাই আজকে এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ

BMET

BMET এর পূর্ণরূপ (BUREAU OF MANPOWER EMPLOYMENT AND TRAINING)। এটি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিষ্ঠান। BMET-এর বাংলা নাম হল জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো। বাংলাদেশ থেকে যদি কোনো কর্মী বা ব্যক্তি যদি বৈধভাবে বিদেশ যেতে চান তবে তাকে এই জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো থেকে অনুমতি পত্র নিয়ে তারপরে যেতে হবে। আর এই অনুমতি সে পাবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে সার্টিফিকেট পেলে। আর এই অনুমতিপত্র হল বি এম ইটি স্মার্ট কার্ড বা ম্যানপাওয়ার কার্ড । এটি ১৯৭৬ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দ্বারা দেশের জনশক্তির প্রয়োজনীয়তা পূরণ এবং জনশক্তি রপ্তানির জন্য কিছু নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে তৎকালীন জনশক্তি উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি সংযুক্ত বিভাগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি ব্যুরোটি আইএলও কনভেনশন ৮৭, ৮৮, ৯৬, ৯৭ এর সাথে সঙ্গতি রেখে তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে অবস্থিত। বিএমইটি দেশের জনশক্তির যথাযথ ব্যবহারের জন্য সকল পরিকল্পনা,কৌশল এবং সেইসব কৌশল বাস্তবায়নের জন্য নিযুক্ত। এর আন্ডারে রয়েছেঃ

  • ৪২ টি জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (DEMO)।
  • ৭০ টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
  • ৬ টি  ইনস্টিটিউট মেরিন টেকনোলজি।
  • ৩ টি শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ অফিস।

ম্যানপাওয়ার কার্ড নিয়ে এই ব্লগে আরেকটি লেখা আছে সেটি পড়ে দেখতে পারেন এই লিংকেঃ ম্যানপাওয়ার কার্ড কি? কিভাবে পাবেন? সুবিধা কি?

BMET স্মার্ট কার্ড

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী BMET অর্থাৎ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে বিদেশগামী প্রবাসী কর্মীদের বিএমইটি কার্ড প্রদান করে। যা স্মার্ট কার্ড নামেও পরিচিত। অনেকে প্রবাসী এই BMET স্মার্ট কার্ডকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে। ফলে তারা  দালালের হয়রানি থেকে রক্ষা পায় না এবং অনেক টাকা খরচ করে বিদেশ যেতে হয়। একজন ব্যক্তি কে বিদেশ যাওয়ার পূর্বে ঢাকায় অবস্থিত জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা BMET অফিসে পরিচালিত ব্রিফিং সেশনে তাদের অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক। বিএমইটি অফিসের এক্সটেনশন বিল্ডিং-এর ২য় তলায় ব্রিফিং সেন্টার অবস্থিত। যেখানে ছুটির দিন বাদে প্রায় প্রতিদিনই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিফিং এর শেষে ব্রিফিং রুম থেকে ব্রিফিং সম্পন্ন হয়েছে এই মর্মে  পাসপোর্টে একটি সিল দেয়া হবে। স্মার্ট কার্ড তোলার সময় ব্রিফিং সিল সম্বলিত পাসপোর্টটি প্রয়োজন হয়। কেউ যদি এই ব্রিফিং সম্পন্ন না করে তাহলে সে BMET স্মার্ট কার্ড বা ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড পাবে না। BMET স্মার্ট কার্ড নিয়ে একজন প্রবাসী বিদেশ যাওয়া মানেই হচ্ছে সে বৈধ ভাবে বিদেশ যাচ্ছে।

BMET এর কাজ

সরকারের BMET গঠনের  মূল লক্ষ্যই ছিল যাতে বিদেশগামী শ্রমিকেরা দালালের খপ্পর থেকে রক্ষা পায়। তারা যেন কম খরচে বৈধভাবে বিদেশে যেতে পারে। BMET কাজ কি কি তা নিচে দেওয়া হলঃ

