জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ ২০টি ভিটামিন এ জাতীয় খাবার কী কী

ভিটামিন এ জাতীয় খাবার

প্রতিটি মানুষের দেহের সুষ্ঠু বিকাশ নিশ্চিত করতে পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুষ্টিকর খাবার দেহের বৃদ্ধিতে যেমন সহায়তা করে, তেমনিভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। একারণে সবার মাথাতেই একটি প্রশ্ন ক্রমাগত ঘুরপাক খেতে থাকে, যেটি হলো কোন খাবারগুলো থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়া সম্ভব হবে৷ আজ কথা বলবো ভিটামিন এ নিয়ে। ভিটামিন এ হলো এমন একটি পুষ্টি উপাদান যেটি বিভিন্নভাবে আমাদের সুস্থতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। তাই প্রত্যেকের এ ভিটামিন সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন। আজকের লেখায় আমি এমন ২০ টি ভিটামিন এ জাতীয় খাবার নিয়ে বিস্তারিতভাবে সবাইকে জানাবো, যে খাবারগুলো খেলে খুব সহজেই দেহের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ এর চাহিদা পূরণ করতে পারবেন

ভিটামিন এ কী? 

ভিটামিন এ জাতীয় খাবার কোনগুলো সেটি জানার আগে আমাদের এই ভিটামিনটি সম্পর্কে জানতে হবে। শুরুতেই বলি,  ভিটামিন হলো খাবারের মধ্যে বিদ্যমান এমন একটি উপাদান যেটি পরিমাণে খুব কম উপস্থিত থাকলেও দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং পুষ্টি জোগাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। বৈশিষ্ট্য ও কার্যকারিতা ভেদে ভিটামিন বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। যেমনঃ ভিটামিন এ, বি,সি, ডি, ই ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিক ভাষায় এই ভিটামিনকে অর্গানিক ক্যাটালাইস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। 

ভিটামিন এ অথবা রেটিনল হলো এমন একটি ভিটামিন যেটি ফ্যাট বা চর্বিতে দ্রবণীয়। এটি আমাদের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে, হৃদপিণ্ড সচল রাখতে, ফুসফুস ও কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। শুধু তাই নয়, এ ভিটামিন কিন্তু মানবদেহে প্রজননের জন্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

ভিটামিন এ জাতীয় খাবার কেন দরকার?

চলুন এবার জেনে আসা যাক ঠিক কোন কোন কারণে একজন মানুষের প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন এ এর উপস্থিতি থাকা উচিৎ –

