থাইরয়েড কমানোর উপায়, থাইরয়েডের লক্ষণ ও কারণ ২০২২

থাইরয়েড কমানোর উপায়

থাইরয়েড খুব পরিচিত একটি নাম। এটি একটি ছোট গ্রন্থি। কিন্তু এই গ্রন্থি থেকে নিসৃঃত হরমোন শরীরের খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। শরীরের বিপাক ও বৃদ্ধিতে থাইরয়েড গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এই হরমোন নিঃসরনে একটু ত্রুটি দেখা দিলেই বাধে বিপত্তি। যাকে বলা হয় থাইরয়েড সমস্যা। পৃথিবী ব্যাপি থাইরয়েড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।

আমরা অনেকেই এই রোগের নাম শুনেছি বা আশে পাশে আক্রান্ত রোগী দেখেছি কিন্তু কখনো এই রোগ সর্ম্পকে বিস্তারিত জানা হয়নি। নিজেও যে কোন সময় এই রোগে আক্রান্ত হতে পারি, তাই আমাদের থাইরয়েড কি? লক্ষণ, কারণ ও থাইরয়েড কমানোর উপায় এ সর্ম্পকে সঠিক তথ্য জানতে হবে। চলুন তাহলে এই রোগ সর্ম্পকে কিছু তথ্য জেনে নেওয়া যাক-

থাইরয়েড কি?

থাইরয়েড হল একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি যা আমাদের গলার সামনের দিকে অবস্থিত, দেখতে অনেকটা প্রজাতির ন্যায়। পুরুষের এডামস এপলের ঠিক নিচে এর অবস্থান। এই গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন নামক হরমোন নিসৃত হয় এবং আরো কিছু প্রয়োজনীয় হরমোন নিঃসৃত হয়। এই  হরমোনগুলো মেটাবলিক রেট এবং প্রোটিন সিন্থেসিসকে প্রভাবিত করে। এছাড়া ও থাইরয়েড আরো কিছু হরমোন তৈরই করে যা দেহের বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। থাইরয়েড হরমোন ট্রাইডোথাইরোনাইন টি-থ্রি ও থাইরক্সিন  টি-ফোর আয়োডিন ও টাইরোসিন দ্বারা গঠিত হয়। থাইরয়েড হরমোনের কাজ হলো কলা কোষে শক্তি উৎপন্ন করা, অক্সিজেন গ্রহণ করা এবং বিপাক ক্রিয়া ত্বরাণিত করা। অর্থাৎ BMR বৃদ্ধি করা। থাইরয়েড গ্রন্তির এ হরমোন কম বা বেশি উৎপাদন হলেই দেখা দেয় থাইরয়েড সমস্যা।

থাইরয়েড কি
থাইরয়েড (Photo Source: www.gettyimages.com)

মানব দেহে থাইরয়েড এর নরমাল মাত্রা কত?

মানুষের শরীরে থাইরক্সিন (T4) এর পরিমান (T3) এর থেকে বেশি। মানুষের রক্তে T4 ও T3 এর স্বাভাবিক অনুপাত ১৪ঃ১ থেকে ২০ঃ১ হয়ে থাকে। এর বেশি বা কম হলেই দেখা যায় থাইরয়েড রোগ।

থাইরয়েড কেন হয়?

থাইরয়েড সমস্যা বর্তমানে সারা বিশ্বে হরমোন জনিত সমস্যার মধ্যে অন্যতম। হরমোন জনিত রোগ ডায়াবেটিস এর পরেই এর অবস্থান।মূলত পুরুষের তুলনায় নারীদের এই রোগ বেশি হয়।

প্রধানত যেসব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে বলে বিষেশজ্ঞরা মনে করেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কি কি কারণে থাইরয়েড হতে পারে-