  1. যে সকল দেশে সুবিধা বেশি থাকে সাধারণত সেই সকল দেশে বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগের জন্য বিদেশী দাবির প্রসেসিং করে।
  2. বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য নিয়োগকৃত শ্রমিকদের জন্য অভিবাসন ছাড়পত্র নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রণ।
  3. যে সকল ব্যক্তি বিদেশে গমন করতে ইচ্ছুক তাদের ইনফর্মেশন অনলাইনে বাধ্যতামূলক ডাটা এন্ট্রি রেজিষ্ট্রেশন করা। এই সেবা পেতে আপনাকে জনশক্তি ব্যুরো মহাপরিচালক এর  অনুকূলে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে  হবে যার জন্য বিকাশ, শিওর ক্যাশ, নগদ, অথবা রকেটের মাধ্যমে 200/-টাকা পেমেন্ট করতে হবে।
  4. আপনাকে বৈধ রিক্রটিং এজেন্সী সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করবে। এর সাথে যারা বিদেশী নিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগ করে সেই সকল প্রাইভেট রিক্রটিং এজেন্টগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
  5. স্ব-কর্মসংস্থান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে।
  6. বিভিন্ন দেশ যেমনঃ সিংগাপুর, দুবাই-আবুদাবী, কাতার, বাহরাইন এর ভিসা অনলাইনে যাচাই করা হয়।
  7. শ্রমবাজারের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রচার করে যাতে সাধারণ জনগণের বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে। অভিবাসী শ্রমিকদের সকল তথ্য কম্পিউটার ডাটাবেস নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ করে।
  8. বিদেশগামী কর্মীদের তথ্য ও সেবা প্রদান। বিদেশে কর্মীদের চাকরি ও নিরাপদ অভিবাসন এবং বিদেশ যেতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ এই সকল সংক্রান্ত তথ্য ১(এক) দিনের মধ্যে প্রদান।
  9. বিদেশ ফেরত ও বিদেশে গমন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যদি অনলাইনে এজেন্সির  কাছে প্রতারিত হয় তাহলে সে অত্র দপ্তরে এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবে। অভিযোগ গ্রহণ সংক্রান্ত অনুসন্ধান এবং তদন্ত করে কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করে। ০৭(সাত) দিনের মধ্যে প্রাপ্ত অভিযোগকে তদন্ত সাপেক্ষে কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করে সুষ্ঠু সমাধান দিয়ে থাকে।
  10. কোন ব্যক্তি যদি বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় মারা যায় তাহলে সেই ব্যক্তির লাশ ওই দেশে দাফন অথবা স্বদেশে আনয়নের জন্য সকল ব্যবস্থা এই দপ্তর নিয়ে থাকে। তারা প্রবাসী ওই কর্মীদের লাশ দেশে ফেরত আনা / সংশ্লিষ্ট দাফনসংক্রান্ত কাজ / সৎকার করা জন্য মৃতব্যাক্তির বৈধ ওয়ারিশদের নিকট হতে অনুমতি সংগ্রহ করে ৩(তিন) কর্মদিবসের মধ্যে হস্তান্তর করে থাকে।
  11. বিদেশে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর যেসকল ক্ষতি পূরণ হয়েছে অথবা তার বকেয়া পাওনা, ইন্সুরেন্স আর্থিক অনুদান সহ লাশকে পরিবহন ও দাফন এবং অন্যান্য সকল সার্বিক সহযোগিতা এই দপ্তর করে থাকে। যেমনঃ লাশ বিমান বন্দর থেকে গ্রহণ এবং স্থানান্তরকরণ ও লাশ দাফন ও পরিবহনবাবদ ৩৫,০০০/- টাকা আর্থিক সাহায্য প্রদান করে।
  12. উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে।
  13. প্রবাসী কর্মীদের জন্য অনানুষ্ঠানিক এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করে। যাতে বিদেশীগামী বা বিদেশ ফেরত এইসব কর্মীরা দেশ অথবা বিদেশে চাকরি বা কর্মসংস্থানের চাহিদা, কর্মসংস্থানের বিজ্ঞাপন সংগ্রহ, প্রচার ও সংরক্ষণ সম্পর্কে জানতে পারে।
  14. যারা বিদেশ থেকে ফেরত এসেছেন তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। তাছাড়া তাদের ব্যবসা বাণিজ্য/ পুঁজি/ বিনিয়োগ নিয়ে পরামর্শ প্রদান যাতে তারা তাদের কষ্টে উপার্জিত অর্থ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে।
  15. বেকার ব্যক্তিদের রেজিস্ট্রেশন এবং শূন্য পদের রেফারেল করে।
  16. বিদেশে বাংলাদেশী শ্রমিকদের কল্যাণ ও সকল সুযোগ সুবিধার দেখাশোনা করে।
  17. বিভিন্ন নিয়োগযোগ্য ট্রেডে প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
  18. নিরাপদ অভিবাসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এনজিওদের এই কাজে অংশগ্রহণ জোরদার করতে সচেতনতা তৈরি করে।
  19. অটোজেনারেটেড বিমানে আরোহণপত্র প্রদান করে।

