ই-চালান কি

ই-চালান কি? চালান কি কি কাজে লাগে? 

চালান হলো বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমের একটি তালিকা। যেখানে মূলত বিভিন্ন বাণ্যিজিক হিসাব রাখা হয়। অর্থাৎ এটি একটি দলিল হিসেবে  ব্যবহৃত হয়। চালান সাধারণত ক্রয়, বিক্রয়, রেমিট্যান্সের হিসাব বা অন্যান্য বাণিজ্যিক  কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

চালান ও ট্রেজারী চালান

চালান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বা যে কোন প্রতিষ্ঠানের ক্রয় বিক্রয় সমন্ধীয়  তালিকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু আমার যখন কোন সরকারি ফি বা প্রাপ্তি পরিশোধ করতে চালান ব্যবহার করি তখন তাকে ট্রেজারী চালান বলে। অর্থাৎ ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে বিভিন্ন  সরকারি ফি প্রদান করা হয়ে থাকে।

ই-চালান কি

ই-চালান কি?  ই- চালান, যার পূর্ণরূপ ইলেক্ট্রোনিক চালান (Electronic Challan)।  যা বাংলাদেশ সরকারের একটি ডিজিটাল পদক্ষেপ যেখানে ঘরে বসে বিভিন্ন সরকারি ফি, যেমন- জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট ফি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট, নামজারি আবেদন, চাকরির পরীক্ষার ফি ইত্যাদি প্রদান করা যাবে।

বাংলাদেশ সরকার জনগণের ভোগান্তি লাঘব, রাজস্ব আহরণ ও হিসাবের সঙ্গতি সাধন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের উদ্যোগ ও ত্বত্তবধায়নে ২৫শে মার্চ, ২০১৮ তারিখে একটি অনলাইন প্লাটফর্ম চালু করে যা, ই-চালান, সরকারেরের প্রাপ্তি বাতায়ন  নামে নামকরণ করে। যে অনলাইন সাইট ব্যবহার করে চালান সংক্রান্ত বিভন্ন কার্যক্রম ঘরে বসে ডিজিটাল উপায়ে করা যাবে। এখান থেকেই নির্দেশনা অনুসারে সরকারি বিভিন্ন প্রাপ্তি পরিশোধ করা যাবে।  ই-চালান কি ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে তা হলো,

  • সরকারের প্রাপ্ত কর সহ বিভিন্ন সরকারি সেবার ফি প্রচলিত ব্যাংকে দেয়ার পদ্ধতির পাশাপাশি অনলাইলে ফি দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ গ্রাহক চাইলে ফি নিজে ঘরে বসেও দিতে পারবেন আবার নির্দিষ্টি ব্যাংকের মাধ্যমেও  প্রদান করতে পারবেন।
  • ই-চালান পদ্ধতিটি  সরকারি সকল ধরণের প্রাপ্তি বা ফি অনলাইনে জমা দেয়ার অনলাইন প্লাটফর্ম  হিসেবে বিবেচিত হবে। এবং অদূর ভবিষ্যতে এটিকে উন্নত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাতীয় পেমেন্ট গেটওয়ের সাথে যুক্ত করা হবে।
  • প্রাথমিক ভাবে শুধু  সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ফি ও জাতীয় পরিচয়পত্র ফি জমা দেয়ার সুবিধা সরকারের প্রাপ্তি বাতায়নে অর্থাৎ ই- চালান এ চালু করা হয়েছে। পরবর্তীতে লোকবল ও কাঠামোগত উন্নয়ন করে অন্যান্য সরকারি ফি  জমা দেয়ার  সুবিধা পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে।

ই-চালানের অগ্রাধিকার ও উদ্দেশ্য

ই- চালান কি উদ্দেশ্যে পরিচালিত হবে তা নিয়ে সরকার থেকে কিছু সুস্পষ্ট ধারণা দেয়া হয়েছে।  চালানের উদ্দেশ্য গুলো,

  • ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ট্রেজারি চালান জমা প্রদানের সুবিধা প্রবর্তন। পূর্বে আমাদের নির্দিষ্টি ব্যাংকে গিয়ে চালান ফরম সংগ্রহ করে ট্রেজারি চালান করতে হতো। সেটাই এখন ডিজিটাল মাধ্যমে করার লক্ষ্যে ই-চালান প্লাটফরম তৈরি করা হয়েছে।
  • সরকারি বিভিন্ন সেবা প্রত্যাশীদের জন্য সেবা ফি দেয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্দেশ্যে ই-চালান, সরকারেরের প্রাপ্তি বাতায়ন প্রবর্তন করা হয়েছে।
  • ভুয়া (fake) চালান জমা ও রাজস্ব ফাঁকির প্রবণতা, দুর্নীতি  রোধসহ সময় মতো সেবা প্রাপ্তি ফি এর  অর্থ জমা নিশ্চিতকরণ।
  • সরকারি প্রাপ্তি বৃদ্ধিসহ আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা।

ই-চালান কি কি সুবিধা দেয়

বাংলাদেশ সরকার জনসাধরণের দুর্ভোগ কমাতে সরকারেরের প্রাপ্তি বাতায়ন চালু করছে। এই ই-চালান কি ধররনের সুবিধা দিবে তাও জানা দরকার। এখান থেকে জনগণ যেমন বিভন্ন সুবিধা পাবে তেমনি ভাবে সরকারও সেবাদান হতে প্রাপ্ত অর্থের সামঞ্জস্য করতে পারবে। এখান থেকে যে যে সুবিধা পাওয়া যাবে বলে সরকার মনে করছে,

  • অনলাইনে এই বাতায়ন ব্যবহার করে  ১৮টি সহজবোধ্য বিষয়ভিত্তিক কিংবা নির্দিষ্ট সেবাভিত্তিক চালানের অর্থ ঘরে বসে, ব্যাংক বা নিজেদের সুবিধা মতো জমা দেয়া যাবে।
  • কোন ভোগান্তি ছাড়াই  নির্দিষ্ট ব্যাংক কাউন্টারে অর্থ জমা প্রদান করা যাবে।
  •  অনলাইনে ঘরে বসেই  চালান ফরম পূরণ ও প্রিন্ট করা যাবে।
  • সরকারী সেবা গ্রাহীতা  চাইলে শূণ্য চালান ফরম প্রিন্ট করতে পারবে এবং সে ফরম পূরণে করে ব্যাংকের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে পারবে।
  • এই অনলাইন সাইটে  ব্যবহারকারী প্রয়োজনীয় তথ্য নিবন্ধন করে নিজের একাউন্ট তৈরি করতে পারবে। যে একাউন্ট ব্যবহার করে চালান সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
  • এই সাইটি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রাপ্তি প্রতিবেদন প্রণয়ন করা যাবে ও ফি দেয়া যাবে।
ই-চালান কি
ফটোঃ চালান ফর্মের নমুনা

ই চালান থেকে অর্জন সমূহ

  •  সাধারণ জনগের ভোগান্তি লাঘবসহ অর্থ ও সময়ের অপচয় রোধ হওয়া।
  • চালানের অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সারসরি সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিতকরণ।
  •  নিবন্ধনকৃত গ্রাহককে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোট চালান সংখ্যা ও অর্থ জমা প্রদানের তথ্য প্রদান এই সাইটের অন্যতম বৈশিষ্ট।
  •  সরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট প্রাপ্তি সম্পর্কিত প্রকৃত সময়ভিত্তিক (real-time based) হালনাগাদ তথ্য প্রদান।

ই চালানের প্রভাব সমূহ

ই-চালান কি কোন ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে? এ নিয়ে জনমনে সংশয় থাকলেও ই-চালান চালু হওয়ার পরে সরকারি সেবা প্রদানের ফি প্রদান ব্যবস্থায় বেশ কিছু  ইতিবাচক প্রভাব কতৃপক্ষ সনাক্ত করেছে। তার মধ্যে হলো,

  • সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক মোট রাজস্ব আহরণের হিসাব ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয় প্রদত্ত হিসাবের মধ্যেকার পার্থক্য দূরীভূত হবে। অর্থাৎ সকল লেনদেন ডিজিটাল হওয়ায় সরকারের মোট রাজস্বের পরিমাণের সাথে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের দেয়া তথ্যের ব্যবধান কমবে।
  • প্রতিটি চালানের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাংক, হিসাবরক্ষণ কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংগতিসাধন (reconciliation)- এর ফলে রাজস্ব ফাঁকি কমবে। অর্থাৎ সকল কিছু অনলাইনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত বিধায় এখানে ফাঁকি দেয়া কোন সুযোগ থাকবে না।
  •  সরকারি প্রাপ্তি সম্পর্কিত হালনাগাদ তথ্য সরকারের আর্থিক অবস্থান (fiscal position) ও ঋণ ব্যবস্থাপনা কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
  •   প্রক্রিয়া সহজীকরণের ফলে অনলাইনে চালান জমা প্রদানে আগ্রহীর সংখ্যা বাড়বে। অর্থাৎ ব্যাংকে লাইন ধরা কিংবা নানা ব্যাংক জটিলতা এড়িয়ে সহজেই সরকারি ফি পরিশোধ করার সুবিধা থাকায় এতে  জনসাধারণ আগ্রহী হবে। 

টেকসই অবস্থা

  • সরকারের যে কোন প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব সেবা ফি অথবা কর প্রাপ্তির কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশের এ্যাডমিনিস্‌ট্রেটর হিসেবে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে;
  • ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা এবং অর্থবিভাগের সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি (Integrated Budget and Accounting System – iBAS++)-কে এপ্লিকেশন ইন্টারফেজের মাধ্যমে ‘ই-চালান’ বাতায়নের সাথে যুক্ত করে সরকারি প্রাপ্তি প্রক্রিয়াকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সক্রিয় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

চার-ধরণের জমাদান সুবিধা

ই-চালান কি ধরণের সুবিধা দেয়? প্রচলিত পদ্ধতি অর্থাৎ ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি ফি পরিশোধ করার পাশাপাশি  ই-চালান মাধ্যমে ‍ফি প্রদান করলে নিচের চার ধরণের সুবিধা পাবেন।

অনলাইন জমা দেয়ার সুবিধা

অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন এমন যে কেউ অনলাইনে রাজস্ব জমা দিতে পারবেন। প্রয়োজনীয় তথ্য দেয়ার মাধ্যমে অনলাইনে নির্দিষ্ট ফরম  পূরণ করার পর ‘পরিশোধের পদ্ধতি’ অংশে গিয়ে ‘অনলাইন পরিশোধ’ অপশনটি নির্বাচন করে নির্দিষ্ট ব্যাংক একাউন্ট থেকে অর্থ ট্রান্সফারের মাধ্যমে চালানের অর্থ জমা দেওয়া যাবে।

কাউন্টারে জমা প্রদানের সুবিধা

যাদের অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধা নেই কিংবা টাকার পরিমাণ বেশী কিংবা অনলাইন লেনদেনে আগ্রহী নন, এমন যে কেউ ‘ই চালান’ এর নির্দিষ্ট অংশসমূহের তথ্য পূরণের পর ‘পরিশোধের পদ্ধতি’ অংশে গিয়ে ‘কাউন্টার জমা’ অপশনটি নির্বাচন করবেন । এরপর প্রিন্ট অপশন গিয়ে ‘বার কোড’ যুক্ত পূরণকৃত চালান ফরমটি প্রিন্ট করে নির্দিষ্ট ব্যাংকের শাখায় গিয়ে নগদ/চেক/ড্রাফট/পে অর্ডারসহ জমা দিতে হবে। ‘বার কোড’ রিডিং এর মাধ্যমে ব্যাংক কাংঙ্খিত তথ্য আহরিত করে লেনদেনটি সম্পন্ন করবে

নির্দিষ্ট চালান ফরম পূরণ

 অনলাইন ব্যাংকিং বা কাউন্টারে জমা প্রদান না করেও শুধুমাত্র নির্দিষ্ট চালান ফরম পূরণ করে টাইপকৃত চালান ফরম প্রিন্ট করার সুবিধাও ‘ই-চালান’ এ রয়েছে। এক্ষেত্রে সুবিধামত যে-কোন শাখায় পূরণকৃত চালান ফরমটি ব্যবহার করা যাবে।

শূন্য ফরম

আপনি যদি শুধু শূন্য ফরম চান তাও ‘চালান ফরম’ মেনুতে ক্লিক করে শুধু চালান ফরম প্রিন্ট করে পরবর্তীতে হাতে লিখে জমা দিতে পারবেন।

ই-চালান কি ভাবে কোড নির্বাচন করে?