  • আয়োডিনের অভাবে এ রোগ বেশি হয়ে থাকে।থাইরয়েড গ্রন্থির হরমোন তৈরিতে যেহেতু আয়োডিনের প্রয়োজন পরে তাই প্রয়োজনীয় আয়োডিন না পেলে থাইরয়েড সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • হরমোন জনিত কারণেও থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে। যেমন মা,বাবা বা পূর্ব পুরুষের কারো থাইরয়েড সমস্যা থাকলে জেনেটিক লিংকে থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে।
  • এছাড়া রেডিও আয়োডিন খেয়ে থাকলে থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে।
  • কোন কারণে গলায় সার্জারী হয়ে থাকলেও থাইরয়েড সমস্যা দেখা দিয়ে পারে।

উপরোক্ত কারনে প্রধানত থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে বলে ধারনা করা হয়। এছাড়াও অন্য কোন কারনে থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে। নির্দিষ্ট কোন কারণ ছাড়াও শিশু,বয়স্ক,নারী পুরুষ যে কারো থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে।

থাইরয়েড কাদের হয়?

এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া টা কঠিন। থাইরয়েড সমস্যা যে কারো যে কোন সময় হতে পারে। তবে নারী পুরুষের তুলনা করলে নারীদের এ রোগে আক্রান্ত হতে বেশি দেখা যায়। হাইপো বা হাইপার দুটোই নারীদের বেশি হতে দেখা যায়। মহিলারা থাইরয়েড হলে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেঃ

  • ঋতু চক্রে সমস্যাঃ থাইরয়েড সমস্যা হলে মহিলাদের অনিয়মিত মাসিক হতে পারে। তাছাড়া বেশি রক্ত ক্ষরণ বা কম রক্ত ক্ষরণ হতে পারে।
  • প্রেগ্ন্যাসির সমস্যাঃ যেহেতু থাইরয়েড হলে মাসিকে অনিয়ম দেখা দেয় তাই প্রেগ্ন্যাসিতে সমস্যা হয়ে থাকে। থাইরয়েড হরমোন ডিম্বাণু পরিষ্ফুটনে প্রভাব ফেলে বলে গর্ভ ধারনে সমস্যার সৃষ্টি হয়।
  • গর্ভাবস্থায় সমস্যাঃ যদি কোন গগর্ভবতীর থাইরয়েড সমস্যা থাকে তাহলে তা মা ও শিশু উভয়ের জন্য হুমকি স্বরূপ। থাইরয়েড নিঃসৃত হরমন গুলো শিশু বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই যাদের থাইরয়েড সমস্যা থাকবে তাদের উচিত আগে চিকিৎসা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে গর্ভধারণের সিন্ধান্ত নেওয়া।

থাইরয়েডের লক্ষণ

থাইরয়েড সমস্যা হলে শরীরে কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। এই পরিবর্তন বা লক্ষন গুলো দেখে বুঝতে হবে আপনার থাইরয়েড হয়েছে। দেখা যায় হঠাৎ করে শরীরে ওজন অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে বা কমে গেছে। চামড়া খসখসে হয়ে যায়। থাইরয়েডের লক্ষন জানার আগে আমাদের জানতে হবে থাইরয়েডের প্রভাবে কি কি রোগ হতে পারে। রোগ ভেদে থাইরয়েডের লক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেই থাইরয়েড এর প্রভাবে কি কি রোগ হয় এবং এর থাইরয়েডের লক্ষণ গুলো কিঃ

থাইরয়েড গ্রন্থি দিয়ে ২ ধরনের হরমোন নিসৃঃরিত হয়

১. ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন(T3)

২. থাইরক্সিন(T4)