BMET স্মার্ট কার্ডের সুবিধা

প্রত্যেক দেশেই শ্রমিকরা যখন অন্য দেশে কাজে যায় তখন সরকার থেকে বিশেষ সুযোগ সুবিধা লাভ করে। সরকার এই সকল শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন সাহায্য সহকারে প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট এমনকি ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা রেখেছে। বিএমইটি স্মার্ট কার্ডধারি প্রবাসীরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যেসব সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • BMET স্মার্ট কার্ডধারির সকল তথ্য যেহেতু সরকারের কাছে থাকে অর্থাৎ  প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ডাটাবেজের তার তথ্য সংরক্ষিত থাকে সেহেতু তিনি যদি কোন প্রকার বিপদে পড়েন বা মারা যান অসুস্থ হয়ে পড়েন তাহলে বাংলাদেশ সরকার তার সকল প্রকার দায়িত্ব নিবেন।
  • BMET স্মার্ট কার্ডধারি বিদেশ যেয়ে যদি কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন তাহলে তখন তাকে সহযোগিতা করা সম্পন্ন দূতাবাসের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দূতাবাস উক্ত প্রবাসীকে দেখাশোনা করবেন এবং উক্ত সমস্যা থেকে তাকে মুক্ত করবেন। এমনকি দরকার পড়লে তাকে সুস্থ ভাবে দেশে ফেরত পাঠাবেন।
  • বিএমইটি স্মার্ট কার্ডধারি ব্যক্তি বিদেশ গমনকালে ইমিগ্রেশান কার্যক্রমে সহায়তা পাবে।
  • প্রবাসী ব্যক্তিদের যদি এই বিএমইটি স্মার্ট কার্ড থাকে তাহলে অসুস্থ হয়ে পড়লে বিমান বন্দরে গ্রহণ এবং হাসপাতালে ভর্তিসহ সকল কার্যক্রম সরকার নিজ দায়িত্বে করবে।
  • বিদেশ যেতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক হতে সহজ শর্তে অভিবাসন  ঋণ দেয়া হয়।