ই টালানের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হলে নির্দিষ্ট কোডের মাধ্যমে টাকা জমা দিতে হয়। যে কোডে টাকা জমা দেওয়া হবে সে কোডটি ৩ ভাবে নির্বাচন করা যাবে।

বিষয়ভিত্তিক জমা  

আপনি যে খাতে টাকা জমা দিতে চান, ‘বিষয়ভিত্তিক জমা’ মেনু থেকে নির্দিষ্ট বিষয়ে যাওয়ার পর প্রর্দশিত সাব-মেনুসমূহ থেকে সঠিকটি নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় কোডটি চিহ্নিত করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জমা

যে কোডের বিপরীতে আপনি টাকা জমা দিতে চান, সে কোড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এর নাম জানা থাকলে ‘প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জমা’ মেনুতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নির্বাচনপূর্বক প্রর্দশিত কোডসমূহের তালিকা থেকে আপনি সঠিক কোডটি নির্বাচন করতে পারবেন।

অর্থনৈতিক কোডভিত্তিক জমা

নির্দিষ্ট কোড জানা থাকলে ‘অর্থনৈতিক কোডভিত্তিক জমা’ মেনু থেকে নির্দিষ্ট কোডটি নির্বাচন করেও আপনি রাজস্ব জমা প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবেন।

ই চালান কি কি পরিষেবা দিবে

ই-চলানের মাধ্যমে প্রাথমিক ভাবে তিনটি বিভাগে সরকারি কোষাগারে সরাসরি টাকা জমা দেয়া যাবে।

১) পাসপোর্ট ফি,

২) পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ফি

৩) জাতীয় পরিচপত্র ফি

পরবর্তীতে আরো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ই- চালানের মাধ্যেমে টাকা জমা দেয়া যাবে।

ই-চালান  একাউন্ট কীভাবে করবেন

নিজে নিজেই খুব সহজে ই-চালান ওয়েব সাইট ব্যবহার করে একাউন্ট ওপেন করে টাকা জমা দিতে পারবেন। এখানে দুই ভাবে নিবন্ধন করতে পারবেন।

ক. ব্যক্তি হিসেবে

খ. প্রতিষ্ঠান হিসেবে

আপনাদের সুবিধার্থে কীভবে করবেন তা দেয়া হলো।

ব্যক্তি হিসেবে

১) প্রথমেই আপনাকে ই-চালানের ওয়েব সাইট http://echallan.gov.bd/ এ প্রবেশ করতে হবে। সেখান থেকে উপরের ডান দিকের মেনু থেকে নিবন্ধন করুন  অপশন নির্বাচন করুন।

২) পরবর্তী পেজে আপনি দুটি অপশন থেকে ব্যক্তি হিসেবে নিবন্ধন করুন এ ক্লিক করুন। একটি ফরম দেখাবে। এই ফরমে আপনাকে সব তথ্য সঠিক ভাবে দিতে হবে। নিবন্ধীকরণের ধরন এর ঘরে ব্যক্তি বা উদ্যোগক্তা  আপনার ক্ষেত্রে যেটা হবে তা নির্বাচন করবেন। বাকি সকল তথ্য দেয়ার সময় শতভাগ নিশ্চিত তথ্য পূরণ করবেন।

৩) সব তথ্য পূরণ করা হলে ক্যাপচা পূরণ করে আমি সকল শর্ত পড়েছি এবং মেনেছি এই বক্সে টিক দিয়ে নিবন্ধন করুন এ ক্লিক করলেই আপনার ই চালান একাউন্ট তৈরি হয়ে যাবে। এবার আপনি আপনার ইউজান নেম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করে এখান থেকে যাবতীয় সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠান হিসেবে

প্রতিষ্ঠান হিসেবে হিসেবে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আপনাকে একই নির্দেশনা মেনে ফরম পূরন করতে হবে। ওয়েব সাইটে প্রবেশ করে নিবন্ধন করুন অপশন নির্বাচন করবেন। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধন করুন এ ক্লিক করলে একটি ফরম আসবে। সেখান আপনার প্রতিষ্ঠানের তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করলেই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

