ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

ইসবগুলের ভুসি

ইসবগুলের ভুসি, আমাদের দেশে খুব পরিচত একটি নাম। শুধু আমাদের দেশে না, গোটা উপমাদেশে বেশ পরিচিত উপকারী এই খাদ্য উপাদানটি। আমরা ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম  ভালো ভাবে না জানলেও রোজার মাসে এটি অনেক খেয়ে থাকি। ইফতারের পর  ইসবগুলের ভুসির শরবত সারাদিনের ক্লান্তি দূর করার অন্যতম উপাদান। শুধু রোজার মাস না, বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা ইসবগুলের ভুসি খেয়ে থাকি।  এটি বিভিন্ন রোগ থেকে আমাদের মুক্তি দেয়। এখানে আমরা ইসবগুলের ভুসি কি, ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম , এর ব্যবহার সম্পর্কে ভালো ভাবে জেনে নিবো। যাতে করে এই উপকারি ‍উপাদনটির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি।

ইসবগুলের ভুসি কি

ইসবগুলের ভুসি  হল এক প্রকার দ্রবণীয় ফাইবার যা সাইলিয়াম (প্ল্যান্টাগো ওভাটা) বীজের খোসা থেকে পাওয়া যায়।  রেচক বা ল্যাক্সেটিভ (laxative) হিসেবে  পরিচিত  ইসবগুলের ভুসি আমাদের দেহের বিভিন্ন অঙ্গ, হার্ট বা হৃদপিন্ড এবং অগ্নাশয় (Pancreas) সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে গবেষনায় প্রমাণিত হয়েছে।

ইসবগুলের ফুল
ছবিঃ ইসবগুলের ফুল (Photo Source: Getty Images)

উৎপত্তি ও পরিচিতি

এর আদি বাসভূমি ভূমধ্যসাগরীয়  দেশগুলোতে। তবে ক্রমে ক্রমে এটি দুনিয়ে জুড়ে এর বিস্তৃতি ঘটেছে। স্পেন, উত্তর আফ্রিকা, পাকিস্তানের সিন্ধু এলাকা, চীন, রাশিয়া ও ভারতে এর চাষ হতে দেখা যায়। ‘প্ল্যান্ট্যাগো’ জেনাসের প্রায় ২০০ প্রজাতির মধ্যে ১০ টি প্রজাতি ভারতে পাওয়া যায়।  ভারতে ইসবগুল প্রবেশ করেছে ষোড়শ শতকে, মোগল শাষন আমলে ভারতীয় উপমহাদেশে ইসবগুলের ভুসির চাষ শুরু করা হয় বলে ধারণ করা হয়। দক্ষিণ-পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বন্যভাবে বেড়ে ওঠা সাইলিয়াম বিভিন্ন ধরণের নামে বিক্রি হয়। তবে সেখানে মেটামুসিল নামে পরিচিত।

বাণিজ্যিকভাবে যে কয়েকটি প্রজাতি চাষ করা হয় তার মধ্যে রয়েছে, ফ্রান্সের কালো বীজ প্ল্যান্ট্যাগো ইন্ডিকা (Plantago indica), স্পেনীয় প্ল্যান্ট্যাগো সিলিয়াম (Plantago psyllium) ও ভারতীয় সাদাটে বীজ প্ল্যান্ট্যাগো ওভাটা (Plantago ovata)।

এই গাছ লম্বায় দেড় থেকে দুই ফুট হয়ে থাকে। এর ফল দু’কোষ বিশিষ্ট  হয়ে থাকে যা লম্বায় ৭-৮ মিমি. হয়ে থাকে। ভেতরের বীজ ৩ মিমি. হয়ে থাকে। এর উপরে খোসা পিচ্ছিল থাকে। যেটা ইসবগুলের ভুসি  হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

বীজের খোসাগুলো ভুসি হিসেবে খাওয়া হয়ে থাকে। এই ভুসি আমরা সাধারণত শরবত বানিয়ে খেয়ে থাকি। উপকারী এই ইসবগুল আমাদের কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা ধরণের রোগ থেকে মুক্তি দেয়।