  • ভিটামিন এ দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে৷ এ ভিটামিনের প্রভাবে শ্লেষ্মাঝিল্লির পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং একইসাথে দেহের যে সাদা রক্তকোষগুলো রয়েছে সেগুলোর ক্রিয়াও বৃদ্ধি পায়। এর ফলে জীবাণু সহজে মানবদেহে প্রবেশ করেনা৷ সুতরাং দেহে বিভিন্ন রোগ সংক্রমণের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ভিটামিন জাতীয় খাবার গ্রহণ করা আবশ্যক। এর পাশাপাশি গবেষণায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত ভিটামিন এ বিদ্যমান এমন খাবার খেলে ক্যান্সার নামক দুরারোগ্য ব্যাধি হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।
  • দৃষ্টিশক্তি ছাড়া মানুষ স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারেনা। ভিটামিন এ মানুষের দৃষ্টিশক্তিকে প্রখর রাখতে সহায়তা করে। ভিটামিন এ জাতীয় খাবার প্রহণ করা না হলে দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যেতে শুরু করে। শুধু তাই নয়, অনেকসময় দেহে এ ভিটামিনের অভাব এতই প্রকট আকারে প্রকাশ পায় যে এর ফলে মানুষ রাতে কিংবা স্বল্প আলোতে ঠিকমতো দেখতে পায়না। চোখের এই গুরুতর সমস্যাটি রাতকানা রোগ নামে পরিচিত। এছাড়াও চোখের কোণায় স্পট বা দাগ দেখা দিতে পারে, কিংবা হতে পারে চোখের শুষ্কতা। এছাড়াও এ ভিটামিনের অভাব চোখের কর্নিয়ার ইনফেকশনের জন্য দায়ী। এই ইনফেকশন এত বেশি গুরুতর যে এই ইনফেকশনের কারণে আজীবনের জন্য কিছু রোগীকে অন্ধত্ব বরণ করে নিতে হয়৷ সুতরাং, নিজের চোখ ভালো রাখতে ভিটামিন এ যেসব খাবারে পাওয়া যায় সেগুলো নিয়ম করে গ্রহণ করা আবশ্যক। 
  • শুধুমাত্র চোখ নয়, ত্বকের সুরক্ষায়ও ভিটামিন এ এর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। আমরা সবাই চাই আমাদের ত্বক যেন ঠিক থাকে এবং ত্বকের আর্দ্রতা যেন বজায় থাকে। কিন্তু মাঝেমধ্যে দেখা যায় ত্বকের মসৃণ ভাব চলে যায়, বিভিন্ন ছোট ছোট গুঁড়ি কিংবা ফুসকুড়ি দেখা যায়। এ অবস্থা থেকে ত্বককে রক্ষা করার জন্য ভিটামিন এ জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে পরামর্শ দেয়া হয়। 
  • বয়স বাড়লে চেহারায় বয়সের ছাপ পড়াই স্বাভাবিক। কিন্তু ইদানিংকালে বিভিন্ন কারণে মানুষের চেহারায় বয়স হওয়ার আগেই বয়সের ছাপ পড়ে যাচ্ছে। এটিকে অকাল বার্ধক্য বলা হয়। বহুবিধ উপকারে সমৃদ্ধ একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো ভিটামিন এ, যা ত্বকের চামড়ায় বার্ধক্য প্রকাশের সম্ভাবনা হ্রাস করে। একারণে চেহারায় অকাল বার্ধক্যের ছাপ প্রতিরোধ করতে এই ভিটামিন যুক্ত খাবারের ভূমিকা অপরিসীম।
  • ভিটামিন এ মানুষের মস্তিষ্কের পরিপূর্ণ বৃদ্ধি ঘটাতে সহায়ক। এই ভিটামিন আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে দেয়, যা বুদ্ধিমত্তা বাড়িয়ে তোলে। তাই বিশেষত শিশু-কিশোরদের জন্য নিয়মিত ভিটামিন এ যুক্ত খাবার গ্রহণ করা খুবই প্রয়োজন। 
  • যখন নারীরা গর্ভধারণ করেন, তখন তাদের সন্তান যেন সঠিক সময়ে জন্মগ্রহণ করতে পারে এবং নবজাতকের জন্মের সময় যেন কোন প্রকার ত্রুটি না থাকে সেটি নিশ্চিত করে ভিটামিন এ। তাই গর্ভাবস্থায় সব ডাক্তারই নারীদেরকে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। 

সুতরাং বুঝতেই পারছেন, দেহের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং আমাদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে৷ 

২০ টি ভিটামিন এ জাতীয় খাবারঃ

অনেকে ভেবে থাকেন, দেহে ভিটামিন এ এর চাহিদা পূরণ করতে হলে হয়তো ভিটামিন ট্যাবলেট সেবন করতে হবে। আবার অনেকে এটিও মনে করেন, এই ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবারগুলো হয়তো স্বল্পমূল্যের খাবারের তালিকায় পড়েনা। অথচ আমাদের সবার পরিচিত স্বল্পমুল্যের এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলো ভিটামিন এ সমৃদ্ধ। 

কি? খাবারগুলোর নাম জানতে ইচ্ছা করছে তাইনা? তাহলে চলুন এবার আপনাদের জানাই ২০টি ভিটামিন এ জাতীয় খাবার সম্পর্কে। 

