কর্মসংস্থান ব্যাংক

কর্মসংস্থান ব্যাংক কি? কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়

বেকার সমস্যা দেশের অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা। বিশ্বব্যাংকের মতে বাংলাদেশে মোট কর্মশক্তির অনুপাতে বেকারত্বের হার ১৪.২%। তবে বিবিএসের জরিপ মতে দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখ এবং আইএলওর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা ৩ কোটি। এই বিশাল বেকারত্ব দেশের উন্নতির একটি অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সেই জন্য এই সমস্যাকে সমাধান করতে সরকার সবসময় উদগ্রীব। ফলশ্রুতিতে অনেক পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে দেশের প্রতিটি পরিবারের অন্তত একটি মানুষের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি করবে। সরকারের এই প্রতিশ্রুত কে সামনে রেখে এই বিশাল বেকার যুব সমাজকে আর্থিক ও সামাজিক ভাবে স্বাবলম্বী করতে কর্মসংস্থান ব্যাংক এগিয়ে এসেছে। এখন আপনার মনে প্রথমেই প্রশ্ন আসতে পারে কর্মসংস্থান ব্যাংক কি এবং আপনি কিভাবে আপনার বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের সাহায্য পেতে পারেন। আজকে আমরা আলোচনা করবো কর্মসংস্থান ব্যাংক কি? এবং কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় নিয়ে। তাহলে চলুন দেরী না করে দেখে নেওয়া যাক কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায় বা পদ্ধতিগুলি কি।

কর্মসংস্থান ব্যাংক

কর্মসংস্থান ব্যাংক রাষ্ট্রীয় মালিকনাধীন একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। যদিও অ-তালিকাভুক্ত ৫টি ব্যাংকগুলোর মধ্যে কর্মসংস্থান ব্যাংক একটি। দেশের বেকার যুবদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে ১৯৯৮ সনের ৭ নং আইন বলে কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই নানা সীমাবদ্ধতা থাকার পরেও ব্যাংকের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বেকার যুবকদের সাহায্য করে আসছে। কর্মসংস্থান ব্যাংক তাদের সুষম উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশব্যাপী সকল অঞ্চলে  অনুমোদন পর্যায়ক্রমে সকল জেলা-উপজেলায় শাখা খোলা শুরু করেছে। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৩৩টি আঞ্চলিক কার্যালয় ও ২৫৫টি শাখার মাধ্যমে ব্যাংকটি তার কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। বর্তমানে সর্বমোট ১,৫৬৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এই ব্যাংকে কাজ করে যাচ্ছে। ব্যাংকের নীতিমালা প্রণয়নের জন্য অভিজ্ঞ পরিচালনা বোর্ড রয়েছে।  মূলত উচ্চ পদস্থ সরকারি অভিজ্ঞ কর্মকর্তা এই পরিচালনা বোর্ডের সদস্যবৃন্দ। যেহেতু কর্মসংস্থান ব্যাংক সবসময় বিশ্বাস করে দক্ষ জনবলই পারে একমাত্র সকল প্রতিষ্ঠান বা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সেহেতু এই লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে কর্মসংস্থান ব্যাংকে রয়েছে ১টি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। এই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এমনকি ২০২০-২১ অর্থবছরেও অনলাইনের মাধ্যমে সকল কর্মকর্তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। 

কর্মসংস্থান ব্যাংক
কর্মসংস্থান ব্যাংক লগো

ব্যাংকের কার্যাবলী

কর্মসংস্থান ব্যাংক নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে পারবেঃ