ইসুবগুলের গাছ
ছবিঃ ইসুবগুলের গাছ

✅ ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম ✅

ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম  আমরা যেটা জানি তা হলো, দুই বা তিন চামচ ইসবগুলের ভুসি এক ক্লাস পানিতে রাতে ভিজিয়ে সকালে শরবত বানিয়ে খাই। কিন্তু এছাড়াও আরো অনেক নিয়ম আছে ইসবগুলের ভুসি খওয়ার। বেশির ভাগক্ষেত্রেই আমরা ইসবগুলের ভুসি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাবার জন্য খেয়ে থাকি। কারণ এর মধ্যে থাকা উপাদান আমাদের মলকে নরম করে ও আমরা সহজে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাই। এখানে আমরা বিভিন্ন ধরণের উপকার পেতে ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম  গুলো জেনে নিবো।

  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে: কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করতে  হলে আপনাকে ২ চামচ করে ১ গ্লাস কুসুম গরম পানি বা দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করতে হবে। এর জন্য অবশ্যই ভালো করে ভিজিয়ে নিতে হবে। ভালো করে ভিজিয়ে নিলে এটি জল শোষণ করে নিয়ে পাকস্থলীতে গিয়ে মল বৃদ্ধি ও নরম করতে সাহয্য করে।
  • ডায়রিয়া নিরাময়ে: ডায়রিয়াতেও ইসবগুলের ভুসি থেকে উপকার পাওয়া যায়। এজন্য আপনি ২ চা চামচ ভুসি ১৫ মিলিলিটার টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খাবারের পরে খাবেন। এরপর ১ গ্লাস পানি খেয়ে নেবেন। এর মধ্যে থাকা প্রিবায়োটিক উপাদান পাকস্থলীর ইনফেকশন দূর করে ডায়রিয়া থেকে মুক্তি দেয়।
  • ওজন কমাতে ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম: ইসবগুলের ভুসি ওজন কমানোর জন্যেও কার্যকারী ভূমিকা পালন করে। ওজন কমাতে হলে প্রতিদিন সকালে কুসুম গরম পানিতে ২ চামচ ইসবগুলের ভুসি এবং  সাথে অল্প পরিমাণে লেবুর রস মিশিয়ে নিতে হবে। এই শরবত আপনি সকালের নাস্তার আগে খাবেন। আপনি চাইলে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেতে পারেন। তবে অবশ্যই ভালো ভাবে ভেজানোর কথা মাথায় রাখতে হবে।
  • হজমের সমস্যা হলে যেভাবে খাবেন: হজমজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে ইসবগুলের ভুসি খেতে পারেন। এক্ষেত্রে ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম, ঘোলের সাথে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিবেন। যাতে করে ভালো করে ভিজতে পারে। খাবারের পর ইসবগুল দেয়া ঘোলের শরবত খাবেন। হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। কারণ ইসবগুলের ভুসি পাকস্থলিতে বর্জ্য নিষ্কাশনে সহায়তা করে হজমের প্রক্রিয়াকে সহজ করে।
  • পাইলসের সমস্যায় ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম: পাইলসের সমস্যার জন্য ২ চামচ ইসবগুলের ভুসি কুসুম কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করতে হবে। ইসবগুলের ভুসি আপনার মলকে নরম করে তাই। যাদের পাইলসের ব্যথা রয়েছে তাদের ব্যথা কমাতে ইসবগুলের ভুসি কাজ করে।
  • খাদ্যানালির প্রদাহ বা এসিডিটি কমাতে যে ভাবে খাবেন:  ২ চা চামচ ইসবগুল ১ গ্লাস ঠাণ্ডা পানির সঙ্গে মিশিয়ে  খেতে পারেন। সাধারণত যাদের এ সমস্যা রয়েছে, খাওয়ার পর তাদের পেট-বুক জ্বালাপোড়া করা ও পেটে গ্যাস হওয়া গ্যাস হয়ে থাকে। খাবারের পর এটি খেলে  পাকস্থলীর গায়ে এটি আবারণ সৃষ্টি করে। ফলে খাবারে সৃষ্ট এসিড থেকে সমস্যা কম হয়।
  • ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম: প্রতিদিন খাবারের পর দুই চামচ ইসবগুলের  ভুসির সাথে এক গ্লাস দুধ বা পানি পান করবেন। এটি পাকস্থলীতে জেলির ন্যায় পদার্থের রূপ নেয় এবং সেটা গ্লুকোজের ভাঙ্গন ও শোষণের গতিকে ধীর করে। যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