০১। মিষ্টি কুমড়া 

মিষ্টি কুমড়া আমাদের দেশের একটি অতি পরিচিত সবজি। গ্রামে-গঞ্জে ঘরের পাশের ফাঁকা জায়গায় অনেকেই এটির চাষ করেন। শহরের দিকে এটি চাষ করে খাওয়ার তেমন প্রচলন না থাকলেও এটির জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন অবকাশ নেই। ভিটামিন এ জাতীয় খাবার হিসেবে একদম শুরুর দিকেই নাম রয়েছে মিষ্টিকুমড়ার। বিশেষজ্ঞদের মতে, মিষ্টি কুমড়া থেকেই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ভিটামিন এ পাওয়া সম্ভব। তাই, যদি প্রতিদিনের খাদ্যাতালিকায় এটি রাখেন, তাহলে খুব সহজেই দেহে ভিটামিন এ এর চাহিদা পূরণ করতে পারবেন।বিশেষ করে যাদের দৃষ্টিশক্তিজনিত বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে, সেগুলো কমাতে এই সবজিটি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। ভিটামিন এ এর পাশাপাশি মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন। 

ভিটামিন এ জাতীয় খাবারঃ মিষ্টি কুমড়া 
ভিটামিন এ জাতীয় খাবারঃ মিষ্টি কুমড়া

০২। গাজর

মিষ্টি কুমড়ার পরেই যেটি নিয়ে বলবো, সেটি হলো গাজর। হালকা মিষ্টি স্বাদের এ সবজিটি খেতে পছন্দ করেননা এমন কাউকে খুঁজে বের করা বেশ কষ্টসাধ্য। মূলত শীতকালীন সবজি হলেও এটি এখন দেশের বাজারে সারাবছর পাওয়া যায়। একজন স্বাভাবিক মানুষের প্রতিদিন যে পরিমাণ ভিটামিন এ এর চাহিদা রয়েছে, একটি বড় আকারের গাজরে রয়েছে সে চাহিদার চাইতে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ভিটামিন। গাজরে বিদ্যমান বিটা ক্যারোটিনই মূলত পরবর্তীতে ভিটামিন এ তে পরিবর্তিত হয়। তাই নিয়মিত গাজর খাওয়ার অভ্যাস করলে দেহে ভিটামিন এ এর ঘাটতি দেখা দেয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। 

০৩। মিষ্টি আলু

শীতের দিনে মিষ্টি আলু খেতে তো সবাই কম-বেশি ভালোবাসেন। আমাদের সবার পরিচিত এবং অতি পছন্দের এই মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। ভিটামিন এ এর পাশাপাশি এতে ভিটামিন সি এবং বিটা ক্যারোটিনের উপস্থিতিও বিদ্যমান। বলিরেখা দূরীকরণেও এটি কার্যকরী। এর পাশাপাশি মিষ্টি আলু খেলে যাদের হৃদপিন্ডের সমস্যা রয়েছে তারাও উপকার পাবেন, কেননা এই আলুতে রয়েছে পটাশিয়াম যা হৃদরোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে কাজ করে। 

০৪। টমেটো

আমাদের প্রতিদিনের রান্নার একটি প্রয়োজনীয় সবজি হলো টমেটো। টমেটো যেমন সালাদ হিসেবে কাঁচা খাওয়া যায়, তেমনিভাবে রান্নার সময় খাবারের রং সুন্দর করতে এবং স্বাদ বহুগুণে বাড়িতে তুলতে টমেটোর জুড়ি মেলা ভার। সুস্বাদু এই সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। এটি মূলত শীতকালীন সবজি হলেও সারাবছরই বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। তাই দেহে ভিটামিন এ এর যোগান দিতে নিজের ইচ্ছামতো টমেটো খেতে কিন্তু কোন বাধা নেই।  

০৫। পালং শাক 

পালং শাক ভিটামিন এ এর খুব ভালো একটি উৎস। পালং শাক শ্বেত রক্তকণিকাকে স্বাভাবিক রাখে এবং ত্বকের শুষ্কতা প্রতিরোধ করে ত্বককে রাখে মসৃণ।এটি শুধুমাত্র বাংলাদেশেই নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশেও খুবই জনপ্রিয় একটি খাদ্য। খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু এই শাকটিতে আরো রয়েছে ভিটামিন সি, পাশাপাশি রয়েছে আয়রন এবং বিটা ক্যারোটিন। পালং শাকে ম্যাগনেশিয়াম রয়েছে বলে এটি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন এমন মানুষদের জন্য উপকারি। 