থাইরয়েড হরমোন কম উৎপন্ন হওয়াকে বলে  হাইপোথাইরয়েডিসম এবং বেশি উৎপন্ন হওয়াকে বলে হাইপারথাইরয়েডিসম। উভয়ই আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। উক্ত গ্রন্থিতে আরো কিছু রোগ হতে পারে। যেমনঃ

i) হাইপোথাইরয়ডিজম (Hypothyroidism)

ii) হাইপারথাইরয়ডিজম (Hyperthyroidism)

iii) গয়েটার (Goiter)

iv) নডিউল (Nodule)

v) থাইরয়েড ক্যান্সার (Thyroid Cancer)

vi) গ্রেভস ডিজিজ (Graves’ disease)

i) হাইপোথাইরয়ডিজম

থাইরয়েড গ্রন্থি প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন উৎপাদন করলে তাকে হাইপোথাইরয়ডিজম বলে। যদিও এর লক্ষন অনেক সময় চোখে পড়ার মত দেখা যায়না, এর জন্য অনেকে বুঝতেই পারেন না তারা হাইপোথাইরয়ডিজম এ আক্রান্ত।

হাইপোথাইরয়ডিজম হলে যেসব লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হলোঃ

১. ক্লান্তি কিংবা অবসাদ অনুভব হয়,

২. কোনো কিছুতে মনোযোগ দেওয়া যায় না,

৩. ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়,

৪. কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে,

৫. পেশীতে এবং বিভিন্ন জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যাথা অনুভূত হয়।

৬. বিষণ্ণতা,

৭. মহিলাদের ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত পরিমাণ রক্তক্ষরণ হয়।

৮. পালস রেট স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকতে পারে,

ii) হাইপারথাইরয়ডিজম

এক্ষেত্রে হাইপারথাইরয়ডিজম এর উল্টো ঘটনা ঘটে থাকে। থাইরয়েড গ্রন্থি যখন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হরমোন উৎপাদন করে তখন তাকে হাইপারথাইরয়ডিজম বলে।

হাইপারথাইরয়ডিজম হলে যে লক্ষণগুলো দেখা যায় তা হলোঃ

১. অতিরিক্ত ঘাম হয়,

২. হজমে সমস্যা হয়,

৩. দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ বেড়ে যায়

৪. ওজন কমতে শুরু করে,

৫. পালস রেট বেড়ে যায়,

৬. অনিদ্রা,

৭. চুল পরা শুরু করে,

৮. চামরা উঠে ত্বক পাতলা হয়ে যায়,

৯. ঋতুস্রাব অনিয়মত হয় বা রক্ত ক্ষরণ কম হয়।

১০.বয়স্কদের ক্ষেত্রে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।

হাইপারথাইরয়ডিজম হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে তা না হলে থাইরয়েড স্টর্ম হতে পারে। যাতে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, জ্বর আসতে পারে এমনকি হৃদস্পন্দন বন্ধ হতে পারে।

insomnia
ছবিঃ Insomnia বা অনিদ্রা

iii) গয়েটার

থাইরয়েড গ্রন্থিটি যেহেতু হরমোন তৈরি করে আর এই হরমোন তৈরিতে আয়োডিনের প্রয়োজন পরে। গ্রন্থিটি যখন প্রয়োজনীয় আয়োডিন পায় না তখন নিজে থেকেই চেষ্টা করে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন তৈরি করতে। এতে করে গ্রন্থিটি নিজে বড় হয়ে যায়। এই অবস্থাকে বলে গয়েটার।

এজন্য যেসন মানুষ আয়োডিনের অভাবে ভোগে তাদের গয়েটার হওয়াত সম্ভাবনা বেশি থাকে। বর্তমানে খাবার লবনে আয়োডিন মেশানো থাকে বলে এই রোগ অনেকাংশে কমিয়ে আনা গেছে।

iv) নডিউল

থাইরয়েড গ্রন্থিতে টিউমার দেখা দিতে পারে। এই টিউমারকে নডিউল বলে। এক্ষেত্রে টিউমার এক বা একাধিক হতে পারে এবং বিভিন্ন আকারেরও হতে পারে। টিউমার হলে দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। কেন না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না নেওয়া হলে ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। যাকে বলে থাইরয়েড ক্যান্সার।

v) থাইরয়েড ক্যান্সার

থাইরয়েড ক্যান্সার হলে প্রথম দিকে তেমন লক্ষনীয় কোন লক্ষন চোখে পরে না।আস্তে আস্তে  যে যে লক্ষন দেখা যায় তা হলো-