নোট: তবে মনে রাখতে হবে, কখনোই দইয়ের সাথে এই ভুসি মিশিয়ে খাবেন না,যদি আপনার ডায়াবেটিস থাকে। কারণ এতে করে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

ইসবগুলের ভুসির ঔষধি গুণ

ইসবগুলের ভুসিতে রয়েছে নানা ধরণের ঔষধিগুণপ্ল্যান্টাগো ওভাটা এই গাছের বীজের খোসা হলো ইসবগুলের ভুসি। এটি এক ধরণের ঔষধি গাছ বলে স্বীকৃত আছে। বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গুনের মধ্যে অন্যতম হলো,

  • এটি ভেষজ ঔষধ হিসেবে স্বীকৃত। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কেমিক্যাল ঔষধের বিপরীতে আগে  এটি ব্যবহার করা হতো।
  • এটি প্রিবায়োটিকের কাজ করে।
  • এটি ল্যাক্সেটিভ (laxative) হিসেবে পরিচিত
  • এতে থাকা ফাইবার হার্ট সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
  • ইসবগুলের ভুসি মুত্রপ্রদাহ ও মূত্র স্বল্পতা কমাতে সহায়তা করে।
  • এর ফাইবার উপাদান পাকস্থলীতে আবার সৃষ্টি ক্ষার ধর্ম প্রদর্শন করে।
  • এটি কোন বিষক্রিয়া করে না, বরং এটি পাকস্থালিতে এক ধরণের আবরণ সৃষ্টি করে যা এসিডিটি থেকে মুক্তি দেয়।
ইসুবগুলের ভুসি
ইসুবগুলের ভুসি

ইসবগুলের ভুসির উপকারিতা

আমরা শুধু কোষ্ঠ্য কাঠিন্য এর জন্য এটি ব্যবহার করলেও  ইসবগুলের ভুসির উপকারিতা অনেক। এটি আমারদের দেহের জন্য উপকারি একটি উপাদান। এর মধ্যে থাকা ফাইবার বিভিন্ন ভাবে আমাদের দেহের উপকার করে। ইসবগুলের ভুসির কিছু উপকারিত হলো,

কোষ্ঠকাঠিন্য

ইসবগুলের ভুসি সব থেকে বেশি উপকারী হলো কোষ্ঠকাঠিন্য এর বিরুদ্ধে। কারণ দ্রবণীয় ফাইবার গ্রহণ করলে অন্ত্রের নিয়মিততা বজায় থাকে। সাইলিয়াম তথা ইসবগুলের ভুসি আপনার পাচনতন্ত্রের নিচের দিকে যায় এবং এটি অন্ত্রে জল শোষণ করে, ফুলে যায় এবং জেলির মতো মল তৈরিতে অবদান রাখে যা নরম এবং সহজতর হয়।

2014 সালে অ্যালিমেন্টারি ফার্মাকোলজি এবং থেরাপিউটিক্সে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় দেখা যায়,   মলের ফ্রিকোয়েন্সি এবং সামঞ্জস্যের উন্নতির জন্য সাইলিয়ামের কার্যকারিতা অনেক। অন্য একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে সাইলিয়াম এবং প্রুন ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সমানভাবে কার্যকর ছিল, তবে ছাঁটাই ফাইবার(prune fiber) পেট ফাঁপা এবং ফোলাভাব দূর করতে আরও কার্যকর।