০৬। লেটুস পাতা 

বার্গারের ভেতর থেকে লেটুস পাতা উঁকি দিতে দেখলেও এটিতে যে ভিটামিন এ এর পরিমাণ কতটুকু বেশি সে ব্যাপারে অনেকেই অবগত নন৷ কাঁচা লেটুস পাতা দিয়ে সালাদ তৈরি করে খেলে তা থেকে অধিক পরিমাণে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। 

০৭। ক্যাপসিকাম 

ক্যাপসিকাম আমাদের দেশের মানুষের একটি পছন্দের সবজি। এটি মূলত লাল, সবুজ ও হলুদ রঙের হয় যা সালাদে কিংবা বিভিন্ন খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়৷ ভিটামিন এ তে পরিপূর্ণ ক্যাপসিকাম দেখতে যেমন নজরকাড়া, তেমনি স্বাদেও অতুলনীয়। 

ভিটামিন এ জাতীয় খাবারঃ ক্যাপসিকাম 
ভিটামিন এ জাতীয় খাবারঃ ক্যাপসিকাম

০৮। ব্রকলি

ফুলকপির মতো দেখতে অথচ সবুজ – বলুন তো কোন সবজির কথা বলছি? ঠিক ধরেছেন৷ বলছি শীতকালীন সবজি ব্রকলির কথা। সবুজ শাকসবজিতে ভিটামিন এ পাওয়া যায়, ব্রকলিও এর ব্যতিক্রম নয়৷ তাই শীতকালে বেশি করে ব্রকলি খেতে ভুলবেননা।

০৯। লাল মরিচ

লাল মরিচ খেতে ঝাল হলেও এতে রয়েছে ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। শুধু তাই নয়, বলা হয়ে থাকে, লাল মরিচ খেলে দেহের প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ এর চাহিদা অনেকাংশেই পূরণ হয়ে যায়। 

১০। পেঁপে 

পেঁপে আমাদের বেশিরভাগেরই একটি পছন্দের ফল। আমাদের দেশে অনেকের বাড়িতে পেঁপে গাছও দেখা যায়। দেহে ভিটামিন এ এর চাহিদা পূরণ করতে পেঁপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

১১। জাম্বুরা

আমাদের মধ্যে অনেকে জাম্বুরা এমনি খেতে কিংবা ভর্তা করে খেতে খুবই পছন্দ করি। কিন্তু অনেকেই জানিনা যে জাম্বুরা ভিটামিন এ সমৃদ্ধ একটি উল্লেখযোগ্য খাবার। তবে বলে রাখা ভালো, জাম্বুরায় কিন্তু ভিটামিন এ এর চাইতে ভিটামিন সি এর উপস্থিতি বেশি লক্ষ্যণীয়। 

১২। আম

গ্রীষ্মকালের কথা শুনলেই আমের নাম সবার আগে মাথায় আসে। খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু এই ফলটি কিন্তু পুষ্টিগুণের দিক থেকেও সমৃদ্ধ। আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ। তাই যখন বাজারে আম কিনতে পাওয়া যায়, তখন বেশি করে আম খেতে পারেন। 

১৩। মাখন

অনেকের সকালের নাস্তায় পাউরুটির ওপর মাখন লাগিয়ে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। শুধুমাত্র সকালের নাস্তাতেই নয়, বিভিন্ন রাজকীয় ও চাইনিজ খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে তুলতে রান্নার সময় মাখন ব্যবহারের প্রচলন বহু আগে থেকেই। সবার প্রিয় এই মাখন একটি ভিটামিন এ জাতীয় খাদ্য। 

১৪। দুধ

ছোট থেকে বড় প্রত্যেকের জন্য দুধ একটি উৎকৃষ্ট খাদ্য। নিয়মিত দুধ খেলে দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলোর যোগান পাওয়া সম্ভব হয়। এই গরুর দুধে রয়েছে ভিটামিন এ। তাই বাড়ির সবাইকে নিয়মিত দুধ পান করার অভ্যাস করতে হবে। 

১৫। কলিজা

যেকোনো প্রাণীর কলিজাই হতে ভিটামিন এ যুক্ত খাবারের একটি ভালো উৎস। তবে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে ভিটামিন এ পাওয়া সম্ভব হয় গরুর কলিজা থেকে। যদি আপনার বাড়িতে বাড়ন্ত শিশু থাকে, তাহলে দেহে ভিটামিন এ এর চাহিদা পূরণ করতে তাদের কলিজা খাওয়াতে ভুলবেননা। 