  • কর্মসংস্থান ব্যাংক জামানত নিয়ে বা জামানত ব্যতীত বা  অন্য যেকোন উপায়ে সকল ধরনের আর্থিক লেনদেন করতে পারবে।
  • যেহেতু কর্মসংস্থান ব্যাংক বেকার যুবকদের আর্থিক উন্নয়নের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেহেতু এটি বেকারদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গ্রহণ ও পরিচালনা করে। তাদেরকে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করে বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণসহ কুটির শিল্পে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করে।
  • বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য জামানত নিয়ে বা জামানত ব্যতীত অল্প সুদে ঋণ প্রদান করা
  • জামানত হিসাবে স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তির প্লেজ, বন্ধক, হাইপোথিকেশন বা স্বত্বনিয়োগ গ্রহণ করা।
  • বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী যেমন মালিকানা দলিল, সেভিংস সার্টিফিকেট নিরাপদ রাখার জন্য জমা নেওয়া।
  • ঋণগ্রহীতা যেন ঋণের অর্থ বিভিন্ন শিল্পে বিনিয়োগ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে পারে এই সরকারের ব্যাপারে তাদের সুপরামর্শ প্রদান করা এবং সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করা।
  • সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে যুবদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা দাতা সংস্থা হতে ঋণ অথবা অনুদান গ্রহন করা।
  • ডিজিটাল বাংলাদেশের এক্সেস টু ইনফরমেশন নিশ্চিত করার জন্য যাবতীয় কার্যাবলী কম্পিউটারাইজেশন করা।
  • সংবিধিবদ্ধ সংস্থার শেয়ার কিনতে পারবে।
  • সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে কিছু খাতে ব্যাংকের তহবিল বিনিয়োগ করা।
  • যুবকদের কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন কর্মসংস্থান নিয়ে গবেষণা, তাদের নিয়ে পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ করা।
  • ঋণগ্রহীতাদের সকল প্রকার সহায়তা (কারিগরি এবং প্রশাসনিক) প্রদান করা। এমনকি তাদের ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনার জন্য সেমিনারের আয়োজন করা, সময় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে পুরাতন নীতিমালা সংশোধন করা

আরো পড়ুনঃ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কি? কীভাবে লোন পাবেন? বিস্তারিত গাইড

কর্মসংস্থান ব্যাংকের অর্জন

কর্মসংস্থান ব্যাংকের অর্জনসমূহ নিম্নরূপঃ   

  • ৩ বিলিয়ন টাকা মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই ব্যাংকের বর্তমানে ১,০০০.০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন, ৮০০.০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন এবং ৫৫৯ কোটি টাকা প্রকৃত পরিশোধিত মূলধন। 
  • মার্চ’২১ তারিখ অবধি ক্রমপুঞ্জীভূতভাবে কর্মসংস্থান ব্যাংক ঋণ বিতরণ করেছে মোট ৮,১৭৮.০৩ কোটি টাকা এবং ৭,০৪৯.৯৭ কোটি টাকা ঋণ আদায় করেছে। যেখানে ঋণ প্রদাণের লক্ষ্যমাত্রা ১১৩০ কোটি টাকা থেকে উন্নীত হয়েছে ১৩০০ কোটি টাকায়। আবার ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৯২০ কোটি টাকা থেকে উন্নীত হয়েছে ১১২০ কোটি টাকায়। 
  • স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তার দেওয়ার মাধ্যমে ৭,২৮,৭০১ জন ঋণগ্রহীতাসহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২৬,৩০,৬১০ জন ঋণগ্রহীতার বেকারত্বের সমস্যা দূর হয়েছে। তারা তাদের নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছে। সর্বমোট হিসেবে বলতে গেলে কর্মসংস্থান ব্যাংক চলতি অর্থ-বছরের মার্চ’২১ অবধি ঋণ বিতরণ করেছে মোট  ১,৩০০.০৬ কোটি টাকা। যার মধ্য নারী উদ্যােক্তাদের  ৪৫০ কোটি টাকা কর্মসংস্থান ব্যাংক ঋণ প্রদান করেছে। 
  • দুগ্ধ উৎপাদন খাতে ঋণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ২৬৪ কোটি টাকা থেকে করা হয়েছে ৩১৪ কোটি টাকায়। গবাদি পশু পালন খাতে এই ঝণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ৪০৬ কোটি থেকে ৪৯০ কোটি টাকা এবং চিংড়ি ও অন্যান্য মৎস্য চাষে লক্ষ্যমাত্রা ১৩০ কোটি টাকা করা হয়েছে। 
  • ব্যাংক আদায়যোগ্য ঋণের সাথে শ্রেণীকৃত ঋণের হারও ৪% রেখেছে। এমনকি গ্রাহকের জন্য শ্রেণীকৃত ঋণের বিপরীতে কোন প্রভিশন ঘাটতি নেই এবং শ্রেণীকৃত ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ১০ কোটি টাকায়। 
  • একই সাথে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঋণ কার্যক্রমের নিবিড় তদারকীর ফলে ব্যাংকটি বিগত ২০১৯-২০২০ অর্থ-বছরে পরিচালনগত মুনাফা অর্জন করেছে ১৮.৫৯ কোটি টাকা। 
  • সরকারি কোষাগারে আয়কর বাবদ পরিশোধ করেছে সর্বমোট ১২.৭৫ কোটি টাকা।
  • কর্মসংস্থান ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান সুদৃঢ় ও দায় পরিশোধের জন্য রিজার্ভ সংরক্ষণ আছে ৫৯.২০ কোটি টাকা। 
  • বর্তমানে বঙ্গবন্ধু যুবঋণ কার্যক্রম চালু করেছে। 
  • অভ্যন্তরীন ৭৫% অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করণ। 
  • বাংলাদেশ ব্যাংক পরিদর্শন আপত্তি নিষ্পত্তি করণ ১০০%। 

কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়

কর্মসংস্থান ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের ঋণ দিয়ে থাকে, তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য কিছু ঋণ কর্মসূচী নিয়ে আমরা আলোচনা করবো, সেই সাথে কিভাবে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে ঋণ পাবেন সেই উপায়গুলো।

কর্মসংস্থান ব্যাংক
ব্যাংক লোন এপ্রুভাল
কর্মসংস্থান ব্যাংক যেসব ঋণ দিয়ে থাকে

কর্মসংস্থান বাংক কয়েক ধরনের ঋণ দিয়ে থাকে, বর্তমানে যেসব ঋণ কর্মসূচী আছে সেগুলো নিচে দেওয়া হল।

ক্ষুদ্র ব্যবসা ঋণ কর্মসূচী (SECP)

দেশের যেই সকল শিক্ষিত বেকাররা কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছে  তাদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসা ঋণ কর্মসূচী (Small Enterprise Credit Program)। 

নিজস্ব কর্মসূচী

দেশের যেই সকল শিক্ষিত বেকাররা কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছে তাদেরকে ঋণ দেওয়া।

সরকারের বিশেষ কর্মসূচী
  • কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন শিল্প স্থাপনে ঋণ সহায়তা কর্মসূচী। যেমনঃ কৃষিভিত্তিক সকল  শিল্পের বৃদ্ধি করা, গ্রামীণ পর্যায়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা, দেশের জিডিপিতে কৃষিভিত্তিক শিল্পের অবদান বৃদ্ধি করা, কৃষিভিত্তিক শিল্প বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা। 
  • শিল্প কারখানা/প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছা-অবসরপ্রাপ্ত/কর্মচ্যুত শ্রমিক/ কর্মচারীদের কর্মসংস্থানে স্বল্প জামানতসহ বা জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান কর্মসূচী। 
  • বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুশ্রম নিরসনকল্পে ঋণ প্রদান কর্মসূচী (EHC LB-Eradication of Hazardous Child Labour in Bangladesh) 
  • বাংলাদেশ ব্যাংক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ঋণ সহায়তা কর্মসূচী। যেমনঃ প্রাণীজ আমিষ বৃদ্ধির মাধ্যমে দৈহিক ও মেধার বিকাশ সাধন করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা, জিডিপিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের অবদান বৃদ্ধি করা। 
  • বাংলাদেশ ব্যাংক ‘‘দুগ্ধ উৎপাদন ও কৃত্রিম প্রজনন খাতে পুন:অর্থায়ন স্কীম’’ কর্মসূচী। যেমনঃ কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জাত উন্নয়নপূর্বক দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা,  কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জাত উন্নয়নপূর্বক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা, দুগ্ধ উৎপাদনের মাধ্যমে জিডিপিতে অবদান বৃদ্ধি করা।
বিদেশে কর্মসংস্থান ঋণ কর্মসূচী