হজম স্বাস্থ্য

এটি একটি বাল্ক-গঠন রেচক। এর মানে এটি আপনার অন্ত্রে জল ভিজিয়ে রাখে এবং মলত্যাগকে অনেক সহজ করে তোলে এবং পেট ফাঁপা না বাড়িয়ে নিয়মিততা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমানোর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, অথবা নিয়মিতভাবে এবং সামগ্রিক হজমের স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে এটি আপনার খাদ্যে যোগ করা যেতে পারে।

ইসবগুলের ভুসি হল একটি প্রিবায়োটিক – একটি পদার্থ যা অন্ত্রে বৃদ্ধির জন্য প্রোবায়োটিকের সুস্থ উপনিবেশগুলির জন্য প্রয়োজনীয়।

স্বাস্থ্যকর ইমিউন ফাংশনের জন্য পাচনতন্ত্রে ভাল ব্যাকটেরিয়ার একটি সুস্থ উপনিবেশ অপরিহার্য। আপনার শরীর সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে, প্রদাহ কমাতে এবং স্বাস্থ্যকর টিস্যু এবং কোষগুলি বজায় রাখতে সক্ষম।

আপনার অন্ত্রের গতিবিধি নিয়মিত রাখা এবং একটি দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা পরিচালনা করার পাশাপাশি, আপনি পর্যাপ্ত জল পান করলে সাইলিয়াম আপনার মল নরম করার ক্ষমতা রাখে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো স্বল্প-মেয়াদী অসুস্থতার সাথে কার্যকর হতে পারে। এইভাবে ব্যবহার করা হলে, এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের জটিলতা প্রতিরোধ করতে পারে, যেমন অর্শ্বরোগ এবং মলদ্বার ফিসার।

প্রাথমিক গবেষণা দেখায় যে সাইলিয়াম এই অবস্থার সাথে যুক্ত বেদনাদায়ক উপসর্গগুলির সাহায্য করতে পারে।

লক্ষনীয় যে, এর যেহেতু কোন বাস্তব বৈজ্ঞানিক সম্মতি নেই, তাই সাইলিয়াম আপনাকে সাহায্য করতে পারে কিনা তা দেখতে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।

হার্টের স্বাস্থ্য

হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ইসবগুলের ভুসি অনেক উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে যে, দ্রবণীয় ফাইবার গ্রহণ করা মানুষকে তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। সঠিক কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ প্রত্যেকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, আর এটি 50 বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য অত্যাবশ্যক।

একটি সমীক্ষা দেখায় যে দৈনিক ছয সপ্তাহ ধরে, সাইলিয়াম গ্রহণ করা একটি কার্যকর উপায় যারা স্থূল বা অতিরিক্ত ওজন তাদের কোলেস্টেরল কমাতে এটি কার্যকর ভুমিকা পালন করে। এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুব কম ।

অসংখ্য গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাইলিয়ামের মতো ফাইবার গ্রহণে একজন ব্যক্তির হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া ইসবগুলের ভুসি  রক্তচাপ কমিয়ে, লিপিডের মাত্রা উন্নত করে এবং হার্টের পেশী শক্তিশালী করে আপনার  হার্টকে প্রভাবিত করতে পারে।

ইসবগুলের ভুসি আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে

আমরা আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক চিন্তা ভাবনা করি। আর এর জন্য বয়স আর উচ্চতার সাথে তাল মিলিয়ে ওজনের সামঞ্জস্য রাখা খুব দরকারী। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘস্থায়ী অবস্থা রয়েছে। আপনার হার্ট এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ভালো হওয়ার পাশাপাশি সাইলিয়াম আপনাকে ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

সাইলিয়াম বা ইসবগুলের ভুসি আপনার শরীরের তরল শোষণ করে, এটি আপনাকে ভরপেট হওয়ার অনুভূতি দিতে সাহায্য করতে পারে। এটি আপনাকে আপনার খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করতে পারে। সাইলিয়াম গ্রহণের সম্ভাবনা সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন যদি তারা আপনাকে ওজন কমানোর পরামর্শ দেয়