১. গলা ফুলে যাওয়া

২. কাশি হওয়া

৩. স্বর পরিবর্তন হওয়া

৪. কিছু গিলতে না পারা

৫. ঘার,গলা ব্যাথা হওয়া।

থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হয়?

অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসতে পারে থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হবে না? হ্যাঁ হবে তবে ঝুকি থেকে যায়। তাই থাইরয়েড সমস্যা থাকে আগে চিকিৎসা নিয়ে বাচ্চা নেওয়া ভালো। তা না হলে থাইরয়েডের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে বাচ্চা সময়ের আগে প্রসব করতে পারে। এমনকি মৃত সন্তানও হতে পারে। থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে না থাকলে প্রি এক্লআম্পশিয়ার ঝুকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে বাচ্চা গর্ভে বাড়ে না।

থাইরয়েড কমানোর উপায়

থাইরয়েড কমানোর বা নিয়ন্ত্রনের কয়েকটি উপায়ই রয়েছে। চলুন তাহলে দেখে নেই থাইরয়েড কমানোর উপায় বা নিয়ন্ত্রনের উপায়। থাইরয়েড হলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। হাইপোথাইরয়ডিজম দেখা দিলে অর্থাৎ শরীর প্রয়োহনীয় আয়োডিন না পেলে থাইরয়েড গ্রন্থি হরমোন উৎপন্ন করতে পারে না। তাই সাপ্লিমেন্ট হিসেবে সল্ট খেতে দেওয়া হয়। আবার হাইপারথাইরয়ডিজম হলে এন্টি থাইরক্সিন ওষুধ দিয়ে হরমোন উতপাদন নিয়নন্ত্রন করা হয়।

এছাড়া কিছু খাবার আছে যে গুলো থেকে প্রচুর আয়োডিন পাওয়া যায়।

যেমনঃ খোসা সহ টমেটো খেতে বলা হয়। দুধ খাবে, সেই সাথে প্রচুর শাক সবজি, গাজর, কলা, স্ট্রবেরি, সামুদ্রিক মাছ কারণ এতে প্রচুর পরিমানে আয়োডিন থাকে। রান্নার লবণ থেকে আয়োডিন পেয়ে থাকি।

থাইরয়েড কমানোর উপায়
লবণে প্রচুর আয়োডিন থাকে।

আবার কিছু খাবার আছে যেগুলো খেতে  নিষেধ করা হয়। কেননা এগুলো শরীরের আয়োডিন নষ্ট করে দেয়। যেমনঃ বাধা কপি, ফুল কপি,ওল কপি,পালংশাক ইত্যাদি।

থাইরয়েড সমস্যা যেহেতু আয়োডিনের অভাবে হয়ে থাকে। তাই শিশু সহ সকলকে আয়োডিনযুক্ত খাবার খেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নিতে হতে। তবেই থাইরয়েড সমস্যা কমিয়ে রাখা যাবে বা নিয়ন্ত্রনে থাকবে।

থাইরয়েড কমানোর কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি

লাউঃ যাদের থাইরয়েড সমস্যা আছে তারা প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস খালি পেটে লাউয়ের সরবত খেয়ে নিতে পারেন। কয়েক ফোটা তুলসির রস কিছু এলোভেরা পান করতে পারেন। এভাবে প্রতিদিন খেলে থাইরয়েড অসুখ সারতে পারে।