যে সকল ব্যক্তি বিদেশে গমন করতে ইচ্ছুক তাদেরকে সহজ শর্তে এবং স্বল্প ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বিদেশ গমনে সহায়তা প্রদান।

কম্পিউটার/ল্যাপটপ ক্রয় ঋণ

কম্পিউটার/ল্যাপটপ ক্রয়ে ঋণ প্রদান করা হয় ব্যাংকে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য।

মোটর সাইকেল ঋণ

স্বল্প সুদে মোটর সাইকেল ঋণ প্রদান করা হয় ব্যাংকে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের পরিবহন/যোগাযোগ সুবিধার জন্য।  

কনজুমারস ক্রেডিট স্কীম/ ব্যক্তিগত (পারসোনাল) ঋণ

কনজুমারস ক্রেডিট স্কীমের আওতায় ঋণ প্রদান করা হয় ব্যাংকে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের নিত্য ব্যবহার্য ভোগ্যপণ্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য।

গৃহ নির্মাণ ঋণ

স্বল্প সুদে গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান করা হয় ব্যাংকে কর্মরত স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা সৃষ্টির জন্য।

লোন দেওয়ার ক্ষেত্র

প্রাণিসম্পদ

দুগ্ধ খামার, গরু/ছাগল/ভেড়া/মহিষ পালন, লেয়ার মুরগীর খামার, ব্রয়লার/ককরেল মুরগীর খামার, কোয়েল/টার্কির খামার।

মৎস্য শিল্প

মৎস্য চাষ যেমনঃ তেলাপিয়া, থাই কৈ, মিশ্র মৎস্য চাষ, পুকুরে রেণু পোনা উৎপাদন, কার্প জাতীয় মাছ।

কুটির শিল্প

ব্লক-বাটিক/প্রিন্টিং, মৃৎ শিল্প, কামারের কাজ,  তাঁত শিল্প, গ্রামীণ স্যানিটারী ল্যাট্রিন তৈরি ইত্যাদি।

বাণিজ্যিক শিল্প

ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, কাপড়ের ব্যবসা, কীটনাশক ব্যবসা, বিভিন্ন ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা ইত্যাদি।

পরিবহন বা যানবাহন সেবা

টিভিসএস টু-হুইলার/থ্রি হুইলার-এর মাধ্যমে পণ্য/যাত্রী পরিবহন সেবা প্রকল্পে ঋণ প্রদানঃ লাইসেন্সপ্রাপ্ত/শিক্ষানবিশ ড্রাইভার/উদ্যোক্তাদের আত্মনির্ভরশীল এবং দক্ষ করে গড়ে তোলা, যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, পণ্য সরবরাহ/পরিবহন ব্যবস্থা উন্নতি, সদর, জেলা-উপজেলাসহ গ্রামাঞ্চলে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা বানানো, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসকরণ,  টিভিএস অটো বাংলাদেশ লিমিটেড-এর সাথে কর্মসংস্থান ব্যাংকের সমঝোতা স্মারক সম্পাদনের মাধ্যমে বেকার যুবদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বেকারত্ব হ্রাস ও দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়তাকরণ ও তাদের ঋণ প্রদান।

বিভিন্ন সেবা খাত

কম্পিউটার সেবা, ফটোকপি সেবা, স্টুডিও, শিক্ষা সেবা (কোচিং সেন্টার/কিন্ডার গার্টেন), ওয়ার্কশপ, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সাইবার ক্যাফে ইত্যাদি।

কারখানা শিল্প

প্রাণি খাদ্য তৈরির কারখানা, কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরির কারখানা, মৎস্য খাদ্য তৈরির কারখানা, চিড়া/মুড়ি কল/ শিল্প, ধানের চাতাল/রাইস মিল, বেকারী শিল্প ইত্যাদি।

অন্যান্য উৎপাদনশীল উদ্যগ

ফল-ফুল চাষ, নকশীকাঁথা তৈরি, মৌমাছি চাষ, শাক- সবজি চাষ, সেরিকালচার ইত্যাদি। 

আরো পড়ুনঃ  BMET কি? কিভাবে বিএমইটি স্মার্ট কার্ড পাবেন? জেনে নিন বিস্তারিত স্টেপ বাই স্টেপ।