১৬। কড লিভার তেল

কড লিভার তেলের ব্যাপারে অনেকে না জানলেও এটিতে বিদ্যমান রয়েছে পর্যাপ্ত ভিটামিন এ। এই বিশেষ ধরণের তেলটি তৈরি করা হয় কড নামক মাছের লিভার থেকে৷ এই তেল থেকে তৈরি করা ক্যাপসুল ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেলে দেহে ভিটামিন এ এর ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। 

১৭। ডিম

খাবার হিসেবে ডিম বাঙালিদের কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। ডিম পোচ, অমলেট, কারিসহ অন্যান্য বিভিন্ন মজাদার পদ শোভা পায় আমাদের বাড়ির সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার কিংবা রাতের ডিনারে। যেহেতু ডিমে রয়েছে ভিটামিন এ, তাই যদি প্রতিদিন অন্তত একটি করে ডিম খাওয়ার অভ্যাস করেন, তাহলে অবশ্যই উপকৃত হবেন। 

১৮। টুনা মাছ

টুনা মাছ এমন একটি ভিটামিন এ জাতীয় খাবার, যেটি আগে অত বেশি পাওয়া না গেলেও বর্তমানে সুপারশপগুলোতে খুব সহজেই খুঁজে পাওয়া যায়। চাইলে টুনা মাছ রান্না করে খেতে পারেন, অথবা এ মাছ দিয়ে স্যান্ডউইচ কিংবা কাবাব বানিয়েও খেতে পারেন। 

ভিটামিন এ জাতীয় খাবারঃ টুনা মাছ 
ভিটামিন এ জাতীয় খাবারঃ টুনা মাছ

১৯। তেলযুক্ত মাছ

যেসব মাছে তেল রয়েছে সেগুলোকে বিশেষজ্ঞরা ভিটামিন এ এর উন্নতমানের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। তাই বাড়িতে তেল আছে এমন মাছ রান্না করার চেষ্টা করুন। এতে করে বাড়ির সবাই পুষ্টি পাবেন। 

২০। মাংস

যারা মাংস খেতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য সুখবর। মাংস ভিটামিন এ এর প্রাণীজ উৎস হিসেবে পরিচিত। তবে এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, কখনোই অধিক পরিমাণে মাংস খাবেননা। 

এটুকুই ছিলো ভিটামিন এ জাতীয় খাবার নিয়ে আজকের বিস্তারিত আলোচনা। আশা করি সবাই নিজেদের সাধ্যমতো এ খাবারগুলো খাওয়ার চেষ্টা করবেন যাতে করে দেহে ভিটামিন এ এর কোন ঘাটতি দেখা না দেয়! 

বিঃদ্রঃ 

এই ব্লগের প্রত্যেকটা ব্লগ পোস্ট Sylhetism ব্লগের নিজস্ব ডিজিটাল সম্পদ। কেউ ব্লগের কোন পোস্ট কিংবা আংশিক অংশ ব্লগের কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কপি পেস্ট করে অন্য কোথাও প্রকাশ করলে ব্লগ কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার অধিকার রাখে। এবং অবশ্যই কপিরাইট ক্লাইম করে যে মাধ্যমে এই ব্লগের পোস্ট প্রকাশ করা হবে সেখানেও কমপ্লেইন করা হবে।

ব্লগের কোন লেখায় তথ্যগত কোন ভুল থাকলে আমাদের Contact পেইজে সরাসরি যোগাযোগ করুণ, আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তথ্য যাচাই করে লেখা আপডেট করে দিবো।

এই ব্লগের কোন স্বাস্থ বিষয়ক পোস্টের পরামর্শ নিজের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞদের মতামত নিবেন, আমরা স্বাস্থ বিষয়ে কোন বিশেষজ্ঞ না, আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ হচ্ছে সঠিক তথ্য পরিবেশন করা। সুতারাং কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায়ভার অবশ্যই আমরা নিবো না।

ধন্যবাদ, ব্লগ কর্তৃপক্ষ।

Author

Leave a Comment

Your email address will not be published.

You cannot copy content of this page