ম্যান পাওয়ার কার্ড
ছবিঃ ম্যান পাওয়ার কার্ড বা BMET কার্ডের নমুনা।

যেভাবে BMET CARD পাবেন

BMET স্মার্ট কার্ড পাওয়ার জন্য আপনাকে প্রথমেই রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। সাধারণত বাংলাদেশের বড় বড় কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি থাকে। তারা যে সকল দেশের যে সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মী লাগবে তাদের সাথে খোঁজখবর রাখে। তখন এজেন্সি সেই সকল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশের বিদেশ গমনে ইচ্ছুক কর্মীদের ডিমান্ড লেটার বা চাহিদা পত্র নিয়ে আসেন। ওই সকল ডিমান্ড লেটার বা চাহিদা পত্র যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ অনুমতি নেয়। অনুমতি নেওয়ার পর বাংলাদেশের যে সকল কর্মী ওই দেশে যেতে চান রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের মাঝে সমন্বয় করে। মানে তাদেরকে ভিসা প্রদান করেন। এর পরে সেই কর্মীকে পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্রসহ BMET বা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো থেকে তিনদিনের একটি ট্রেনিং করে সার্টিফিকেট নিতে হবে। যখন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সেই কর্মী কাগজপত্র এবং সার্টিফিকেট জমা দিবেন তখন সেখানে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া হবে। এই সমস্ত কাজ শেষ করার পর সেই কর্মীকে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো থেকে BMET স্মার্ট কার্ড বা অনুমতি পত্র প্রদান করা হবে। ফলে তিনি বৈধভাবে বিদেশ যেতে পারবেন। এজেন্সি সাহায্য ছাড়াও BMET স্মার্টকার্ড আপনি নিতে পারবেন। আপনার নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং নাম রেজিস্ট্রেশন শেষে প্রাপ্ত জবসিকার্স বা পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। বলে রাখা ভাল যে বিএমইটি ডাটাবেজে আপনার নাম রেজিস্ট্রেশন না করলে। আপনার পরিচয় পাওয়া যাবে না। আর পরিচয় পাওয়া না গেলে BMET আপনাকে স্মার্টকার্ড দেবে না। এখানে বলে রাখা ভাল যে জব সিকার্স কার্ড পাওয়ার পর যখন আপনি চাকুরির জন্য নির্বাচিত হবেন। তখন একটি ফর্ম পূরণ করে BMET কে নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। স্মার্টকার্ড পেতে হলে কর্মসংস্থান দেশ অনুসারে আপনাকে ১.০০০০-২,০০০ টাকা খরচ করতে হবে। উল্লেখ্য যে এই টাকার হিসাব বিদেশ গমনের জন্য নির্ধারিত খরচ ২০০০০-২৫০০০ টাকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

রিলেটেডঃ কর্মসংস্থান ব্যাংক কি? কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাওয়ার বিভিন্ন উপায়

BMET রেজিস্ট্রেশন

BMET স্মার্ট কার্ডের জন্য বিদেশগামী সকল কর্মীর ৩ দিনের প্রি-ডিপার্চার ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিং বাধ্যতামূলক। ২০০/- টাকা ভর্তি ফি (বিকাশ/ রকেট/ শিওর ক্যাশ/ নগদ) দিয়ে নিকটস্থ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে কোন অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে না।

যেভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন

  • মোবাইলের ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ফি প্রদান করবেন।
  • সংশ্লিষ্ট ডিইএমও অথবা টিটিসিতে গ্রমন করবেন।
  • ডিইএমও অথবা টিটিসিতে আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করবেন।
  • রেজিস্ট্রেশন কার্ড গ্রহণ করবেন।

রেজিস্ট্রেশন এর যোগ্যতা

  • বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের অবশ্যই ৬ মাসের বৈধতার সহ পাসপোর্ট থাকতে হবে।
  • নিজস্ব মোবাইল থাকতে হবে।
  • দক্ষতা সংক্রান্ত কোন সনদ থাকলে তা সংযুক্ত করতে হবে।
  • বিদেশে গমনেচ্ছু কর্মীদের বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর হতে হবে। যে সকল নারী কর্মী গৃহকর্মী হিসেবে  মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে ইচ্ছুক তাদের বয়স সীমা ২৫-৪৫ বছর হতে হবে। অন্যান্য দেশ ও পেশার ক্ষেত্রে বয়স ১৮ বছর হলেই হবে।

অনেক কর্মী আগে বড় বড় রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে সম্পূর্ণ প্রসেস ঠিক করার পরেই এই প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। আবার অনেককেই এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বড় বড় রিক্রুটিং এজেন্সির সাথে বৈদেশিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়।

কার্ড পেতে যা যা লাগবে

স্মার্ট কার্ড হাতে পেতে চারটি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট লাগবেঃ

আঙ্গুলের ছাপ

নিয়োগকারী কতৃপক্ষকে আপনার পরিচয় দানের জন্য আঙ্গুলের ছাপ দিতে হবে। আঙ্গুলের ছাপ কোন অর্থের প্রয়োজন পড়ে না।