ঋণ পাওয়ার শর্ত

  • ঋণ গ্রহীতাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  • কর্মসংস্থান ব্যাংক যেহেতু বেকারদের ঋণ দিয়ে থাকে সেহেতু ঋণ গ্রহীতাকে অবশ্যই বেকার অথবা কাজ করে না এমন হতে হবে।
  • সাধারণত ১৮ থেকে ৪৫ বছর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। তাই ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই ১৮ বছরের প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে।
  • ঋণগ্রহীতা যে শাখায় ঋণ নিতে ইচ্ছুক সেই শাখার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। যদি সে স্থায়ী বাসিন্দা না হয় তাহলে সেই শাখার অধিক্ষেত্রের একজন স্থায়ী বাসিন্দাকে তার ঋণের গ্যারান্টার হতে হবে।
  • ঋণগ্রহীতা অবশ্যই একজন উদ্যোক্তা হবেন সেটা ছোট বা বড় যাই হোক না কেন। সেই প্রকল্প বা  উদ্যোগ বা ব্যবস্থাপনা পরিচালনার বিষয়ে তাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত বা অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে হবে।
  • প্রকল্প বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের অনুমোদিত হতে হবে।
  • ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা আগে অষ্টম শ্রেণি ছিল এখন পঞ্চম শ্রেণি করা হয়েছে।
  • অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক থেকে ঋণখেলাপী হলে ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন না।
  • ঋণগ্রহীতার ঋণ নীতিমালার অন্য সকল নিয়ম অনুসরণের সক্ষমতা থাকতে হবে।
কর্মসংস্থান ব্যাংক ঋণ ফরম
কর্মসংস্থান ব্যাংক ঋণ

ব্যাংক ঋণ ফরম

কর্মসংস্থান ব্যাংকে সাধারণত ঋণের পরিমাণ এর ভিত্তিতে আবেদন ফরমের মূল্য নির্ধারিত হয়। ২ লক্ষ টাকা ঋণের জন্য আবেদন ফরম ৩০০ টাকা, ৪ লক্ষ টাকা ঋণের জন্য আবেদন ফরম ৪০০ টাকা এবং এর চেয়ে বেশি টাকা ঋণের জন্য আবেদন ফরম ৫০০ টাকা মূল্যের হয়ে থাকে। আপনি যে শাখায় আবেদন করেছেন সেই শাখায় যদি ঋণ মঞ্জুর করার ক্ষমতা থাকে তাহলে ১০ দিনের মধ্যেই সকল কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। আর যদি সেই শাখার মঞ্জুর করার ক্ষমতা না থাকে তাহলে আপনার সকল কাগজপাতিসহ আবেদনটি আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানো হবে এবং সেটি ৫ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু যদি আঞ্চলিক কার্যালয়েও তা মঞ্জুর করার ক্ষমতার বাইরে হয় তাহলে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে আপনার কাজ সম্পূর্ণ হতে সর্বোচ্চ ৪৫ কার্যদিবস সময় লাগবে। 

অনলাইন আবেদন

ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহীতাকে ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।  আবেদনপত্রের সাথে নিজস্ব কর্মসূচির নেয় চেক লিস্ট অনুযায়ী সকল তথ্য জমা দিতে হবে। কর্মসংস্থান ব্যাংকে ঋণের জন্য অনলাইনেও আবেদন করা যায়। এই ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহীতাকে http://kbolas.karmasangsthanbank.gov.bd/Loan-Application-Form এই লিংকে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদন ফরমের এগারোটি ঘর থাকবে যা একজন ঋণগ্রহীতাকে সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। 