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাই জানেন যে জীবন কত কষ্টের। যারা একবার এই রোগে আক্রান্ত হয় তাদের খাওয়াদাওয়ায় অনেক বাঁধা পড়ে। কারণ,ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ইনসুলিন এবং রক্তে শর্করার (গ্লুকোজ) স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য তাদের খাদ্যের প্রতি সচেতন হতে হয়। কিছু গবেষণা পরামর্শ দিয়েছে যে সাইলিয়ামের মতো ফাইবারগুলি মানুষকে স্বাস্থ্যকর গ্লাইসেমিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। সুতরাং আপনি যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তবে ইসবগুলের ভূসি একটি উত্তম সমাধান হতে পারে।

ইসুবগুলের ভুসি
এক চামচ ইসুবগুলের ভুসি

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS)

2014 সালে একটি মেটা-বিশ্লেষণ করা হয়। যেখানে 14টি এলোমেলোভাবে নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালে ডায়েটারি ফাইবার পরিপূরক মূল্যায়ন করা হয়। যাতে 906 জন আইবিএস রোগীর সাথে জড়িত ফাইবার পরিপূরক (বিশেষত সাইলিয়ামের সাথে) প্লাসিবোর তুলনায় আইবিএস লক্ষণগুলির উন্নতিতে কার্যকর ছিল। আইবিএস একটি সাধারণ দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল ডিসঅর্ডার (gastrointestinal disorder) যা খুব কম খাদ্যতালিকাগত ফাইবার দ্বারা সৃষ্ট বলে ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয়। আইবিএস আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে, দ্রবণীয় ফাইবার অদ্রবণীয় ফাইবারের তুলনায় কম পেটে ব্যথা, অস্বস্তি, পেট ফোলা, বিস্তৃতি এবং পেট ফাঁপা হতে পারে বলে মনে করা হয়।

পরিপূর্ণ তৃপ্তি পেতে

দ্রবণীয় ফাইবারকে পূর্ণতা বা তৃপ্তির অনুভূতি প্রচার করার জন্যও উপকারি হিসেবে দেখা যায়। যার ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে আরও ভাল হতে পারে। 2016 সালে অ্যাপেটাইট জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায়, উদাহরণস্বরূপ, প্লাসিবোর তুলনায় সাইলিয়াম সাপ্লিমেন্টেশনের ফলে খাবারের মধ্যে পূর্ণতা এবং কম ক্ষুধা থাকে। অর্থাৎ দেখা যায় যে, ইসবগুলের ভুসি খাবারে তৃপ্তি দিতে সাহায্য করে।

এগুলো ছাড়াও ইসবগুলের ভুসি বিভিন্ন ভাবে আমাদের উপকার করে।

🚫 ইসবগুলের ভুসির অপকারিতা 🚫

ইসবগুলের ভুসিতে অনেক উপকারিতা থাকলেও  এর কিছু এর কিছু অপকারিতাও রয়েছে। ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম জানতে হলে এর অপকারিতা গুলোও আমাদের মাথায় রাখা দরকার।

সাইলিয়াম অন্ত্রের বাল্ক তৈরি করে এবং এর রেচক প্রভাব রয়েছে, তাই এটি কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। আপনি যদি নতুন নতুন ইসবগুলের ভুসি খান বা দৈনিক প্রয়োজনীয় মাত্রার অধিক পরিমাণে ইসবগুলের ভুসি খেয়ে থাকেন তবে আপনার বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। যেমন,

  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • পেটে ব্যথা এবং ক্র্যাম্প
  • ডায়রিয়া
  • গ্যাস
  • হারাকনো, অম্ন
  • বমি বমি ভাব এবং বমি
  • পেট ব্যথা