অঙ্গীকারপত্র

অঙ্গীকারনামা আপনি যদি নিজে ভিসা সংগ্রহ করে থাকেন মানে যদি আপনি বিদেশে কর্মরত থাকেন এবং আপনার কোন আত্মীয় বা বন্ধুর মাধ্যমে চাকুরির চুক্তিপত্র এবং ভিসা সংগ্রহ করেছেন তাহলে কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইন থেকে ১৫০ টাকা মূল্যের নন – জুডিশিয়ালস্ট্যাম্পে কর্মীর কাজ ও বেতন – ভাতা ইত্যাদি উল্লেখ করে এবং আপনি নিজে ভিসা সংগ্রহ করেছেন এ মর্মে একটি “ অঙ্গীকারনামা ” তৈরী করবেন। সেখানে নিজের সব প্রয়োজনীয় ও সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করে  প্রিন্ট করবেন এবং স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিয়ে আসবেন। কিন্তু আপনার চাকুরি ও ভিসার ব্যবস্থা যদি রিক্রুটিং এজেন্সি করে দেয় তাহলে এই অঙ্গীকার নামা তৈরি করার প্রয়ােজন নেই।

অনাপত্তিপত্র

কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইন থেকে একটি অনাপত্তিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।  নিজের সব প্রয়োজনীয় ও সঠিক তথ্য দিয়ে এবং আপনার আইনগত অভিভাবকের আপনার বি্দেসশ যাত্রাতে কোন আপত্তি নেই এ মর্মে অভিভাবকের স্বাক্ষর নিয়ে ফর্মটি পূরণ করে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প কাগজে প্রিন্ট করতে হবে এবং স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিতে হবে।

কল্যাণ ফি

সকল বিদেশগামী ও বিদেশ ফেরত কর্মীদের কল্যাণে ব্যয় করার জন্য BMET কে কিছু পরিমাণ টাকা কল্যাণ ফি বাবদ দিতে হয়। এই ফি নির্ধারিত হয় আপনার ভিসা সত্যায়িত না অসত্যায়িত সেটার উপর। আগেই যদি ভিসা  সত্যায়িত করা থাকে তাহলে ফি ১,০০০ টাকা লাগবে নতুবা ১৫০০ টাকা লাগবে। এছাড়া ভিসার পরিমাণ দেশ অনুযায়ী ভিন্ন রয়েছে। এই ফি আপনি নগদ প্রদান করতে পারবেন না। আপনি এর জন্য যে কোন ব্যাংক থেকে ব্যাংকের পে অর্ডার করতে হবে।

BMET স্মার্টকার্ড চূড়ান্তভাবে পেতে হলে যা দরকার

BMET স্মার্টকার্ড চূড়ান্তভাবে পেতে হলে নিচের কাগজপত্রগুলাে দেখাতে হয়ঃ

  • রেজিস্ট্রেশন কার্ড বা জবসিকার্স কার্ড।
  • আপনার ভ্যালিড পাসপাের্টের প্রথম ৬ পৃষ্ঠার ফটোকপি।
  • ভিসার সত্যায়িত কপি ( দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করার কথা বলা হয়েছে )।
  • চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি ( দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করার কথা বলা হয়েছে )।
  • বিএমইটি এর ব্রিফিং ছাড়পত্র।

এই সব কাগজপত্র চেক করে আপনার আঙ্গুলের ছাপের সাথে আপনার সকল বায়ো ডাটা মিলিয়ে আপনাকে একটা কুপন দেওয়া হবে। এবং কত তারিখে এসে স্মার্ট কার্ড নিয়ে যাবেন সেটাও জানিয়ে দিবে।

BMET কার্ড, কিংবা ম্যানপাওয়ার কার্ড ঘরে বসে পাওয়ার জন্য এই ভিডিওটিও দেখতে পারেন।

BMET স্মার্ট কার্ড চেক

প্রথমে আপনি আপনার ডিভাইস থেকে গুগল ব্রাউজারে ক্লিক করবেন৷ তারপর সার্চ অপশনে যেয়ে BMET লিখে সার্চ করলে সবার প্রথমে দেখবেন www.old.bmet.gov.bd। এখানে ক্লিক করে লিংকে প্রবেশ করবেন। এরপর উপরে ডানপাশে দেখবেন হোম, ডেমো, ডাউনলোড অপশন,ওয়েলফেয়ার, রিক্রুইটমেন্ট এজেন্সিস। এর পাশে সার্চিং যে অপশন আছে এটায় ক্লিক করে ভেতরে দেখবেন একটা নতুন পেইজ আপনার সামনে চলে এসেছে। সেখানে জব ক্যাটাগেরি, ফ্রম, রেজিষ্ট্রেশন আইডি এর নিচে পাসপোর্ট আইডি অপশন আছে।