  • প্রথম ঘরে যে শাখা থেকে আপনি আবেদন করতে চান সেই শাখা নির্বাচন করতে হবে। 
  • পরের ঘরে নিজের পুরো নাম দিতে হবে। 
  • তৃতীয় নাম্বার ঘরে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার এবং চতুর্থ নাম্বার ঘরে নিজের মোবাইল নাম্বার দিতে হবে। 
  • পঞ্চম নাম্বার ঘরে পিতার নাম বা স্বামী/স্ত্রীর নাম এবং ষষ্ঠ ঘরে মাতার নাম দিতে হবে।
  • সপ্তম ঘরে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা লিখতে হবে। 
  • অষ্টম ঘরে একজন গ্যারান্টর এর নাম লিখতে হবে। অবশ্যই মনে রাখবেন একজন গ্যারান্টর ঋণ পরিশোধে সক্ষম ব্যক্তিই হতে পারবে। তিনি ঋণ পরিশোধে সক্ষম তা প্রমাণ করার জন্য কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হবে। যেমনঃ হাল খাজনার দলিল, জমির দলিলপত্র (এস.এ খতিয়ান, মিউটেশনের কপি), TIN সার্টিফিকেট। গ্যারান্টর যদি চাকুরিজীবী হই তবে তার প্রত্যয়নপত্র বা ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট। 
  • নবম ঘরেগ্যারান্টরের জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার লিখতে হবে। 
  • দশম ঘরে আপনার জন্ম তারিখ দিতে হবে।
  • একাদশ ঘরে নিজের কাজের নাম, ধরণ লিখতে হবে। অর্থাৎ কাজটি কি, কেমন হবে, কত টাকা ঋণ নিবেন, কিভাবে কাজ শুরু করবেন সবকিছু গুছিয়ে একাদশ ঘরে লিখতে হবে।  

ঋণ কর্মসূচীর সুদ

  • ক্ষুদ্র ব্যবসা ঋণ কর্মসূচীঃ ১৩%।
  • নিজস্ব কর্মসূচীঃ উৎপাদনশীল ও সেবামূলক খাতঃ ১১%। যদি ঋণ ফেরতে অনিয়মিত/খেলাপী হয়ে যায় তাহলে আরও ১% এবং  ঋণের সময় মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে ১% যোগ করা হবে। বাণিজ্যিক খাতঃ ১৩%। যদি ঋণ ফেরতে অনিয়মিত/খেলাপী হয়ে যায় তাহলে আরও ১% এবং  ঋণের সময় মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে ১% যোগ করা হবে।
  • কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে ঋণ সহায়তা কর্মসূচীঃ ৮ – ৯%।
  • বাংলাদেশ ব্যাংক দুগ্ধ উৎপাদন ও কৃত্রিম প্রজনন খাতে পুন:অর্থায়ন স্কীম (বিবিকৃপ) : ৫%।
  • বাংলাদেশ ব্যাংক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ঋণ সহায়তা কর্মসূচী (বিবিমপ্রাস) : ১০%।

তবে সুদের হার পরিবর্তনযোগ্য। 

ঋণ পেতে যা যা দরকার

কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে একজন ঋণগ্রহীতার ঋণ নিতে হলে লাগবেঃ

  • দুই/তিন জন গ্যারান্টর।
  • সত্যায়িত করা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
  • সত্যায়িত করা পাসপাের্ট সাইজ ছবি।
  • শিক্ষাগত যােগ্যতার সনদপত্র।
  • প্রশিক্ষনের সনদপত্র।
  • নাগরিকত্ব সনদপত্র।
  • গ্যারান্টর এর সত্যায়িত করা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি।
  • গ্যারান্টরের নাগরিকত্ব সনদপত্র।
  • ১ লক্ষ টাকার বেশি ঋণ নিতে হলে ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি লাগবে। কিন্তু ১ লক্ষ টাকার ক্ষেত্রে কোন জামানত লাগে না।  

ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ

একজন ঋণগ্রহীতা ঋণ নিতে পারে সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা। তবে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে যদি সে কোন গ্রুপ ব্যবসা শুরু করে। ঋণের মেয়াদ সাধারনত ২ বছর হলেও বিশেষ অবস্থায় পরিপ্রেক্ষিতে মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। 