আপনি যদি সাইলিয়ামে অ্যালার্জির মতো প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন তবে অবিলম্বে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন। ইসবগুলের খুবই বিরল ঝুঁকি হলো,

🚫 ইসবগুলের ভুসির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া 🚫

  • দীর্ঘ সময় ধরে ইসবগুলের ভুসি খাওয়া যাবে না। এতে সমস্যা হতে পারে। কিছুদিন বিরতি দিয়ে দিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।
  • পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলির মধ্যে গ্যাস, ফোলাভাব, ডায়রিয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এলার্জি প্রতিক্রিয়াও রিপোর্ট করা হয়েছে। কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করতে, প্রচুর পরিমাণে তরল পান করুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং পুরো শস্য (ব্র্যান) সিরিয়াল, ফল এবং শাকসবজি সহ উচ্চ ফাইবার ডায়েট খান।
  • অন্ত্রে বাধা বা খিঁচুনি, গিলতে অসুবিধা বা পরিপাকতন্ত্রের কোথাও সংকুচিত বা বাধা আছে এমন লোকদের সাইলিয়াম নেওয়া উচিত নয়। কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা এবং যারা নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করছেন তারা সাইলিয়াম সাপ্লিমেন্ট নিতে পারবেন না। শিশুর স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর দ্বারা সুপারিশ না করা পর্যন্ত শিশুদের ইসবগুলের ভুসি খাওয়াবেন না।
  • আপনার যদি এমন একটি স্বাস্থ্যের অবস্থা থাকে যার জন্য চিকিত্সার প্রয়োজন হয় (যেমন ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ), তবে আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সাথে কথা বলুন। এছাড়া কিছু ঔষধের সাথে ইসবগুলের ভুসি খেলে সমস্যা হতে পারে। তাই যে কোন ধরণের ঔষধের সাথে ইসবগুলের ভুসি খেতে পারবেন কিনা তা সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের কাছে থেকে জেনে নিন।

শেষ কথা

ইসবগুলের ভুসি আমাদের জন্য যে খুব উপকারি একটি উপাদান তা আমরা সবাই জানি। এখান থেকে এ নিয়ে যাদের মনে বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন ছিল তা দূর হয়েছে বলে আশা করি।  আশা করি  ইসবগুলের ভুসি খাওয়ার নিয়ম গুলো জানার পরে আমরা সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবো। এবং এর থেকে উপকার পাবার পাশাপাশি সৃষ্ট সমস্যাগুলো থেকেও বাঁচতে পারবো।

তথ্যসূত্র: 

১) https://www.verywellhealth.com/the-benefits-of-psyllium-89068

২) https://www.healthline.com/health/psyllium-health-benefits

বিঃদ্রঃ  এই ব্লগের প্রত্যেকটা ব্লগ পোস্ট Sylhetism ব্লগের নিজস্ব ডিজিটাল সম্পদ। কেউ ব্লগের কোন পোস্ট কিংবা আংশিক অংশ ব্লগের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কপি পেস্ট করে অন্য কোথাও প্রকাশ করলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার অধিকার রাখে। এবং অবশ্যই কপিরাইট ক্লাইম করে যে মাধ্যমে এই ব্লগের পোস্ট প্রকাশ করা হবে সেখানেও কমপ্লেইন করা হবে।

এই ব্লগের কোন লেখায় তথ্যগত কোন ভুল থাকলে আমাদের Contact পেইজে সরাসরি যোগাযোগ করুণ, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তথ্য যাচাই করে লেখা আপডেট করে দিবো।

এই ব্লগের কোন স্বাস্থ বিষয়ক পোস্টের পরামর্শ নিজের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের মতামত নিবেন, আমরা স্বাস্থ বিষয়ে কোন বিশেষজ্ঞ না, আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ হচ্ছে সঠিক তথ্য পরিবেশন করা। সুতারাং কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার অবশ্যই আমরা নিবো না।

ধন্যবাদ, ব্লগ কর্তৃপক্ষ।

Author

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You cannot copy content of this page