  • ভিটামিন-এঃ ভিটামিন-এ যুক্ত খাবার থাইরয়েড কমাতে সাহায্য করে। তাই খাদ্য তালিকা অধিক মাত্রায় ভিটামিন-এ যুক্ত খাবার রাখতে হবে। সবুজ শাক সবজি,গাজরে প্রচুর ভিটামিন-এ পাওয়া যায়।
  • গোল মরিচঃ থাইরয়েড সারাতে চাইলে যত দ্রুত গোল মরিচ খাওয়া শুরু করে দিন। গোল মরিচ যেকোম ভাবে সেবন করা যায়।
  • সবুজ ধনেপাতাঃ সবুজ ধনে পাতা থাইরয়েড কমাতে সাহায্য করে। সবুজ ধনে পাতা পিষে ভর্তা করে খাওয়া যায়। পানিতে গুলে খাওয়া যায়। যেভাবেই সেবন করুন না কেন রেগুলার সবুজ ধনে পাতা খেলে থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
  • ডিমঃ থাইরয়েড রোগীদের জন্য ডিম উপকারী। প্রতিদিন ডিম খেলে  ভালোফল পাওয়া যেতে পারে।
  • নারকেল জলঃ নারকেল পানি থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রতিদিন না হলেও একদিন পর পর নারকেল পানি খাওয়া দরকার।

থাইরয়েড কমাতে ব্যায়াম

থাইরয়েড কমাতে ব্যায়াম খুব উপকারী হয়ে থাকে। উপরে আমরা জেনে এসেছি থাইরয়েড কি তার লক্ষন থাইরয়েড কমাতে কি কি খাবার বা মেডিসিন দরকার।

এখন জেনে নেই ব্যায়াম করলে কি কি উপকার পাওয়া যায়-

  • শরীরের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
  • ঘুম ভালো হয় ও দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা যায়।
  • শরীরের বিপাক ক্রিয়া ভালো কাজ করবে।
  • হাড়ের ঘনত্ব বাড়ায়।
  • হার্ট সুস্থ থাকে।

এখন জেনে নেই শুরুর দিকে  কি কি ব্যায়াম করা যায়- যারা কখনো ব্যায়াম করে নি তাদের শুরুতে ভারি ব্যায়াম না করাই ভালো। প্রথম দিকে হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করে আস্তে আস্তে ভারী ব্যায়াম করা উচিত। শুরুতে যে ব্যায়াম করা যায়-

  • হাটা হাটি করা-প্রতিদিন এক থেকে দেড় ঘন্টা হাটা স্বাস্থ্যর জন্য ভালো। এতে শরীর কর্মক্ষম থাকে।
  • সাইকেল চালানোঃ বাইরে বা ঘরে বসে চাইকেলিং করা যেতে পারে। এতে পেশিগুলো সচল থাকে।শরীরের রক্ত চলাচল ঠিক থাকে।
  • সাতার কাটাঃ সাতার কাটা এক ধরনের ব্যায়াম ।অনেক রোগ সারাতে চিকিৎসকগণ সাতার কাটার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
  • যোগ ব্যায়াম করাঃ যোগা ব্যায়াম করে থাইরয়েড অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। যোগা ব্যায়াম শরীরের কোন না কোন উপকার তো করেই থাকে। তাছাড়া যোগা ব্যায়ামের কোন প্বার্শপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই যে কেউ যোগা ব্যায়াম করতে পারে। প্রতিদিন সকালে এই সব যোগাব্যায়াম গুলো করলে থাইরয়েড কিছুটা কমে আসতে পারে।
  • হলাসন
  • বিপরীরকরণ
  • মসৎসান

এছাড়া যেকোন ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করা। এভাবে আস্তে আস্তে অভ্যস্ততা চলে আসলে। পরবর্তীতে ভারী যে কোন ব্যায়াম করা যেতে পারে। জীমে গিয়ে ভার উত্তলন ব্যায়াম বা অন্যান্য ব্যায়াম করতে পারেন।