মৃত্যুঝুঁকি আচ্ছাদন স্কিম

কর্মসংস্থান ব্যাংকের একটি নিজস্ব নিয়মনীতি আছে মৃত্যুঝুঁকি আচ্ছাদন স্কিম নামে। এই নীতি অনুসারে প্রত্যেক ঋণগ্রহীতাকে মৃত্যুঝুঁকি আচ্ছাদন স্কিম এর সদস্য পদ নিতে হবে এবং একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা দিতে হবে। কিন্তু এই চাঁদা ফেরত দেওয়া হবে না। ঋণের মেয়াদ যদি এক বছর হয় তাহলে চাঁদার হার হবে ০.৪০%।  ঋণের মেয়াদ যদি দুই বছর পর্যন্ত হলে চাঁদার হার হবে ০.৫০%। দুই বছরের বেশি হলে চাঁদার হার ০.৬০% হবে। একখন ভাবতে পারেন এটার কারণ কী? কারণ যদি একজন ঋণগ্রহীতা ঋণের মেয়াদ শেষ হবার আগেই মারা যান তাহলে তার  ঋণের টাকা এই আচ্ছাদন স্কিম থেকে নিয়ে নেওয়া হবে। যার ফলে ঋণগ্রহীতার পরিবারের কাউকে ঋণের দায় নিতে হবে না। কিন্তু তারা কোন সুবিধাও পাবে না। 


কোন কোন খাতে কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাবেন? | বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পদ্ধতি  

 সতর্কতাঃ

  • কর্মসংস্থান ব্যাংক ঋণের টাকা চেক হিসেবে দেয়। কখনাে নগদ অর্থ দিবে না। সেজন্য ঠিকমত টাকা বুঝে নিতে হবে। 
  • সবকিছু ভালোমত দেখে চেকের পিছনে নিজের সই দিতে হবে। 
  • চেককে অন্য কাউকে দিয়ে ক্যাশ না করিয়ে নিজেই করাতে হবে। 
  • ব্যাংকের সকল প্রকার লেনদেন করার সময় রশিদ নিয়ে রাখতে হবে। 
  • ঋণের সকল কাজের জন্য সরাসরি ব্যাংকের ম্যানেজার বা ব্যাংকের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে যােগাযােগ বা কথা বলতে হবে। 
  • অন্য কোন ব্যক্তির কাছে গিয়ে নিজের আর্থিক তথ্য দেওয়া যাবে না।  

সর্বশেষে কর্মসংস্থান ব্যাংক বর্তমানে বেকার যুবকদের কাছে ভাগ্য পরিবর্তনের একটি রাস্তা। এর সহায়তায় যেমন দিন দিন অনেক বেকার যুবক তার ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে তেমনি পাশাপাশি দেশের বেকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান তৈরী হচ্ছে। 

বিঃদ্রঃ এই ব্লগের প্রত্যেকটা ব্লগ পোস্ট Sylhetism ব্লগের নিজস্ব ডিজিটাল সম্পদ। কেউ ব্লগের কোন পোস্ট কিংবা আংশিক অংশ ব্লগের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কপি পেস্ট করে অন্য কোথাও প্রকাশ করলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার অধিকার রাখে। এবং অবশ্যই কপিরাইট ক্লাইম করে যে মাধ্যমে এই ব্লগের পোস্ট প্রকাশ করা হবে সেখানেও অভিযোগ সাবমিট করা হবে।

ধন্যবাদ, ব্লগ কর্তৃপক্ষ।

2 thoughts on “কর্মসংস্থান ব্যাংক কি? কর্মসংস্থান ব্যাংক লোন পাওয়ার উপায়”

  1. আমার একটি ছোট গরুর খামার আছে আমি আরো বড় করতে চাই, এজন্য আমার আরো টাকা লাগবে সব নিয়ম মেনে আমি সততার সথে নিয়োজিত থেকে নিতে চাই, আমার ৫০০০০০ লাখ টাকা লোন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

    1. এখানে লোনের কথা বলে তো হবে না, আপনাকে কর্মসংস্থান বাংক লোন পাওয়ার জন্যে আপনার নিকটস্থ কর্মসংস্থান ব্যাংকে যোগাযোগ করতে হবে।
      আশা করি বুঝতে পারছেন।
      ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You cannot copy content of this page