আপনার বিএমইটি স্মার্ট কার্ডের যে পাসপোর্ট নাম্বার উল্লেখ আছে সেটা পাসপোর্ট আইডি তে বসাবেন। এরপর নিচে ফাইন্ড অর্থ্যাৎ অনুসন্ধান অপশনে ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পর নতুন একটা পেইজ চলে আসবে এবং পেইজের শুরুতে পার্সোনাল ইনফরমেশন লেখা আছে। তার উপরে খেয়াল করে দেখবেন আপনার স্মার্টকাডটির রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার দেওয়া আছে। একবার আপনার কার্ডের সাথে রেজিষ্ট্রেশন নাম্বারটি মিলিয়ে নিবেন। এবার ট্যাপ করে রেজিষ্ট্রেশন নাম্বারটি কপি করে পেইজ থেকে সরাসরি বের হয়ে আসুন। তারপর আবার আপনার গুগল ব্রাউজারে যেয়ে সার্চ করুন BIOFINGER লিখে। পেইজের শুরুতে যে লিংকটি আসবে সেখানে ট্যাপ করে প্রবেশ করুন। পেইজে ঢোকার পর দেখবেন ইম্পলয়ির রেজিষ্ট্রেশন নাম্বারে একটি বক্স আসবে। ওখানে আপনার কপিকৃত রেজিষ্ট্রেশন নাম্বাটি পেস্ট করবেন। পেস্ট করার সাথে সাথে দেখবেন ডানপাশে আপনার ছবিসহ বামপাশে আপনার রেজিষ্ট্রেশন আইডি নাম্বার, আপনার নাম, পিতার নাম ও স্ট্যাটাস, যেটা সফল হলে সাকসেস লেখা দেখাবে। এবার আপনি ডানপাশে আপনার ছবির সাথে আপনার স্মার্টআইডি কার্ডের ছবি মিলিয়ে দেখতে পারেন। এভাবেই আপনি অনলাইনের মাধ্যমে আপনার বিএমইটি স্মার্টকার্ড চেক করে দেখতে পারবেন।

রিলেটেডঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কি? কীভাবে লোন পাবেন?

BMET স্মার্ট কার্ড সংশোধন

প্রথমেই আপনি গুগল প্লে স্টোর থেকে আমি প্রবাসী অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিবেন। এরপরে অ্যাপটি ওপেন করলে আপনি দেখতে পাবেন অ্যাপ্লিকেশন অন গোয়িং। অ্যাপ্লিকেশন অন গোয়িং এ ক্লিক করতে হবে। অন্য কিছু না। যদি আপনারা কারেকশন করতে চান তাহলে অ্যাপ্লিকেশন অন গোয়িংএ ক্লিক করতে হবে। অ্যাপ্লিকেশন অন গোয়িংক্লিক করার পরে আপনি পার্সোনাল ডিটেলস, কন্টাক্ট ডিটেইলস, নমিনী  ডিটেইলস, ইমারজেন্সি কন্টাক্ট, এডুকেশন, ল্যাঙ্গুয়েজ স্কিল  অপশন গুলো দেখতে পাবেন। আপনার যে স্থানে ভুল হয়েছে আপনি সেটাতে ক্লিক করবেন। ক্লিক করার পরে আপনার দেওয়া পূর্ববর্তী তথ্যগুলোই আবার আসবে। তথ্যগুলো থেকে যেটি আপনি এডিট করতে চান সেটিই এডিট করে নিচে কন্টিনিউ করে দেবেন। এটা যারা অনলাইনে BMET স্মার্ট কার্ড বানিয়েছেন শুধুমাত্র তারাই করতে পারবেন। আর যারা আগে বানিয়েছেন তাদের নতুন কার্ড ইস্যু করার সুযােগ আছে। তবে ভুল যদি আপনি নিজে করে থাকেন তাহলে তথ্য পরিবর্তনের জন্য ৮০ টাকা মূল্যের পে – অর্ডার পুনরায় করতে হবে। তার সাথে কম্পিউটারের মাধ্যমে অনলাইন থেকে একটি দরখাস্ত সংগ্রহ করে নিজের সব প্রয়োজনীয় ও সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করে প্রিন্ট করতে হবে এবং স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট অফিসে পরিচালক ( বহির্গমন ) বরাবর আবেদন করতে হবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের ভুলের কারণে যদি আপনার স্মার্টকার্ডে ভুল হয় তাহলে কোন টাকা খরচ করতে হবে না। তবে আবেদন করতে হবে।