থাইরয়েড সনাক্তকরণ

আমাদের আশেপাশের যে কারো থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রতি আট জন নারীর মধ্যে এক জনের থাইরয়েড সমস্যা হয়ে থাকে। ছোট শিশু থেকে শুরু করে যে কারো থাইরয়েড হতে পারে। শরীরে থাইরয়েড যে কোন উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে টেস্ট করে নিশ্চিত হতে হবে থাইরয়েড সমস্যা হয়েছে কিনা। থাইরয়েড সমস্যা ধরা পরলে ভয়ের কিছু নেই সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে থাইরয়েড কমিয়ে আনা সম্ভব।

যে যে পরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় থাইরয়েড  সমস্যা হয়েছে কিনা

১. থাইরয়েডের হরমোন পরীক্ষাঃ থাইরয়েডের হরমোনগুলোর মধ্যে T3, T4, TSH, FT3, FT4, Tg, TPO I AntiTgAb পরীক্ষা। এগুলো রক্তের মাধ্যমে করা হয়। এর মাধ্যমে থাইরয়েডের কার্যকারিতা,উৎপান্নের মাত্রা জানা যায়।

২. থাইরয়েড আপটেক পরীক্ষাঃ এই পরীক্ষার মাধ্যমে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা নির্ণয় করা যায়।

৩. থাইরয়েড স্ক্যান পরীক্ষাঃ এই পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর থাইরয়েডের ছবি নেওয়া হয়। এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক আরো পরীক্ষা দিতে পারেন।

থাইরয়েডের চিকিৎসা

থাইরয়েড সমস্যা হয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকরা সাধারণত T3,T4 এবং TSH পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।

হাইপো এবং হাইপার দুই ধরনের থাইরয়েড সমস্যা হতে পারে। হাইপো থাইরয়েডের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি।সেক্ষেত্রে প্রতি ৬ মাস বা ১ বছর পর পর থাইরয়েড এর কার্যকরীতা পর্যবেক্ষণ করতে হয়। তবে এটা নিশ্চিত যে সঠিক চিকিৎসায় থাইরয়েড পুরোপুরি ঠিক করা সম্ভব হয়। হাইপার থাইরয়েডে এন্টি থাইরয়েড ওষুধ দিয়ে থাইরয়েড এর উতপাদন বন্ধ করা হয়।

১/২ বছরের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান হয়ে যায় চিকিৎসকরা মনে করেন। এছাড়াও সমস্যার সমাধান না হলে রেডিও আয়োডিন সার্জারি করা হয়ে থাকে। থাইরয়েড গ্রন্থিকে সুস্থ রাখতে আয়োডিনের গুরুত্ব অনেক। তাই আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

এছাড়া গর্ভবতী নারীদের জন্য থাইরক্সিন হরমোন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা গর্ভে ভ্রুনের মস্তিষ্কের বিকাশে থাইরক্সিন হরমোন ভুমিকা রাখে। প্রথম ৩ মাস শিশুর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই যাদের থাইরয়েড সমস্যা আছে দাতের গর্ভধারণে নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে এন্ডোক্রিনোলজিস্ট এর পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিচের ভিডিও থেকে জেনে নিতে পারবেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাইরয়েড সম্পর্কে কি কি সাজেশন দেন।


থাইরয়েডর লক্ষণ কি, থাইরয়েড কমানোর উপায় [ডায়েট ও চিকিৎসা] কি? Thyroid – Symptoms, Treatment & Diet

থাইরয়েড ওষুধ কাদের জন্য নিষেধ

  • গর্ভবতী মহিলাদের সম্পূর্ণ নিষেধ। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ নেওয়া বন্ধ করতে হবে।
  • বুকের দুধ খায় যেসব মায়েরা তাদের জন্য সাময়িকভাবে থাইরয়েড এর ওষুধ খাওয়া বন্ধের নির্দেশ দেন চিকিৎসকরা।
  • কনট্রাষ্ট সিটি স্ক্যান হওয়া রোগীদের জন্য বিধিনিষেধ রয়েছে।