ব্যাংক ড্রাফট ও ই চালানের মধ্যকার পার্থক্য

আমরা ব্যাংক ড্রাফটের কথা নিশ্চই  শুনেছি বা অনেকে ব্যাং ড্রাফট ব্যবহার করেছি। আবার অনেকে ব্যাংক ড্রাফট ও ই-চালান এর মধ্যে পার্থক্য কী তা জানেন না। এখন আমরা ব্যাংক ড্রাফট ও ই- চালান এর পার্থক্য জেনে নিবো।

ব্যাংক ড্রাফট

আমরা যখন কোন  ব্যাংকের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন প্রয়োজনে বা কোন সেবার ফি হিসেবে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করি সেটাই হলো ব্যাংক  ড্রাফট । ব্যাংক ড্রাফট আমরা যেকোন ব্যাংকের মাধ্যমে করতে পারবো। তবে আমরা যদি কোন প্রতিষ্ঠানকে ড্রাফটের মাধ্যমে টাকা দিতে চাই তবে প্রতিষ্ঠান যে ব্যাংকের কথা বলে দিবে সে ব্যাংকের মাধ্যমে ড্রাফট করতে হবে। আমাদের দেশে সাধারণত সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যাংক ড্রাফট করা হয়।  কিন্তু যদি কোথাও কোন প্রতিষ্ঠানের কথা বলা না থাকে তবে আপনি সরাসরি সোনালি ব্যাংকের মাধমে নিশ্চিন্তে ড্রাফট করতে পারবেন।

ই চালান

ই-চালান হলো বিভিন্ন সরাকরি সেবার ফি পরিশোধ করার একটি ডিজিটাল মাধ্যম। এর মাধ্যেমে আপনি উল্লেখিত নির্দেশনা অনুসারে সরকারি বিভিন্ন ফি পরিশোধ করতে পারবেন। এখান ঘরে বসেই যাবতীয় ফি পরিশোধ করা যাবে। এখানে অর্থ সরাসরি সরকারি কোষাগারে গিয়ে জমা হয়।

এক কথায় ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কে টাকা দেয়া হয় আর ই চালানের মাধ্যমে সরকারি বিভিন্ন ফি পরিশোধ করা হয়।

শেষ কথা

সরকার বর্তমানে বিভিন্ন সেবা সহজ করার জন্য ডিজিটাল ভাবে সব সেবা দেয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা আমাদের জন্য অনেক সুফল বয়ে্ আনবে। তাই আমাদের এসব ডিজিটাল সেবা গ্রহণ করার সময় সচেতন থাকতে হবে। কোন ধরণের আর্থিক লেলদেন করার সময় অব্যশই কোথায় বা কার সাথে লেনদেন করছেন তা সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হয়েই অর্থ জমা দিবেন। অন্যথায় প্রতারণার স্বীকার হতে পারুন। নিজে যদি অনলাইন সেবা গ্রহণে অভিজ্ঞ না হন তবে বিশস্ত কারো থেকে সহয়তা নিতে পারেন বা ডিজিটাল সেবা সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করতে পারেন। মনে রাখবেন আপনার একটু অসচেতনতা বা ভুলের কারণে আপনিই ক্ষতির সম্মূখীন হবেন। 

তথ্যসূত্র: http://echallan.gov.bd/

বিঃদ্রঃ 

এই ব্লগের প্রত্যেকটা ব্লগ পোস্ট Sylhetism ব্লগের নিজস্ব ডিজিটাল সম্পদ। কেউ ব্লগের কোন পোস্ট কিংবা আংশিক অংশ ব্লগের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কপি পেস্ট করে অন্য কোথাও প্রকাশ করলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার অধিকার রাখে। এবং অবশ্যই কপিরাইট ক্লাইম করে যে মাধ্যমে এই ব্লগের পোস্ট প্রকাশ করা হবে সেখানেও কমপ্লেইন করা হবে।

এই ব্লগের কোন লেখায় তথ্যগত কোন ভুল থাকলে আমাদের Contact পেইজে সরাসরি যোগাযোগ করুণ, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তথ্য যাচাই করে লেখা আপডেট করে দিবো।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You cannot copy content of this page