BMET স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ

BMET স্মার্ট কার্ডের যে বিষয়গুলােতে সতর্ক হতে হবেঃ

  • BMET স্মার্টকার্ড না নিয়ে বিদেশে গমন করবেন না। কারণ এতে আপনি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
  • স্মার্টকার্ড হাতে পাওয়ার পর কার্ডে উল্লেখিত আপনার নাম, ঠিকানাসহ অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক আছে কিনা তা ভালভাবে যাচাই করে নেবেন।
  • বিদেশ যাত্রার সময় কর্মী হিসেবে এয়ারপাের্টে আপনি যদি এই কার্ড প্রদর্শন করতে না পারেন তাহলে  আপনার ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হবে না। যার ফলে আপনি বিদেশ গমন করতে পারবেন না।
  • স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করার সময় আপনার নিজের আঙ্গুলের ছাপ নিজেকে উপস্থিত থেকে দিতে হবে। এই ছাপ আপনার নিজের পরিচয় বহন করে। যদি আপনার পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে এ ছাপ দেন তাহলে এয়ারপাের্টে বিদেশ যাত্রার সময় আপনার আঙ্গুলের ছাপ মিলবে না। যার ফলে আপনি বিদেশ গমন করতে পারবেন না।

BMET এর লক্ষ্য ছিল কর্মপ্রত্যাশী জনগোষ্ঠীর বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি। অভিবাসী কর্মীদের অধিকতর কল্যাণ ও নিরাপদ সুষ্ঠু ও সুসংহত অভিবাসন নিশ্চিত করা। বিশ্ব বাজারের চাহিদার ভিত্তিতে যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করে তাদের দক্ষতা উন্নয়ন করা।  তাই বলতে গেলে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড BMET এর লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এখন অদক্ষ আধাদক্ষ পেশাগত কর্মীরা দালালের ধোকাতে না পড়ে কোন ঝামেলা ছাড়াই স্বল্প খরচে দেশের বাইরে যেতে পারে।

রিলেটেডঃ এজেন্ট ব্যাংকিং কি? জেনে নিন এজেন্ট ব্যাংকিং এর সুবিধা ও অসুবিধা 

বিঃদ্রঃ এই ব্লগের প্রত্যেকটা ব্লগ পোস্ট Sylhetism ব্লগের নিজস্ব ডিজিটাল সম্পদ। কেউ ব্লগের কোন পোস্ট কিংবা আংশিক অংশ ব্লগের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কপি পেস্ট করে অন্য কোথাও প্রকাশ করলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার অধিকার রাখে। এবং অবশ্যই কপিরাইট ক্লাইম করে যে মাধ্যমে এই ব্লগের পোস্ট প্রকাশ করা হবে সেখানেও অভিযোগ সাবমিট করা হবে।

ধন্যবাদ, ব্লগ কর্তৃপক্ষ।

3 thoughts on “BMET কি? কিভাবে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড পাবেন? | ২০২২”

  1. সালাউদ্দিন

    আমি ওমান ছিলাম আমার আগের একটি ম্যানপাওয়ার এর কাড আছে নতুন করে কি ম্যানপাওয়ার এর কার্ড লাগবে অনুগ্রহ করে জানাবেন আমি দুবাই যেতে চাই

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You cannot copy content of this page