থাইরয়েডের প্রতিরোধে করনীয়

প্রতি বছর সারা বিশ্বে ২৫ শে মে থাইরয়েড দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশেও থাইরয়েড দিবস পালন করা হয় কিন্তু থাইরয়েড নিয়ে তেমনভাবে কোন কাজ করা হয়না।

রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। থাইরয়েড সমস্যা দিন দিন যে হারে বেড়ে চলছে তাতে এখনই সচেতনতা না বাড়ালে আমাদের দেশে থাইরয়েড সমস্যা এক সময় প্রকট আকার ধারণ করতে পারে।

১. সবার জন্য আয়োডিন গুরুত্বপূর্ণ সে বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

২. শিশু জন্ম গ্রহণের পর তার দেহে আয়োডিনের মাত্রা ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে।

৩. থাইরয়েডের লক্ষন, কারণ, কমানোর উপায় সর্ম্পকে সবাইকে অবগত করতে হবে।

৪. থাইরয়েড বিষয়ে সচেতনতা বাড়িয়ে সকলকে থাইরয়েড পরীক্ষার আওতায় আনা হোক।

৫. খাবার লবনে আয়োডিনের মাত্রা সঠিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

৬. গর্ভবতী নারীদের থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষা করে নিতে হবে।

৭. বিভিন্ন গণমাধ্যমে থাইরয়েড বিষয়ক তথ্য সম্প্রচার করতে হবে।

১০ থেকে ৩০ ভাগ লোকের এখনো আয়োডিনের অভাব রয়েছে। এটা সত্যিকার অর্থে চিন্তার বিষয়। থাইরয়েড নিয়ে অনেক কাজ করতে হবে। কোথায় আয়োডিন কম বেশি তা নিয়ে গবেষণা করতে হবে। থাইরয়েড সমস্যা প্রতিরোধের উপর জোর দিতে হবে।

বাংলাদেশে থাইরয়েড পরিস্থিতি

২৫ শে মে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস। অন্যন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশেও এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে। থাইরয়েড সর্ম্পকে ব্যাপক সচেতনতা প্রয়োজন। বিশেষ করে মেয়েদের থাইরয়েড সর্ম্পকে বেশি জানা প্রয়োজন। আমাদের ভবিষৎ প্রজন্ম একটি মেয়ের উপর নির্ভর করে।

প্রতিটি নারীর গর্ভাবস্থার আগে ও পরে থাইরয়েড পরীক্ষা করতে হবে থাইরয়েড সমস্যা থাকুক বা নাই থাকুক। নিজে থাইরয়েড সর্স্পক জানুন সুস্থ ও সুন্দর জীবন যাপন করুন।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে থাইরয়েড কি এবং থাইরয়েড কমানোর উপায় সর্ম্পকে আশা করি একটা ধারণা পাওয়া যাবে। যদি শরীরে থাইরয়েড এর কোন লক্ষন দেখা যায় দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারলে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এছাড়া রুটিন মাফিক জীবন যাপন করা সুস্বাথ্যের চাবিকাঠি।

বিঃদ্রঃ  এই ব্লগের কোন লেখায় তথ্যগত কোন ভুল থাকলে আমাদের Contact পেইজে সরাসরি যোগাযোগ করুন, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তথ্য যাচাই করে লেখা আপডেট করে দিবো।

ব্লগের কোন স্বাস্থ বিষয়ক পোস্টের পরামর্শ নিজের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের মতামত নিবেন, আমরা স্বাস্থ বিষয়ে কোন বিশেষজ্ঞ না, আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ হচ্ছে সঠিক তথ্য পরিবেশন করা। সুতারাং কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার অবশ্যই আমরা নিবো না। ধন্যবাদ, ব্লগ কর্তৃপক্ষ।

Author

You cannot copy content of this page